kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ বরখাস্ত

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ বরখাস্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জেবি প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ এখনো মাঝপথেও আসেনি, শুরু হয়ে গেছে কোচের চাকরি যাওয়া। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র থেকে মারুফুল হকের বিদায়ের পর কাল যোশেফ পাভলিকের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে।

কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই আরামবাগ ক্রীড়াসংঘের সঙ্গে ড্র করার পরই চাকরি গেছে এই স্লোভাক ফুটবল কোচের।

 

লিগের শুরুতে চট্টগ্রাম আবাহনীর দারুণ পারফরম্যান্স ছিল। দুরন্ত গতি আর কোচের কৌশলের সম্মিলনে ভালো ফুটবলই খেলছিল। কিন্তু গত দুটি ম্যাচে, বিশেষ করে ১৯ আগস্ট রহমতগঞ্জের কাছে হার এবং পরশু আরামবাগের সঙ্গে ড্রয়ে দলের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়। পরিশেষে তারই বলি হয়েছেন যোশেফ পাভলিক। চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার শাকিল মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘দলটার সামর্থ্য থাকার পরও ভালো খেলতে পারছে না, পয়েন্ট হারাচ্ছে ছোট দলের কাছে। আরামবাগের সঙ্গে ড্র ম্যাচে মাঠে হাজির ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে যোশেফকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ’ আরামবাগের বিপক্ষে মাঠে হাজির ছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চৌধুরী। এই ড্র তিনি মানতে পারেননি। যদিও বন্দরনগরীর দলটি ১২ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে ভালোভাবে। মাত্র ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে শীর্ষ দল শেখ জামাল ধানমণ্ডির চেয়ে। তাই কোচ বিদায়ের সিদ্ধান্ত কি একটু তাড়াতাড়িই হয়ে গেল? যোশেফের সহকারী হাসান আল মামুনও কিছুটা বিস্মিত, ‘এটা তো ভরাডুবি নয় যে সব শেষ হয়ে গেছে। পয়েন্ট হারানোর পরও চট্টগ্রাম আবাহনী খুব ভালোভাবে শিরোপার দৌড়ে আছে। তাই হুট করে ক্লাব ম্যানেজমেন্টের এমন সিদ্ধান্তে আমিও বিস্মিত হয়েছি। ’

সিদ্ধান্ত হঠাৎ হলেও দলের খেলোয়াড়দের একাংশ কোচের ওপর অখুশি ছিলেন শুরু থেকেই। তাঁদের অভিযোগ ছিল, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কম পছন্দ করেন যোশেফ। কয়েকজনকে একাদশের বাইরে রাখেন। স্লোভাক কোচ যোশেফ পাভলিকের যুক্তি হলো, ‘দলে আমার প্রিয়-অপ্রিয় কোনো খেলোয়াড় নেই, সবাই আমার খেলোয়াড়। আমার কাছে তারকা বড় কথা নয়, ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলার ফিটনেস জরুরি। সেটা যাদের থাকে তাদেরই আমি একাদশে নিই। এটা যদি আমার ভুল হয়ে থাকে, কিছু করার নেই। ’ তবে আবাহনীর ম্যানেজার শাকিল মাহমুদ বলেছেন, ‘দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় প্র্যাকটিসে। ম্যাচে কোচের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আমরা পয়েন্ট হারিয়েছি। ’

এই স্লোভাক কোচের জায়গায় জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রে মারুফুল হকের সহকারী হিসেবে কাজ করা এই দেশি কোচ স্বীকার করেছেন তাঁর সঙ্গে চট্টগ্রাম আবাহনীর কর্মকর্তাদের ফোনে কথা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কোচ নিয়োগ পর্যন্ত নিজেদের পুরনো কোচ নজরুল ইসলাম লেদু দলের দায়িত্ব পালন করবেন।


মন্তব্য