kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মোহামেডানকে আয়েশে হারাল আবাহনী

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মোহামেডানকে আয়েশে হারাল আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নামের ভারও বাঁচাতে পারল না মোহামেডানকে। পড়তে পড়তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী থেকে যে তারা কত দূর পিছিয়ে গেছে তারই প্রদর্শনী থাকল কাল আবাহনীর ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে।

গত লিগেও মাঝারি মানের এক দল নিয়ে আকাশি-নীলদের তারা লড়াইয়ে রেখেছিল। এবার আরো নিম্নমানের দল, শিরোপাপ্রত্যাশীদের বিপক্ষে জসিম উদ্দিন জোসির সেই দলের অসহায় আত্মসমর্পণই দেখল মোহামেডানের এই যুগের দর্শকরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের ডিফেন্স দারুণ ব্যস্ত আবাহনীর সানডে, লি টাক, হেমন্তদের সামলাতে। ১৭ মিনিটে গোল হয়েই যেত, সাদা-কালোদের বাঁচিয়েছেন গোলরক্ষক নেহাল। মিডফিল্ড থেকে ইমনবাবুর নিখুঁত থ্রু ধরে ডানদিক থেকে ক্রস বাড়িয়েছিলেন লি টাক, বক্সের ওপর থেকে তাতেই ঝোড়ো শট হেমন্তের, নেহাল একরকম উড়ে সেই বল ফিস্ট করে বাঁচিয়েছেন। তবে আবাহনীর আক্রমণের তোড়ে গোল পাওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার ছিল। ২৬ মিনিটে মিডফিল্ড থেকে লি টাকের বাড়ানো একটা লম্বা থ্রু ধরে হেমন্তই কাঙ্ক্ষিত সেই গোল এনে দিয়েছেন। ছোট বক্সের ডান প্রান্ত থেকে তাঁর কোনাকুটি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে। এই গোলের পর অবশ্য আকাশি-নীল আক্রমণে ঢিল দিয়েছে, মোহামেডান সেই সুযোগে ওপরে ওঠে। ৩৩ মিনিটে আমিনুর রহমানের ফ্রিকিকে ছয় ফুট উচ্চতার ইয়াইয়া সাই মাথা ছোঁয়াতে পারলে সম্ভাবনা ছিল গোলের। তা ছাড়া প্রথমার্ধে ম্যাচে ফেরার আর কোনো সুযোগই পায়নি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও গোলের জন্য খেলছিল সাদা-কালোরা। ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা যে গতি ও ছন্দে খেলছিল আবাহনী সেটি উধাও। তাতেও মোহামেডানের সামনে গোলমুখ খুলছিল না। কাউন্টার অ্যাটাকে সানডে উল্টো ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বক্সের মধ্যে থেকেও মেপে-জোখে নেওয়া তাঁর শট গেছে পোস্টের বাইরে দিয়ে। ৭০ মিনিটে সানডেকে আবার গোলবঞ্চিত করেছেন নেহাল। তবে শেষ মিনিট পাঁচেকে মোহামেডান গোলরক্ষকের সেই প্রতিরোধও ভেঙে যায়। কাউন্টার অ্যাটাকেই সানডে ঠাণ্ডা মাথায় তাঁর শরীরের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান। আর অতিরিক্ত সময়ে লি টাকের দর্শনীয় চিপ জালে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বৈরথ বলেই এদিন লিগের গড়পড়তা দর্শকের চেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল পূর্ব ও পশ্চিম গ্যালারিতে। তবে যা ছিল না, তা হলো উত্তেজনা। মাঠে সেই অর্থে ঠোকাঠুকি ঠিক হচ্ছিল না। আবাহনী আক্রমণে ধার বাড়ালে মোহামেডান ডিফেন্স কাঁপছে, মোহামেডানের পায়ে বল থাকলে আকাশি-নীল থেকেছে সতর্ক প্রহরায়। দুই দলের শক্তিমত্তায় এখন পার্থক্য এটুকুই। মাঠের খেলায় শুধু নামের ভারে তা উতরে যাওয়া সম্ভব হয়নি সাদা-কালোদের। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় এখন শেখ জামালের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আবাহনী, মোহামেডান দশম স্থানে।

কাল ফেনী সকারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে শীর্ষস্থান থেকে নেমে গেছে রহমতগঞ্জ। শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে লিড হারিয়েছে কামাল বাবুর দল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে মেহবুব হোসেনের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে সিও জুনাপিও ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করলে ১ গোলের লিডটা হারায় তারা ৮৯ মিনিটে। বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়া মোহাম্মদ হেলালের বিপক্ষে সফল ট্যাকল ছিল মোহাম্মদ সোহেলের। কিন্তু রেফারি বাজিয়েছেন পেনাল্টির বাঁশি। তাতেই সকারের হয়ে চৌম্রিন রাখাইনের সমতা ফেরানো গোল।

আবাহনী : সুলতান; ওয়ালি, তপু, সামাদ, মামুন; ইমন, হেমন্ত (প্রাণতোষ), আতিকুর; লি টাক, জুয়েল (শাহেদ), সানডে।

মোহামেডান : নেহাল; ইউসুফ, বিশ্বনাথ, ইয়াইয়া, এহসান; মাসুক, জেকো প্যাট্রিস, শাহাদত (মাসুদ); তৌহিদ (বিপলু), আমিনুর, বাঙ্গুরা।


মন্তব্য