kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

অপেক্ষা : নির্বাচকরা দলে একটা জায়গা বরাদ্দ রেখেছেন তাঁর জন্য। তবু অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাসকিন আহমেদকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে এখনো বোলিং অ্যাকশনের ছাড়পত্র আসেনি বলে। তবে থেমে নেই তাঁর প্রস্তুতি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এত দিন খেলা ছিল না। তাই এটা নিয়ে হাহাকারের অন্তও ছিল না।

তবে এখন থেকে সামনে শুধুই খেলা আর খেলা। কিন্তু এতেও আবার নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

 

দুয়েমিলে এই সিদ্ধান্তে তাই পৌঁছাতেই হয় যে বাংলাদেশের খেলা না থাকলেও সমস্যা, আবার থাকলেও! না থাকাটা অনভ্যাস ঝেড়ে ফেলে চেনা ছন্দে ফেরার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখে। আবার থাকলেও সেটি টানা খেলার ঝক্কি এড়ানোর চ্যালেঞ্জও কম জানিয়ে রাখে না।

 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ ঠাসা সূচির শুরু মাত্র। এই যে শুরু হয়ে যাচ্ছে, সম্ভবত ২০১৭ জুড়েও দম ফেলার ফুরসত খুব একটা মিলবে না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। বিশেষ করে যাঁরা তিন ফরম্যাটেই দলে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করে ফেলেছেন। এখন শুরু হয়ে আগামী বছরের প্রায় শেষ পর্যন্ত একের পর এক দ্বিপক্ষীয় সিরিজের মাঝখানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বহুজাতিক আসরেও অংশ নিতে হবে বাংলাদেশকে। তাই সামনের বছরখানেক নির্বাচকদেরও ব্যস্ততার শেষ নেই। কিন্তু তাঁদের কাজ তো দল গড়া পর্যন্তই শেষ। টানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ধকলের পুরোটাই যাবে ক্রিকেটারদের ওপর দিয়ে। তাই আগাম এ ব্যাপারটিও ভেবে রাখতে হচ্ছে নির্বাচকদের। গতকাল আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনও টানা খেলার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথাই সবার আগে তুললেন, ‘সামনে আমাদের যে হারে একের পর এক সিরিজ, তাতে তো দেখছি খেলোয়াড়দের সুস্থ রাখাই বিরাট মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। ’

এমন নয় যে অন্যান্য দলকেও এমন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। এই সময়টায় ‘বার্ন আউট’ শব্দটিও খুব উচ্চারিত হয়। টানা খেলার শারীরিক ও মানসিক ধকল ক্রিকেটারদের প্রাণশক্তি এমন শুষে নেয় যে কখনো কখনো সেই চাপে অনেকে ভেঙেও পড়েন। সেই সঙ্গে চোট-আঘাতে পড়ার ভীতি তো আছেই। এসব ক্ষেত্রে তাই অনেক দলই ‘রোটেশন পলিসি’ গ্রহণ করে থাকে। অর্থাৎ খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর নীতি গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে ঝরঝরে রাখার চেষ্টাও করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী করবে? এখনো সমাধান বেরোয়নি তবে সেটি বের করার আলোচনা নির্বাচকদের টেবিলে হয়েছে বলেই নিশ্চিত করলেন মিনহাজুল, ‘এটা এমন একটি ব্যাপার যে আলোচনায় আসতে বাধ্যও। আমরা নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে কথাও বলেছি। অতগুলো সিরিজের জন্য ক্রিকেটারদের ফিট রাখার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ’

শুধু যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরই চাপ, তা নয়। আফগানিস্তানের পর ইংল্যান্ড সিরিজ শেষ হতে না হতেই তো শুরু হয়ে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও (বিপিএল)। সাকিব আল হাসান এবং মুস্তাফিজুর রহমান তো বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি আসরেও নিয়মিত। তাঁদের জন্য তাই সেখানেও খেলতে যাওয়ার ডাক আসা স্বাভাবিক। আর নিজেদের আসর বিপিএল শেষ হওয়া মাত্রই ছুটতে হবে অস্ট্রেলিয়ায়। ডিসেম্বরে সিডনিতে দিন দশেকের অনুশীলন সূচিতে আছে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও। এরপর গন্তব্য নিউজিল্যান্ড, যেখানে সফরই শেষ হওয়ার কথা ২৪ জানুয়ারি। দেশে ফিরে ভারতে ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট সফর ফেব্রুয়ারিতে। ফিরেই বাংলাদেশ দলকে আবার তৈরি হতে হবে মার্চ-এপ্রিলের শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য। জুনে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে খেলতে যাবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। যে সিরিজের তৃতীয় দল নিউজিল্যান্ড। এরপর পর পর বাংলাদেশে এসে সিরিজ খেলার কথা আছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার। ওই দুটি সিরিজ শেষে আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশের যাওয়ার কথা দক্ষিণ আফ্রিকা। অর্থাৎ আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এক ক্রিকেট বছরই শুরু করতে চলেছে বাংলাদেশ। যা না খেলার হাহাকার মুছে দিয়ে টানা খেলার ধকলজনিত আশঙ্কার মেঘই জমাচ্ছে!


মন্তব্য