kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুলের খেসারত দিল শেখ রাসেল

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভুলের খেসারত দিল শেখ রাসেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১২ মিনিটেই যারা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত সেই শেখ রাসেল শেষ পর্যন্ত হারের বৃত্তেই পড়ে আছে। দুই বিদেশি পল এমিলি ও ইকাঙ্গার অমার্জনীয় গোল মিসে তারা ব্রাদার্সের কাছে হেরেছে ৩-১ গোলে।

সুবাদে ব্রাদার্স সাত খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। সাত ম্যাচে ষষ্ঠ হার মেনে নিয়ে শেখ রাসেল পয়েন্ট তালিকায় তলানিতে। দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে চট্টগ্রাম আবাহনী পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। আবাহনী ১২ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।   

১২ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের তিন গোল। কিন্তু হয়নি একটিও, আর সেই না হওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে শেখ রাসেলকে। দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে যথারীতি। দুই মিনিটে মোনায়েম খান রাজু দারুণ এক বল বাড়ান পল এমিলির পায়ে। অনায়াসেই শট নিতে পারেন গোলে, কিন্তু ক্যামেরুনের এই স্ট্রাইকার অযথা সময় নিয়ে গোলরক্ষক উত্তম বড়ুয়াকে ব্লক করার সুযোগ দিয়েছেন। নষ্ট করেছেন প্রথম সহজ সুযোগটি। মিনিট তিনেক পর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবারও পলকে তাড়া করছে না কেউ, সামনে শুধুই ব্রাদার্স গোলরক্ষক। অবিশ্বাস্য কারণে শট না নিয়ে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ১২ মিনিটে ব্রাদার্স ডিফেন্ডার কৃষ্ণপদের পেনাল্টি উপহার। মিঠুন চৌধুরীকে ফাউল করায় রেফারি আজাদ রহমান পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এবার ক্যামেরুনের ইকাঙ্গা পেনাল্টি কিক মেরেছেন আকাশে উড়িয়ে। এই তিনটি সুযোগের একটিও গোল হলে চাপে পড়ে যায় প্রতিপক্ষ। হাতের লক্ষ্মী যখন পায়ে ঠেলেছে, তখন তো মাসুল দিতেই হবে শেখ রাসেলকে। ১৭ মিনিটে ব্রাদার্সের অগাস্টিন ওয়ালসনের লং পাসে দাঁড়িয়ে যায় রাসেলের ডিফেন্স, সেই সুযোগে এনকোচা কিংসলের সামনে গোলের হাতছানি। গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেও নিরস্ত করতে পারেননি ব্রাদার্সের নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারকে। এর পরও দলকে ম্যাচে ফেরানোর সুযোগ পান পল এমিলি। কিন্তু জামাল ভূঁইয়ার দুর্দান্ত থ্রুর বল আয়ত্তে নিয়েও রাসেলের এই বিদেশি স্ট্রাইকার আবারও ব্যর্থ। ৩২ মিনিটে হাইতিয়ান স্ট্রাইকার অগাস্টিন ওয়ালসনের ফ্রিকিকে দ্বিতীয় গোল খেয়ে রাসেল ষষ্ঠ হারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।

 

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু করলেও শেখ রাসেলের পক্ষে কাজটা কঠিন। গোল করার অভ্যাস ভুলে যাওয়া দলের দুই গোল করার বিশ্বাসই নেই। তা-ও ৫৫ মিনিটে সাখাওয়াৎ হোসেন একটি গোল শোধ করেছেন। পল এমিলির পা ঘুরে আসা বলটি বদলি স্ট্রাইকার জালে পৌঁছে দিয়ে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। এরপর ইনজুরি ফেরত জাহিদ হাসানকে নামিয়েও দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি রাসেল। ইনজুরি টাইমে উল্টো আরেক গোল হজম করে হারের ব্যবধান বড় হয়েছে, অগাস্টিন ওয়ালসন করেছেন নিজের দ্বিতীয় গোল।

লিগের শুরুতে চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলায় যে ধার ছিল, তাতে এখন ভাটার টান। আরামবাগের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম দিকে জাহিদ হোসেন ডান দিক ধরে কয়েকবার ওঠার চেষ্টা করেও সফল হননি। ডান দিকের উইংয়ে ইব্রাহিম ও সোহেল রানার সুবাদে কয়েকটা সুযোগ তৈরি হলেও গোলে রূপ দিতে পারেনি সেগুলো। আরামবাগও যেন গোল না খাওয়ার পণ করে নেমেছিল শুরু থেকে।    

প্রথমার্ধে অন্তত দুটো গোল পেতে পারত চট্টগ্রাম আবাহনী। ৪১ মিনিটে ডান দিক থেকে সোহেল রানার দুর্দান্ত ক্রসে হাইতিয়ান স্ট্রাইকার লিওনেল প্রেক্সের হেড ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে চমত্কার সুযোগটা নস্যাৎ করে দিয়েছেন আরামবাগের ইসা ইউসুফ। ডান দিক থেকে সোহেল রানার ক্রসে জাহিদ হোসেন হেড করেছিলেন। তার ওপর ইব্রাহিমের টোকা নিশ্চিতভাবে জালে যাচ্ছে; কিন্তু  হঠাৎ আরামবাগের ওই ডিফেন্ডার হাজির হয়ে ব্যাকভলি করে গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বল। বিরতির পরও তারা গোল বের করতে পারেনি। সময় যত এগিয়েছে আরামবাগ আস্তে আস্তে ডিফেন্সমুখী হয়েছে। সুযোগে মাঠে চট্টগ্রাম আবাহনীর কর্তৃত্ব বেড়েছে এবং শেষ ১৫ মিনিটের চাপে গোল আদায় করে নেওয়ার মতো অবস্থা হয়। ৭৫ মিনিটে প্রেক্সের শট ক্রসবার উঁচিয়ে যাওয়ার পর ৮৪ মিনিটে রুবেল মিয়ার ঝুলিয়ে দেওয়া বল শেষ মুহূর্তে ফিস্ট করেন রাসেল গোলরক্ষক মিতুল।


মন্তব্য