kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কন্ডিশনকে ওরা নিজেদের উপযোগী ভাবছে

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কন্ডিশনকে ওরা নিজেদের উপযোগী ভাবছে

মোসাদ্দেকের ৭৬ রান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঠিক আড়াই বছর আগের এক রাতে এই ফতুল্লাতে বসেই নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়েছিলেন মিরওয়াইজ আশরাফরা। এই মাঠেই এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর কীর্তি এখনো রোমাঞ্চিত করে আফগান অলরাউন্ডারকে।

গতকাল বিকেলে একই মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশকে হারানোর আনন্দেও মিশে ছিল সেই পুরনো গৌরব, ‘ওই ম্যাচে খেলা আমরা সবাই তো ইতিহাসেরই অংশ। ’

কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশা নিশ্চয়ই আফগানদের মনে আছে। তবে সেটির প্রকাশ নেই সম্ভবত সেই বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশের পার্থক্যটা তাঁরা নিজেরাও বুঝতে পারছে বলে। প্রস্তুতি ম্যাচের পর একাধিক প্রশ্নেও সেরকম কোনো আলোচনায় তাই টেনে নেওয়া গেল না আফগান পেস আক্রমণের এই সিনিয়র সদস্যকে। বিসিবি একাদশকে কঠিন সময় উপহার দিয়ে প্রস্তুতি সারতে পেরেই খুশি মিরওয়াইজকে অবশ্য উচ্ছ্বসিত শোনাচ্ছিল তাঁর দলের দুই তরুণ পেসারকে নিয়ে। সেই দুজন ফরিদ আহমেদ এবং করিম জানাত স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের শুরুতে কিছুটা সমস্যায় ফেলতে পেরেছেনও। তাঁদের নিয়েই মিরওয়াইজ বলছিলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসা এই দুই তরুণ বোলারই দুদিকে বল সুইং করাতে জানে। ওদের দুজনেরই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা প্রাপ্য ছিল। ’

অবশ্য এটিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে তাঁদের বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশের কন্ডিশনের পক্ষে ভীষণ উপযোগী। বিশেষ করে নিজেদের বোলিং বৈচিত্র্য নিয়েও খুব উচ্চকিত ছিলেন তিনি, ‘আমাদের বোলিংটা কিন্তু বেশ জমাট। পেস অ্যাটাকের সঙ্গে আমাদের কত্ত রকমের স্পিনার আছে! বাঁহাতি স্পিনার, অফব্রেক বোলার এবং লেগস্পিনার। সামনের ম্যাচগুলো বাংলাদেশের জন্য তাই কঠিনই হবে। ’ এঁদের মধ্যে সিরিজপূর্ব আলোচনায় একটু বেশিই ঠাঁই পেয়েছেন আফগান লেগস্পিনাররা। তিনজন লেগস্পিনার নিয়ে আসা আফগানরা কাল প্রস্তুতি ম্যাচে খেলিয়েছে দুজনকে। মনে করা হচ্ছে এই লেগস্পিনাররাই বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

তবে তাঁরা আসলেও কতটা হুমকি হয়ে উঠতে পারবেন, সে বিষয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের চেয়ে ভালো ধারণা আর কে দিতে পারবেন। ওয়ানডে সিরিজের দলে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচে উইকেটে যথেষ্ট সময় তো পার করেছেন কেবল তিনিই। ৭৬ রানের ইনিংস খেলা তরুণ মোসাদ্দেক খেলেছেন দুই আফগান লেগস্পিনারকেই। রহমত শাহকেও ভালোভাবে সামলানো মোসাদ্দেক চড়াও হয়েছিলেন রশীদ খানের ওপরও। দু-দুটো ছক্কাও মেরেছেন তাঁকে। সেই তিনি দুই আফগান লেগস্পিনারকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বললেন, ‘ওদের লেগস্পিনারদের মধ্যে রশীদকে খেলাই একটু কঠিন মনে হয়েছে। খুব ভালো জায়গায় বল করে। আরেকজন যে খেলেছে, তাঁকে অত আহামরি কিছু মনে হয়নি। কিন্তু রশীদের গুগলিটা বেশ ভালো। বলে বেশ বৈচিত্র্যও আছে। ’ শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে না পারলেও মোসাদ্দেক চেয়েছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পেলে একজন খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাসটাই অন্য রকম থাকে। আমারও তেমনই ছিল। চাচ্ছিলাম প্রমাণ করতে কেন আমি জাতীয় দলে। তাই শেষ পর্যন্ত খেলার চেষ্টাই করছিলাম কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা পারিনি। আর আজকের উইকেটটাও একটু কঠিন ছিল। নিচু বাউন্সের উইকেটে টার্নও ছিল। ’ সেই টার্ন দেখেই মিরওয়াইজ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, ‘আমাদের স্পিনারদের জন্য তো বাংলাদেশের উইকেট দারুণ উপযোগী। ’


মন্তব্য