kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অনভ্যস্ততা উতরে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ

নোমান মোহাম্মদ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অনভ্যস্ততা উতরে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ

ইডেন গার্ডেনসের ২৬ মার্চ থেকে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ২৫ সেপ্টেম্বর। ছয় মাস বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

তাতে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে এমন চ্যালেঞ্জ, যার মুখোমুখি টেস্ট যুগে কখনো হয়নি পূর্বসূরিরা। গত ১৬ বছরে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বড় বিরতি পড়েনি কখনো!

আজ থেকে শুরু হওয়া সিরিজে তাই আফগানিস্তান যত বড় প্রতিপক্ষ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনভ্যস্ততা এর চেয়ে কম নয়!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু ১৯৮৬ সাল থেকে। তখন খেলার সুযোগ মিলত কালেভদ্রে। এশিয়া কাপের জন্য কাক-প্রতীক্ষায় থাকতে হতো বাংলাদেশকে। বছর দুয়েকের বিরতি অমন কোনো বড় ব্যাপার ছিল না। কিন্তু ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর টেস্ট পথচলা শুরুর পর পাল্টে যায় ছবিটা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কমবেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে দল। ভারতের বিপক্ষে ওই টেস্ট থেকে ধরলে টেস্ট-ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি সিরিজ, বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপসহ সব ধরনের টুর্নামেন্ট হিসাব করলে মোট ১৫২টি আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতায় মাঠে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সর্বশেষ ছয় মাসে যত আলসে সময় কাটায়, অমন অন্তত আগে কখনো হয়নি।

এর আগের সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি ২০০২ সালে। ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের সর্বশেষটি। এরপর ২১ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে। মাসের সংখ্যায় ছাড়াতে না পারলেও দিনের সংখ্যায় ওই বিরতি ছাড়িয়ে গেছে এবার। আর যদি হিসাব হয় ওয়ানডের, তাহলে তাতে আশঙ্কার উপকরণ আরো বেশি। গত বছরের ১১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে। সাড়ে ১০ মাস পর আজ তাই আবার ওয়ানডে খেলতে নামছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

সব ধরনের ফরম্যাটে যেমন এত দীর্ঘ বিরতি পড়েনি, ওয়ানডেতেও তাই। আজ তাই সতর্ক না হয়ে মাঠে না নেমে উপায় নেই বাংলাদেশের।

সাড়ে ১০ মাস না হলেও ওয়ানডেতে লম্বা বিরতি নিয়ে মাঠে নামার উদাহরণ রয়েছে। অনেক দিন অনভ্যস্ততার পর মাঠে নেমে সব সময় যে খুব জড়োসড়ো ছিল বাংলাদেশ, তা নয়। ২০০১ সালের ১১ এপ্রিল বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর আবার ওয়ানডে খেলতে নামে সাত মাস পর। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চট্টগ্রামে শুরু পাঁচ উইকেটের হার দিয়ে। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় হারে। আগস্টে ওয়ানডে প্রত্যাবর্তনে শ্রীলঙ্কায় গিয়েও তাই। ২০০৫ সালে সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে হারের পর আবার নির্বাসন। ২০০৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে ওয়ানডে ফরম্যাটে ফেরা। তাতে প্রথম ম্যাচ হারলেও বগুড়ায় দ্বিতীয় খেলাতে জয় পায় বাংলাদেশ। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টি চাট্টিখানি ব্যাপার ছিল না।

পরের বিরতির পরের অর্জন আরো বড়। ২০০৯ সালে জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। ছয় মাস পর জুুলাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজেও জয়। না হয় তা ছিল ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় সারির দল। কিন্তু অত দিন পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ৫২ রান, তিন উইকেট ও তিন উইকেট ব্যবধানে তিন ম্যাচ জেতা অবশ্যই কৃতিত্বের। ২০১২ সালের মার্চে হিরণ্ময় সেই এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হারে স্বাগতিকরা। আট মাস পর ওয়ানডে খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ফেরাটা জয় দিয়েই; সিরিজও জেতে ৩-২ ব্যবধানে।

এবার সাড়ে ১০ মাসের বিরতি থাকলেও প্রতিপক্ষ জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না মাশরাফির দল। যদিও অনেক দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকাটা মাথায় রাখছেন অধিনায়ক, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। বিশেষ করে আমরা শেষ এক বছর কোনো ম্যাচ খেলিনি। এখন আমরা সিরিজে নামছি। এ জায়গা থেকেই এ সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ’ তবে এই চিন্তা যে দুশ্চিন্তা না, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। মাশরাফি বরং চিন্তাকে প্রবাহিত করতে চান ইতিবাচক ধারায়, ‘কাল আমরা কী করব, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। খারাপ খেললে আমরা হারব এটা নিশ্চিত। আমরা তা নিয়ে ভাবছি না। আমি মনে করি চিন্তা করা খুব ভালো। চিন্তা থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করতে আরো সাহায্য করে। ’

হ্যাঁ, এই বাংলাদেশ তো আর আগের দলগুলোর মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নড়বড়ে নয়। গত বছর দুয়েকে বরং অনেক প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে তারা। টেস্ট যুগে সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি, সবচেয়ে দীর্ঘ ওয়ানডে বিরতি সত্ত্বেও তাই এই বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখা যায়।

সে আস্থার প্রতিদান দেওয়ার দায় এখন বাংলাদেশের!


মন্তব্য