kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুজনেরই পছন্দ স্পিন!

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দুজনেরই পছন্দ স্পিন!

ক্রিকেটে বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে। তবু উপমহাদেশে খেলতেই নাকি বেশি স্বচ্ছন্দ বেন ডাকেট ও জাফর আনসারি।

এর কারণও আছে। এই প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া দুই তরুণেরই স্পিন ভালো খেলেন বলে পরিচিতি রয়েছে নিজ দেশে। ডাকেট তো ক্যারিয়ার শুরুর মঞ্চ হিসেবে বাংলাদেশকে পেয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত, ‘আমাকে যদি পছন্দ দেওয়া হতো তাহলে আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য আমি বাংলাদেশ কিংবা ভারতকেই বেছে নিতাম। ’ মূলত অফস্পিনার, সঙ্গে স্পিন খেলতেও জানেন ভালো; ক্যামব্রিজের শিক্ষার্থী জাফর আনসারির বাংলাদেশ সফরে ডাক পাওয়ার অন্যতম কারণ।

সবশেষ মৌসুমে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২৭০৬ রান করেছেন বেন ডাকেট। তার ওপর নিরাপত্তার অজুহাতে অ্যালেক্স হেলস বাংলাদেশ সফরে অস্বীকৃতি জানানোয় জাতীয় দলের দরজা হাঁ করে খুলে যায় ডাকেটের সামনে। ১৭ জনের দলে আছেনও ২১ বছর বয়সী নর্দাম্পটনের এ ব্যাটসম্যান। যদিও ডাকেটের দল কাউন্টির দ্বিতীয় বিভাগে। তাই সেখান থেকে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। সেটা মনেও আছে ডাকেটের, ‘গ্রীষ্মজুড়েই অনেকে বলাবলি করছিলেন যে ডিভিশন টু-তে খেলে কি আর জাতীয় দলে ঢোকা যাবে! ভালো লাগছে তাদের ভুল প্রমাণ করতে পেরে। ’ প্রথম-দ্বিতীয় বিভাগ না, ডাকেট মনে করেন তাঁর ডাক পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ স্পিন খেলায় পারদর্শিতা, ‘কাউন্টির ডিভিশন ওয়ানডের উইকেট পেসবান্ধব। কিন্তু বাংলাদেশে ভালো করতে হলে আপনাকে স্পিন খেলতে জানতে হবে। গত সপ্তাহে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে টার্নিং উইকেটে ওই দুটি ইনিংস (৮০ ও ১৮৫) আমাকে জাতীয় দলে পৌঁছে দিয়েছে। ’ নর্দান্টদের কোচিং টিমে আছেন মার্ক রামপ্রকাশ, গ্রাহাম থর্প ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। জানা গেছে, তাঁদের পরামর্শও গেছে ডাকেটের পক্ষে।

ওদিকে ২৪ বছর বয়সী সারের জাফর আনসারির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়ে যেতে পারত গত মৌসুমেই। আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে ছিলেনও তিনি। তবে দল ঘোষণার দিন কাউন্টি ম্যাচে কভারে ফিল্ডিংয়ের সময় আঙুল ভেঙে যাওয়ায় আমিরাতে আর যাওয়া হয়নি তাঁর। তাই বাংলাদেশ সফরই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আনসারির প্রথম সফর। ভাঙা আঙুল সারাতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সবশেষ মৌসুমের পুরোটাই খেলেছেন আঙুলে ব্যান্ডেজ বেঁধে। সে কারণেই কিনা আগের মৌসুমের মতো অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবার হয়নি। ব্যাটে ২৭.৪৪ আর বল হাতে ৩১.৪১ গড় দিয়েই প্রথমবার ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। নতুন পরিবেশে অবশ্য পুরনো এক বন্ধুকে পাচ্ছেন আনসারি। ৩৭ বছর বয়সে ডাক পাওয়া অফস্পিনার গ্যারেথ ব্যাটি যে কাউন্টিতে তাঁরই দলের, ‘দারুণ ব্যাপার। গ্যারেথের সঙ্গে অনেক দিন হলো খেলছি। নিশ্চিতভাবে ওর কাছ থেকে দারুণ সাহায্য পাব। মনে হবে না অচেনা মানুষদের মাঝে আছি। ’ বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও সামান্যতম উদ্বেগ নেই আনসারির মনে, ‘বোর্ড থেকে আমাদের এ ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া আমার মা-বাবা সেদিনও পাকিস্তান ঘুরে এসেছেন নিরাপদে। যত দূর জানি, বাংলাদেশ সে তুলনায় অনেক নিরাপদ। আমি তাই ভয়ের কোনো কারণ দেখছি না। আর দুঃসময়ে কোনো দেশের পাশে দাঁড়ানো তো ভালো কাজও। ’ ডেইলি মেইল


মন্তব্য