kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

সাহায্য প্রয়োজন কিন্তু কারো কাছে চাইতেও পারছি না

একসময়ের মাঠ কাঁপানো ফুটবলার শাহাজ উদ্দিন টিপু এখন নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনায় বারবার কেঁপে ওঠেন। স্ত্রীর গলায় ঘা, তা থেকে আরো দুরারোগ্য ব্যাধির শঙ্কা, অথচ চিকিত্সার বিপুল ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা তাঁর নেই। একসময় গোটা দেশের সম্মান বয়ে নিয়ে বেরিয়েছেন তিনি, কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে তাঁর কণ্ঠেই নিদারুণ অসহায়ত্ব

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাহায্য প্রয়োজন কিন্তু কারো কাছে চাইতেও পারছি না

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আপনার স্ত্রীর অসুস্থতার খবর শুনেছি...

 

শাহাজ উদ্দিন টিপু : হ্যাঁ, গত দেড়-দুই বছর ধরে ও খুব অসুস্থ। হিমোগ্লোবিনের সমস্যা।

গলায় ঘায়ের মতো হয়েছিল এলার্জি থেকে। কাশির সঙ্গে রক্ত আসত। তার জন্য এমন একটা ইনজেকশন দিতে হয় যে খুব দামি। গত দেড় বছর ধরে সেটা টানতে টানতে ওর বড় ধরনের কোনো চিকিত্সাও করাতে পারিনি। এদিকে ছেলেমেয়েদেরও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটল।

প্রশ্ন : ২০০৯ সালে খেলা ছাড়ার পর তো আপনি সেভাবে কিছু করেননি...

টিপু : আমি নিজেও বড় ইনজুরিতে পড়ে খেলা ছেড়েছি, হাঁটুতে অপারেশন করাতে হয়েছিল। এরপর নিজেকে আর গুছিয়ে নিতে পারিনি। ২০১০-১১-র দিকেই ওর অসুস্থতা দেখা দিল। এটা গুরুতর অবস্থা চলছে গত বছর দুয়েক ধরে। শরীরের রক্তের পরিমাণ এত কম যে, রক্ত দিলেও রক্ত কমে যায়। কিছুদিন ভালো থাকে আবারই খুব অসুস্থ হয়ে যায়। এখন দুই-তিন মাস পরপরই রক্ত দিতে হচ্ছে। সত্যি বলতে এই মুহৃর্তে আমি ওর সঠিক চিকিত্সা করাতে পারছি না।

প্রশ্ন : এখন কী ধরনের চিকিত্সা প্রয়োজন?

টিপু : সবচেয়ে বড় সমস্যা কি জানেন, আমি এমন একটা স্ট্যাটাস থেকে এমন একটা স্ট্যাটাসে এসেছি যে আমি কোনোটাই মেইনটেন করতে পারছি না। না কারো কাছে হাত পাততে পারছি, না নিজেই কিছু করতে পারছি। এই করে ওর চিকিত্সায় বড় গ্যাপ হয়ে গেছে, ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচটাও তো চালাতে হয়েছে। আমার দুই মেয়ে—একটা ক্লাস এইটে পড়ে, অন্যটা ওর ছোট...দেশকে তো একটা সময় আমি দিয়েছি। মানুষ এটা জানে। তাদের ভালোবাসাও পেয়েছি। ওই দাবি থেকেই ভাবি, কোনোভাবে আমার সংসারটা যদি সুন্দর হয়ে যায় আবার...

প্রশ্ন : বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন?

টিপু : একটা যদি অ্যামাউন্ট পাই সাহায্য হিসেবে তাহলে তা দিয়ে একেবারে নতুন করে ওর চিকিত্সাটা আবার শুরু করব। হয় ভারতে অথবা স্কয়ার, ইউনাইটেড ভালো কোনো হাসপাতালে একেবারে পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সাটা করতে চাই। আমি এটা বলতে চাই না, তবু বলছি ডাক্তাররা বলেছেন ওর ক্যান্সারের প্রথম পর্যায়ে আছে। সেই চিকিত্সা তো এ পর্যন্ত আমি করাতে পারিনি। হিমোগ্লোবিনের একটা ইনজেকশনের দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা করে। মাসে আমাকে ১০টি করে দিতে বলেছে। তিন মাস দিয়েছি, গত চার মাস ধরে আর পারছি না...।


মন্তব্য