kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তামিমের চোখে গুরুত্বপূর্ণ আফগান সিরিজও

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তামিমের চোখে গুরুত্বপূর্ণ আফগান সিরিজও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হতাশার কালো কালিতে লেখা ফতুল্লার সেই ম্যাচটার খেলোয়াড় তালিকায় তামিম ইকবালের নাম নেই। চোটের কারণে খেলা হয়নি এশিয়া কাপের ২০১৪ সালের সংস্করণে।

দূর থেকেই দেখেছেন ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশকে হারতে। এরপর বিশ্ব টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপ মিলিয়ে আফগানদের সঙ্গে যে দুইবার দেখা হয়েছে বাংলাদেশের, তাতে আফগানরা আর জিততে পারেনি। তাহলে কি তামিম না থাকাতেই সেদিন...? দূর অতীতের হিসাব মিলিয়ে লাভ নেই বরং চোখ ঘোরানো যাক নিকট ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আফগানদের সঙ্গে ৩ ওয়ানডের সিরিজ। তাতে তামিম খেলছেন, আঙুলের চোটের কারণে যে শঙ্কার মেঘটা তৈরি হয়েছিল সেটা কেটে গিয়ে এখন শরতের মিঠেকড়া রোদ। মিরপুরের ইনডোর থেকে ব্যাটিং অনুশীলন সেরে এসে জানালেন, আঙুল নিয়ে আর কোনো চিন্তা নেই। ব্যাটিংটা হচ্ছে ঠিকঠাক। এই খবরটাই যে অগুনতি ভক্তের মনে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দেবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই!

নিজেদের ভেতর দল ভাগ করে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচ কিংবা অনুশীলন; ব্যাট ধরতে সমস্যা হচ্ছে না তামিম ইকবালের। হাসিমুখেই জানালেন, ‘খুব ভালো রিকভার করেছি, এখন ওরকম কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ঠিকমতো ব্যাটিং করছি, সবই ঠিকঠাক হচ্ছে। আশা করছি আরো এক-দুই দিনে আরো ভালো অবস্থায় থাকব। আঙুল নিয়ে আর চিন্তা করছি না। এখন শুধুই খেলা নিয়ে চিন্তা। ’ খেলা নিয়ে চিন্তাটা অবশ্য হওয়ারই কথা! হোম অব ক্রিকেটে রোজকার অনুশীলন আর ক্লাব ক্রিকেটের ম্যাচ তো গত কয়েক মাসে খেলা হয়েছে ঠিকই কিন্তু ওয়ানডে ম্যাচ শেষ খেলেছেন তো সেই গত বছরের নভেম্বরে! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ধাক্কায় এশিয়া কাপও কুড়ি ওভারের সংস্করণে বদলে যাওয়াতে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলার দীর্ঘবিরতি। যে ‘শীতঘুম’ থেকে জেগে উঠে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন তামিমও, ‘অনেক দিন পর কোনো ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। গত দুই মাস আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি তাতে চেষ্টা করেছি সব ঘাটতি পুষিয়ে নিতে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুশীলনে আমরা যা করেছি, মাঠে সেটা করে দেখানো। ’

আফগানিস্তানের কাছে এশিয়া কাপে হারের প্রসঙ্গ আসতেই তামিম সাফ জানিয়ে দিলেন ‘আমি আসলে প্রতিশোধ বা এরকম কোনো ব্যাপার আসলে মনে রাখি না। আমি সব সময়ই বলি, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানই হোক আর যে-ই হোক ক্রিকেটে জিততে হলে নিজেদের ভালো খেলতে হবে। মাঠে যে দল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ভালো করবে, তারাই জিতবে। আফগানিস্তান বা কোনো দলকেই আমরা খাটো করে দেখি না। ’

অনেকের চোখেই হয়তো এই সিরিজটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার মঞ্চ। তবে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক তামিম সেটা একদমই মনে করেন না, ‘আমি মনে করি না এটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগের প্রস্তুতির সিরিজ। এটাও ইংল্যান্ড সিরিজের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডকে যে মর্যাদা দেব, আফগানিস্তানকেও তাই দিচ্ছি। ততটা গুরুত্ব দিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই তিনটা ম্যাচের পর বড় সিরিজ আছে, এরকম কোনো ভাবনা দলে নেই। ’ স্বপ্নের মতো কাটানো ২০১৫ বিশ্বকাপের শুরুটাও ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয় দিয়ে। শুরুতে একটু কোণঠাসা বাংলাদেশ ঠিকই ফিরে পায় আত্মবিশ্বাসের ঝলক। তামিম মনে করেন, সেইসব দিন পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত, ‘আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে ওই দলের সঙ্গে এখনকার দলের পার্থক্য অনেক। কারণ বিশ্বকাপের পর তো আমরা বড় দলের বিপক্ষে বেশ কিছু সিরিজ জিতেছি। তবে প্রথম ম্যাচটা যেকোনো সিরিজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা থাকবে প্রথম ম্যাচে সবগুলো কাজ যেন ঠিকভাবে করতে পারি, এরপর সামনের দিকে তাকাব। ’

কাজগুলো ঠিকমতো না হলে কী হতে পারে, তার একটা বার্তা বোধহয় পেয়ে গেছেন তামিম। ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশকে হারিয়ে দিয়েছে আফগানরা। তামিম যেন নিজেই সতর্ক করলেন নিজেকে, ‘একটু আলসেমি, একটু অবহেলা যদি থাকে তাহলে আফগানিস্তান আমাদের কামড়ে দিতে পারে। আমরা চেষ্টা করব সেই সুযোগ না দিতে। ’ সেটা হলেই কিন্তু র্যাংকিং পয়েন্ট কমে যাওয়া, ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন—অনেক কিছুই চলে আসবে আলোচনায়!


মন্তব্য