kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের পাশে সবাই

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের পাশে সবাই

দারুণ এক মিলনমেলা এদিন। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ সব কর্মকর্তা, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত হয়ে আসা ফুটবল-সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে—সবারই মধ্যমণি কিশোরী ফুটবলাররা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পাঁচ তারা হোটেলের বলরুম আলো করে ভেতরে ঢুকল অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের মেয়েরা। তাদের পেছন পেছন আরো জনা বিশেক।

মুখাবয়বে সরলতা, সঙ্গে মাটির ঘ্রাণ—দূর পল্লীগ্রামের এই বাসুদেব, সবুজ মিয়া, কোহিনুর বেগমরাই কৃষ্ণা, সানজিদা, মার্জিয়াদের গর্বিত জনক-জননী। চ্যাম্পিয়নদের সংবর্ধনার দিনে সম্মানিত তাঁরাও। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেড় লাখ টাকা করে অর্থ পুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মঞ্চে সেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকলেন তাদের অভিভাবকরাও। দারুণ এক মিলনমেলা এদিন। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ সব কর্মকর্তা, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত হয়ে আসা ফুটবল-সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে—সবারই মধ্যমণি কিশোরী ফুটবলাররা।

গতকালের সংবর্ধনার আগেই এই মেয়েদের নিয়ে আগামী এক বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাফুফে। সেখানে মাসিক ভাতাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা এসেছে। মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসএস সলিউশনস। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সারাজিন কাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে আপ্লুত, ‘আমি নিশ্চিত মেয়েদের এই অর্জনই শেষ নয়, আরো অনেক অর্জন আসবে ওদের হাত ধরে। আমরা তাদের পাশেই আছি। ’ অনুষ্ঠানে কাজী সালাউদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের পর মঞ্চে উঠে মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারের গলাও ধরে এলো মেয়েদের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে, ‘আজ আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে অভিনন্দন জানাতে চাই যারা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে আমাদের এই অর্জন এনে দিয়েছে। ’ কাজী সালাউদ্দিনের চোখেও এখন কৃষ্ণা, সানজিদারাই হিরো, ‘তোমরা যে সাফল্য এনেছ তাতে সবাই এখন তোমাদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। তোমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। আমি শুধু একটা কথাই বলব, নিজেদের খেয়াল রাখো, আর এমনভাবেই গর্বিত করো গোটা জাতিকে। ’

বাফুফে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণা দিতেই সাড়া পড়ে গিয়েছিল পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস ফুটবলের উন্নয়নে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা মেয়েদের প্রত্যেককে দিয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে। জেমকন গ্রুপ শুরু থেকেই উৎসাহী ছিল এই চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের পাশে থাকার। তারাও সংবর্ধনায় ৫০ হাজার টাকা করে তুলে দিয়েছে খেলোয়াড় এবং তাদের অভিভাবকদের হাতে। নতুন যোগ হয়েছে কালডয়েল ডেভেলপার্স, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খায়রুল মজিদ মাহমুদও কোচ খেলোয়াড়সহ স্কোয়াডের ২৬ জনকে দিলেন ১৩ লাখ টাকা।

নিতান্তই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারদের কাছে এই অর্থ কম নয়। এই কিশোরীরাই যে এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে দেশকে বিশ্বকাপে তুলে দেওয়ার। ফুটবলে এমন স্বপ্ন আর কে দেখিয়েছে কবে। অর্থ পুরস্কারে তাই মাপাও যাবে না তাদের সাফল্য। খায়রুল মজিদ যেমন বলছিলেন, ‘তোমরা (ফুটবলাররা) নিজেরাও হয়তো জানো না তোমরা কী করেছ। গোটা দেশ অভিভূত হয়েছিল যখন তোমরা মাঠে পারফর্ম করেছ। ’ জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ গর্বিত চ্যাম্পিয়নদের পাশে নিজেদের যুক্ত করতে পেরেই, ‘সত্যি আমাদের জন্যও এই দিনটা অনেক আনন্দের। আমরা সব সময় এই মেয়েদের পাশে থাকতে চাই। ’ সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিনের কণ্ঠেও একই প্রত্যয়, ‘আগামী বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে লড়বে এই মেয়েরা। তত দিন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা দেব। ’

খেলোয়াড়দের চাওয়াও সেটি। তারা যে এই অর্জনেই থেমে থাকতে চায় না। স্ট্রাইকার অনুচিং মোগিনির কণ্ঠে প্রত্যয়, ‘আগামী এক বছর যত কষ্টই করা লাগে আমরা করব। ফাইনাল রাউন্ডে আমরা আরো ভালো কিছু করে দেখাতে চাই। ’ অধিনায়ক কৃষ্ণা রানীর বাবা টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন সংবর্ধনায়। মেয়েকে ঢাকায় রেখে তাঁর মন কাঁদে, কিন্তু দেশের স্বার্থে তিনি বুকে পাথর বাঁধতে রাজি, ‘দিনের পর দিন যায় মেয়েটাকে দেখি না। মনে হয় ঢাকায় ছুটে আসি। কিন্তু আবার যখন ওদের জয়ের খবর পাই তখন সব কষ্ট চলে যায়। ’ কলসিন্দুর থেকে আসা মারিয়া মান্ডার মা সংবর্ধনায় অনেক মানুষের ভিড়েও মেয়েকে যেন কাছছাড়া করতে চাইছিলেন না। কিন্তু মারিয়া তো এখন আর শুধু তাঁর মেয়ে না। দেশমাতৃকার নামে শপথ নিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইয়ের প্রতি ম্যাচে ওরা মাঠে নেমেছিল। কাল তাদের সংবর্ধিত করার দিনে সেই শপথই যেন নেওয়া হলো আরো একবার। কোচ গোলাম রব্বানীও চান এই আয়োজন ফুটবলারদের আরো ভালো খেলার অনুপ্রেরণাই যেন হয় শুধু।


মন্তব্য