kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নতুন কোচকে নিজেদের শক্তি দেখাল শেখ জামাল

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নতুন কোচকে নিজেদের শক্তি দেখাল শেখ জামাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সুইডিশ কোচের সামনে প্রথম ম্যাচেই উজ্জীবিত পারফরম্যান্স দেখাল শেখ জামাল। শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছে তারা ৩-২ গোলে।

ম্যাচ ৩-০ করে ফেলেছিল তারা। মুক্তি বারাবার লড়াইয়ে ফিরতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত পারেনি। এই জয়ে শীর্ষস্থানে এখন এককভাবে শেখ জামাল। ৭ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট তাদের।

ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যে ২ গোল করে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। তৃতীয় মিনিটে বক্সের বেশ বাইরে বল পেয়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দলকে প্রথম এগিয়ে দেন এমেকা ডার্লিংটন। নবম মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় গোল। বক্সের ভেতর ওয়েডসন আনসেলমের হেড ক্লিয়ার করতে গিয়ে পেনাল্টি দিয়ে বসেন মুক্তিযোদ্ধা ডিফেন্ডার সাইদুল হক, বল তাঁর হাতে লাগে। স্পট কিক থেকে ডার্লিংটন ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেননি। দুই বড় দলের খেলার শুরুতেই এমন চিত্র অবাক করারই ছিল। আগের রাতে ঢাকায় এসে এদিন ডাগআউটেও দাঁড়িয়ে গেছেন জামালের নতুন কোচ স্তেফান হ্যানসন। তাঁর সামনেই ধানমণ্ডির ক্লাবটির এই আধিপত্য।

তবে মুক্তিযোদ্ধাও গোল শোধে মরিয়া হয়। মিনিট পনেরোর মধ্যে ২-১ করেও ফেলতে পারত তারা। ডান উইং দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়া মোবারক হোসেনকে ফেরাতে ফাউলই করে বসেন জামাল অধিনায়ক ইয়াসিন খান। কিন্তু পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগটা নষ্ট করেছেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কোলো মুসা। তাঁর গড়ানো শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন গোলরক্ষক মাকসুদুর রহমান। তবে এতে জামালের জন্য সতর্কবার্তাও ছিল যে, ২-০-ই যথেষ্ট নয়। মাঝমাঠে সিমোন এজিওদিকা, ডানে মোবারক এবং ওপরে কোলো মুসা ও তৌহিদুল আলম মিলে জামাল ডিফেন্সকে বারবার পরীক্ষায়ও ফেলছিলেন। তবে ৩৩ মিনিটে ওয়েডসন যা করলেন তার জন্য প্রস্তুত ছিল না আসলে কেউই। ২৭-২৮ গজ দূরে বল পেয়েছেন, সামনে ডিফেন্ডারদের জটলা। কিন্তু এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ডান পায়ের বাঁকানো ও গতিময় এমন এক শট নিলেন যে তা উড়ে দ্বিতীয় পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে জালে। ম্যাচ ৩-০। মুক্তির ম্যাচে ফেরার সুযোগ তাতে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই স্বস্তি নিয়ে মাঠে ফিরতে পারেনি স্তেফানের দল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মুক্তিযোদ্ধা স্ট্রাইকার জাভেদ খানকে ওয়ান অন ওয়ানে ফাউল করেন মাকসুদ। দ্বিতীয়বার পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর দল তা আর নষ্ট করেননি। স্পট কিক থেকে এবার ব্যবধান ৩-১ করেন ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে খেলা তৌহিদ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফেরার এই লড়াইটা চালিয়ে গেছে মুক্তি। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ৩-২-ও হতে পারত। মোবারকের ক্রসে পোস্টের খুব কাছে দাঁড়িয়ে সিমোনকে পা ছোঁয়ালেই হতো, তিনি সেটা পারেননি। জামাল গোলরক্ষক মাকসুদও এদিন দারুণ খেলছিলেন। ৭১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া সিমোনের শটই তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর মাঝে শেখ জামালও অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু ওয়ান অন ওয়ানে গোলরক্ষককে পেয়েও সেই সুযোগটা নষ্ট করেছেন ওয়েডসন। মুক্তির ফেরার সুযোগটা তাই থেকেই যায়। ৭৫ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল জালে পাঠিয়ে সিমোন ৩-২ গোল করলে এবং ৮০ মিনিটে শেখ জামালের শিহাব লাল কার্ড দেখলে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাটা জিইয়ে ছিল।

দিনের অন্য ম্যাচে উত্তর বারিধারার বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে বিজেএমসি। যদিও শুরুতে তারা পিছিয়ে পড়েছিল। স্যামসন ইলিয়াসুর জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে তারা মাঠ ছাড়ে। লিগে আগের ৬ ম্যাচে ৪ ড্র করা বিজেএমসির এটি প্রথম জয়। ওদিকে উত্তর বারিধারা প্রথম ম্যাচে শেখ রাসেলকে হারানোর পর কাল টানা ষষ্ঠ ম্যাচ হেরেছে নিজেরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে মাজহারুল ইসলামের গোলে অবশ্য এই বৃত্ত ভাঙার স্বপ্নই দেখছিল তারা। যদিও লিড মিনিট দুয়েকের বেশি স্থায়ী হয়নি, দারুণ এক হেডে বিজেএমসিকে সমতায় ফিরিয়েছেন ইলিয়াসু। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে দলকে এগিয়েও দিয়েছেন তিনি। ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের এখন সপ্তম স্থানে বিজেএমসি। ৩ পয়েন্ট পাওয়া বারিধারা তলানির দল শেখ রাসেলের ঠিক এক ধাপ ওপরে।

শেখ জামাল : মাকসুদ; কেস্ট, ইয়াসিন, দিদারুল, আনিসুর; এনামুল হক শরিফ, এনামুল, ল্যান্ডিং; ওয়েডসন, এমেকা, শিহাব।

মুক্তিযোদ্ধা : মামুন; পিন্টু, সাইদুল, মুফতা, সোহেল; হাবিবুর, মোবারক, সিমোন; তৌহিদ, জাভেদ, মুসা।


মন্তব্য