kalerkantho

রবিবার । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৭ ফাল্গুন ১৪২৩। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আল-আমিন নেই, কোনো সদুত্তরও নেই

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আল-আমিন নেই, কোনো সদুত্তরও নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাকি দুজনের একজন হয়ে কত কত জাতীয় দল ঘোষণায় ছিলেন! কিন্তু সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মধ্যমণি হওয়া হয়নি মিনহাজুল আবেদীনের। কাল অবশেষে প্রধান নির্বাচক হিসেবে প্রথম দল ঘোষণা করেন। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের সেই স্কোয়াড নিয়ে বিতর্ক ছড়াল ওই মধ্যদুপুরেই।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আল-আমিন হোসেন। তাঁকে না নেওয়ার কারণ হিসেবে মিনহাজুলের ব্যাখ্যা, ‘ওর ব্যাপারে কিছু নেতিবাচক কথা এসেছে। ’ পরে সম্প্রসারিত ব্যাখ্যায় ফিটনেস-ফিল্ডিং এমন নানা কথা বলেন বটে প্রধান নির্বাচক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সে তো আল-আমিন ঢের এগিয়ে! তাঁর ব্যাপারে ‘নেতিবাচক’ কথা আসাকেই তাই বাদ পড়ার আসল কারণ বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক।

 

‘আল-আমিন ও শফিউলকে নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ফিটনেস এবং অন্যান্য সব কিছু নিয়ে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে শফিউলকে নিয়েছি। তবে আমাদের সামনে আরো খেলা আছে, আল-আমিনকে ফেরানো হতে পারে। এমন না যে ও একদম বিবেচনার বাইরে চলে গেছে’—প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল বলেছেন এমনটা। তবে এই আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের শুরুতে আল-আমিনের বিবেচনার বাইরে চলে যাওয়া কিছুটা বিস্ময়কর। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে শৃঙ্খলাজনিত কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এই পেসারকে। বেশ কিছুদিন ব্রাত্য থাকার পর ফেরেন নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে। সেখানে তিন ওয়ানডেতে নেন ৪ উইকেট। এরপর তো টি-টোয়েন্টি ছাড়া আর কোনো ফরম্যাটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি বাংলাদেশ। এই সময়ে বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ উইকেট আল-আমিনের। ১৬ ম্যাচে তাঁর ২৭ উইকেট; গড় ১৩.৮৫, ইকোনমি ৭.৫। দ্বিতীয়তে থাকা সাকিব আল হাসানের উইকেটসংখ্যা ২০। আবার সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ১৬ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন আল-আমিন। তাঁকে টপকে সুযোগ পাওয়া শফিউলের ১০ ম্যাচে ১১ উইকেট।

প্রশ্ন ওঠা তাই স্বাভাবিক। নেতিবাচকতার ব্যাখ্যায় আল-আমিনকে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের অপছন্দের গুঞ্জনের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয় প্রধান নির্বাচকদের। উত্তরে অবশ্য ‘ডাক’ করেন মিনহাজুল, ‘আল-আমিনকে না নেওয়ার ব্যাপার কোচের পছন্দ-অছন্দের কিছু নেই। যদি আল-আমিন ও শফিউলের ফিল্ডিং দেখেন, তাহলেই পার্থক্যটা চোখে পড়বে। বোলিংয়ে শফিউল অনেক অভিজ্ঞ। তাকে নেওয়ার ব্যাপারে নির্বাচন পদ্ধতিতে থাকা সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আর কন্ডিশনিং ক্যাম্পে শফিউল খুব উন্নতি করেছে। ’

দুই বছর আগে জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন পেসার শফিউল। ২০১৫ বিশ্বকাপে আল-আমিনের বদলি হিসেবে গেলেও মাঠে নামতে পারেননি। অন্যদিকে মোসাদ্দেক হোসেন এই প্রথম ডাক পেলেন ওয়ানডে স্কোয়াডে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য খেলেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে মোসাদ্দেকের এই ডাক পাওয়া বলে জানান মিনহাজুল, ‘মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করেছে। গত দুই বছর খেলেছে ভালো। ভালো খেলেছে প্রিমিয়ার লিগেও। আমরা মনে করি, জাতীয় দলের জন্য সে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে। ’

বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছে গত বছরের নভেম্বরে। সেবারের স্কোয়াডে থেকে বাদ পড়েন আল-আমিন, লিটন দাশ, কামরুল ইসলাম, এনামুল হক, আরাফাত সানি ও জুবায়ের হোসেন। ইনজুরির কারণে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। এবার নতুন করে আসা মোসাদ্দেকের পাশাপাশি প্রত্যাবর্তন শফিউল, রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলামের। প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে ১৩ সদস্যের। আরেকটি জায়গা যে তাসকিন আহমেদের জন্য রাখা, তা স্পষ্ট করেই বলেন প্রধান নির্বাচক, ‘ওর বোলিং পরীক্ষার ফলাফল এখনো আইসিসি থেকে আসেনি। ফল ইতিবাচক হলে ১৩ জনের দলে ও যোগ হয়ে যাবে। হোম সিরিজ বলে আমরা যেকোনো সময় যে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। ’ আর ফল ইতিবাচক না হলে? মিনহাজুল খুলে রাখেন টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনার দরজা, ‘নতুন কাউকে নেব কি না, তা তখন টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করব। ’

দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে ওই টিম ম্যানেজমেন্টের প্রসঙ্গ বারবার টেনে আনেন প্রধান নির্বাচক। আল-আমিনের ব্যাপারে ‘নেতিবাচক’ কথাও যে ওখান থেকে এসেছে, তা আর বোঝার বাকি থাকে না।


মন্তব্য