kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল আফগানিস্তান

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল আফগানিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও সাত সকালে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের অদূরে অস্থায়ী টিকিট কাউন্টারের সামনের দীর্ঘ লাইনই ধারণা দিচ্ছিল যে আসল লড়াইয়ের সময় দর্শক আগ্রহ কতটা তুঙ্গে পৌঁছাতে পারে। অবশ্য এই ম্যাচটি থেকে আফগানিস্তান এই ধারণাও দিয়ে রাখতে চাইল যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তারা।

না হলে ফতুল্লার নিচু বাউন্সের উইকেটে আফগানদের সামনে বিসিবি একাদশ উড়ে যায় কী করে! ২৩৩ তাড়া করতে নেমে ৬৬ রানের হার তো উড়ে যাওয়াই।

অথচ বিসিবি একাদশ দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের অভাব ছিল না। আর প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ব্যাটসম্যান যথাসম্ভব বাড়িয়ে ব্যাটিং করার স্বাধীনতাও ছিল। তাই একেবারে ৯ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান। তবু শুরু থেকেই চাপে থাকা বিসিবি একাদশ মাঝখানে মোসাদ্দেক হোসেন আর শুভাগত হোমের ব্যাটে জয়ের ঝিলিক দেখলেও শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণের ভাগ্যটা বদলাতে পারেনি। বদলাতে না পারার কারণ আফগান স্পিন অ্যাটাক মূল সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানোর বার্তাও দিয়ে রাখল এই ম্যাচ থেকে।

অবশ্য আফগান স্পিনাররাই শুধু বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলেছেন বললে ভুল হবে। বরং রান তাড়ার শুরুতে স্বাগতিকদের কোণঠাসা করার শুরুটা আফগান পেসারদেরই কৃতিত্ব। বাংলাদেশের হয়ে নিজের সবশেষ খেলা ওয়ানডেতেও ফিফটি করা ইমরুল কায়েস আছেন এই সিরিজের দলেও। এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে একটু ঝালিয়ে দেখার সুযোগটি তিনি নিতে পারেননি। চতুর্থ ওভারেই ফাস্ট বোলার করিম জানাতের বলে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার (৮)। পরের ওভারে বাঁহাতি পেসার ফরিদ আহমেদকে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দিয়ে এসেছেন আরেক ওপেনার এনামুল হকও (৫)।

১৫ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পেছনে লম্বা ব্যাটিং লাইন থাকায় পরিস্থিতি শিউরে ওঠার মতো ছিল না। কিন্তু বেশ জোরেই বল করতে জানা ফরিদের সঠিক লাইন ও লেন্থ সমস্যা বাড়িয়ে তোলে স্বাগতিকদের। কারণ তাঁর বলেই ফ্লিক করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আসেন জাতীয় দলের সাব্বির রহমান (৯)। ২৩ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে বসার সমস্যা আরো গভীরে যায় ৩৯ রানে লিটন দাসের (৬) বিদায়ে। তাঁকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেই দৃশ্যপটে আবির্ভূত মোহাম্মদ নবীই মূলত ম্যাচ ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রেখেছেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা।

পেসার আলাউদ্দিন বাবু (৩/৩২) ও মেহেদি হাসান মিরাজের (৩/৪৮) অফস্পিনে ৪ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যাওয়া আফগান ব্যাটিংকে যদি পথ দেখিয়ে থাকেন হাসমতউল্লাহ শহিদী (৬৯), তাহলে বোলিংয়ে সেটি করেছেন নবী। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে এই ফতুল্লাতেই বাংলাদেশকে হারিয়ে আফগানরা রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল তাঁর নেতৃত্বেই। সময়ে অধিনায়কত্ব গেলেও অফস্পিনের ধারটা যায়নি তাঁর। ২৪ রানে ৪ উইকেট নেওয়াটা সে কথাই বলে। অবশ্য সিরিজপূর্ব আলোচনায় এই আফগান দলের যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বেশি, সেই লেগস্পিনেও স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানদের সমীহ আদায় করে নিয়েছেন রশীদ খান।

যদিও এই লেগিকেও ওয়াইডিশ লংঅনের ওপর দিয়ে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকানো মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটিংয়ের সময় বিসিবি একাদশের জয়ের সম্ভাবনাই জোরালো ছিল। রানআউট হওয়া মিরাজকে (১৫) নিয়ে তাঁর ৫৬ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ছিল বিপর্যয় সামাল দেওয়ার। আর শুভাগত হোমকে (৩৪) নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৬০ রানের পার্টনারশিপের সময় তো বিসিবি একাদশের জয়কে কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। ততক্ষণে ফিফটি করে ফেলা মোসাদ্দেকও একটু মেরে খেলা শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু ৩৪তম ওভারে নবী তাঁকে বোল্ড করে দিতেই যেন থমকে যায় স্বাগতিকরা। ৯৭ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংস খেলা মোসাদ্দেকের বিদায় ম্যাচের গন্তব্যও ঠিক করে দিয়ে যায় একরকম। কারণ তাঁর বিদায়ের পর আর মাত্র ১৩ রান যোগ করেই যে অলআউট বিসিবি একাদশ!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আফগানিস্তান ৪৯.২ ওভারে ২৩৩ (হাসমতউল্লাহ ৬৯, মিরওয়াইজ ৩২, আসগর ৩১, রশীদ ৩০; আলাউদ্দিন ৩/৩২, মিরাজ ৩/৪৮, আবু হায়দার ২/২২, শুভাশিষ ২/৪৪)। বিসিবি একাদশ ৩৮.১ ওভারে ১৬৭ (মোসাদ্দেক ৭৬, শুভাগত ৩৪; নবী ৪/২৪, ফরিদ ২/১৯, রশীদ ২/২৫)। ফল : আফগানিস্তান ৬৬ রানে জয়ী।


মন্তব্য