kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আর নেই আফগানভীতি

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আর নেই আফগানভীতি

ঢাকায় : যুদ্ধবিধ্বস্ত নিজেদের দেশেও আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা এতটা নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন কি না সংশয় আছে। কাল ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর তেমন নজিরবিহীন নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে আফগানদের। হতে পারে ইংল্যান্ড সিরিজের নিরাপত্তা ড্রিলটাও সেরে নিল বাংলাদেশ। ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২০১৪-র এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছে কেন হেরেছিল বাংলাদেশ? জবাব দিতে গিয়ে হাবিবুল বাশার ফিরে গেলেন আরো সাত বছর পেছনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০০৭-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অধিনায়ক টেনে আনলেন ওই আসরের সুপার এইটে আয়ারল্যান্ড ম্যাচ প্রসঙ্গ।

এক ম্যাচ আগে যেখানে তখনকার ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছিল বাংলাদেশ, সেখানে বার্বাডোজে আইরিশদের কাছে আচমকা ৭৪ রানে হেরে বসার একটি ব্যাখ্যাই এত দিন পর দাঁড় করাতে পারছেন হাবিবুল। এখন অন্যতম নির্বাচক গতকাল বলছিলেন, ‘আইরিশদের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য না থাকাই আমাদের সমস্যায় ফেলেছিল বলে মনে হয় আমার। যেমন আমরা জানতামই না যে এউইন মরগানের মতো ক্রিকেটারও আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলেন। ’

 

এই আইরিশ এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। আসন্ন সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে না নিলে বাংলাদেশে তাঁকে এই ভূমিকায়ই দেখা যেত। অবশ্য তাঁকে ছাড়াও জস বাটলারের নেতৃত্বাধীন ইংলিশ ওয়ানডে স্কোয়াড যথেষ্টই শক্তিশালী। জমজমাট সেই সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য দারুণ প্রস্তুতির সুযোগ হয়ে গতকাল বিকেলেই ঢাকায় পা রেখেছে আফগানিস্তান দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে স্বাভাবিকভাবেই এই দলটির সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াইয়ের পূর্বাপর উঠে আসছে। দুই বছর আগের এশিয়া কাপে ফতুল্লায় ৩২ রানের হারের তিক্ত স্মৃতিও তাই প্রসঙ্গক্রমে আসছেই।

 

যদিও সে আলোচনায় কর্ণপাত করার কোনো কারণই দেখছেন না একসময় বাংলাদেশ দলের অপরিহার্য স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এই বাঁহাতি স্পিনার নিজেও খেলেছিলেন ফতুল্লার সেই ম্যাচটিতে। বিস্মৃতির ২০১৪-র পর ২০১৫-তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সাফল্যের যে সোনা রোদ, তাতে দলে না থেকেও ওই ম্যাচটির দিকে ফিরে তাকাতে অনীহা রাজ্জাকের। বরং পাল্টা এক প্রশ্নেই যেন প্রসঙ্গটির সমাপ্তিরেখা টানতে চাইলেন তিনি, ‘বাংলাদেশ এখন যেমন খেলছে, তাতে ওই ম্যাচ নিয়ে আলোচনার কোনো কারণই দেখি না। বাংলাদেশ যখন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল (২০০৫ সালে কার্ডিফে), তখন কি আমরা ওদের হারানোর মতো দল ছিলাম? আমার অন্তত তা মনে হয় না। এমন একটি দিন গিয়েছিল যেদিন আমাদের সব ঠিকঠাক হয়েছিল আর ওদের ভুলভাল। ফতুল্লা ম্যাচটিতেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটেছিল। ’

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য ওই হারে আরো কিছুর যোগ দেখেছেন, ‘সম্ভবত আমাদের খেলোয়াড়রা সেবার আফগানিস্তানকে একটু হালকাভাবেও নিয়েছিল। হয়তো ভেবেছিল ওরা যত রানই করুক না কেন, আমরা ঠিক তাড়া করে জিতে যাব। ’ তবে হাবিবুলের দৃষ্টিতে এর চেয়েও বড় কারণ তথ্য সংকট, ‘ওই ম্যাচটি খেলার আগে আফগানিস্তানের বিষয়ে আমাদের কারোরই তেমন কিছু জানা ছিল না। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে জিততে কিন্তু আমাদের সমস্যা হয়নি। ’

বিশ্বকাপে ক্যানবেরায় আফগানদের মুখোমুখি হওয়ার আগে সামান্য ভীতি হয়তো ছিল। সেটি এর বছরখানেক আগে হারার কারণে। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে দেশের মাটিতে টানা সাফল্য বাংলাদেশকে এমন এক চূড়ায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে যে দৃষ্টিসীমায় আফগানরা অন্তত আর হুমকি হয়ে নেই। গত বছর পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা দিয়ে শুরু মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের। এরপর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ২-১ এ হারানো টাইগাররা যখন নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্নে বিভোর, তখন আফগানদের নিয়ে অত ভাবিত হওয়ার সময় কোথায়! হাবিবুল অবশ্য তাঁদের প্রাপ্য গুরুত্ব দিয়েই বলতে চাইলেন, ‘ইংল্যান্ডকে কিন্তু এর আগেও আমরা বেশ কয়েকবার হারিয়েছি। তার পরও এবারই একটি ব্যাপার প্রথম ঘটতে চলেছে। আর সেটি হলো এই প্রথম কিন্তু আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো সিরিজ ফেভারিট হিসেবে শুরু করতে চলেছি। এর আগে আফগানিস্তান সিরিজটি আমাদের জন্য প্রস্তুতির দারুণ সুযোগ হয়ে এসেছে। ’

সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া বাংলাদেশ আর যা-ই হোক, আফগানদের নিয়ে পুরনো ভীতিতে আর কাবু হয়ে নেই।


মন্তব্য