kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রস্তুতির শেষ ল্যাপে বাংলাদেশ

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রস্তুতির শেষ ল্যাপে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিরিজপূর্ব অনুশীলন-পর্বে তামিম ইকবালকে নিয়ে শঙ্কা নতুন কিছু না। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি; এই বাঁহাতির ইনজুরিতে জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টে অস্বস্তি থাকাটা স্বাভাবিক।

এবারও বাঁ হাতের আঙুলে চোট পাওয়ায় তামিমকে নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। কাল নেটে ও সেন্টার উইকেটে অনেকক্ষণ ব্যাটিং অনুশীলন করে সবাইকে যেন স্বস্তির বার্তাই দেন এই ওপেনার।

ক্যাচিং অনুশীলনের সময় আঙুলে তামিম ব্যথা পান গত মাসের ২৭ তারিখ। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সেখানে চিড় ধরার দুঃসংবাদ পাওয়া যায়। এরপর পেরিয়ে গেছে তিন সপ্তাহের বেশি। এর মধ্যে ব্যাট ধরা হয়নি। ঈদ-বিরতির পর কাল আবার পুরোমাত্রায় শুরু হয়েছে জাতীয় দলের অনুশীলন। সেখানে শুরু থেকেই দেখা যায় যে, তামিমের হাতে ব্যান্ডেজ নেই। সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ার্ম আপ সারেন। এরপর মাঠের একপাশে নক করেন কিছুক্ষণ। পরে দফায় দফায় বেশ কয়েকবার ইনডোরের নেটে ও সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেন বাঁহাতি ওপেনার। দুশ্চিন্তার কালো মেঘ তাতে দূর আকাশে উড়ে যায় অনেকটা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম থেকেই হয়তো পাওয়া যাবে তামিমকে। কালকের অনুশীলনে টিম ম্যানেজমেন্টের গুমোট অস্বস্তি একরকম দূর করে দেন তিনি।

সেই কবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে। ছয় মাসের আলসে সময় পেরিয়ে আবার তুমুল ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ক্রিকেটাররা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ কড়া নাড়ছে দরজায়; পিঠাপিঠি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বৈরথ। সে জন্য গত মাস থেকে শুরু হয়েছে মাশরাফি-মুশফিক-সাকিবদের অনুশীলন। ঈদের কারণে ছুটি ছিল মাঝে। তা কাটিয়ে কাল থেকে আবার ব্যাট-বলে নিজেদের ঝালাই করে নেওয়া। কাল বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে তা চলে ফ্লাডলাইটের আলোতেও।

এবারের অনুশীলন পুরোমাত্রায়, পূর্ণ কোচিং স্টাফ নিয়ে। প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে, সহকারী কোচ রিচার্ড হালসাল, ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ানরা ছিলেন ক্যাম্প শুরুর সময় থেকেই। বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ যোগ দেন ঈদের বন্ধের ঠিক আগে আগে। কাল যুক্ত হন ব্যাটিং পরামর্শক থিলান সামারাবীরা। এই তারকাখচিত কোচিং স্টাফ চিলচক্ষুতে পর্যবেক্ষণ করেন অনুশীলন।

খেলোয়াড়ি কীর্তির কারণে সবচেয়ে বড় তারকা ওয়ালশের কাজ ছিল আক্ষরিক অর্থেই পর্যবেক্ষণ। কখনো সেন্টার উইকেটের সামনে আম্পায়ারের অবস্থান থেকে, কখনো-বা পেছনের উইকেটরক্ষকের জায়গা থেকে পরখ করেন নতুন শিষ্যদের। খুব একটা কথাবার্তা বলেননি। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে কেবল একবার আলোচনা করতে দেখা গেল ওয়ালশকে।

ওয়ালশ তো তবু কয়েক দিনের পুরনো, সামারাবীরা একেবারে নতুন। কালই প্রথম যোগ দেন দলের সঙ্গে। ২০ জনের স্কোয়াডের ব্যাটসম্যানদের দিকেই তাঁর বাড়তি নজর। এই শ্রীলঙ্কান যে ব্যাটিং পরামর্শক! সেন্টার উইকেটে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা তাঁর। যদিও তাসকিন আহমেদের এক বাউন্সারে বল গিয়ে লাগে হেলমেটে। মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটিংও সাবলীল। শুরুর অস্বস্তি ঝেড়ে সহজাত ব্যাটিংয়ে ফিরতে সময় লাগেনি সাকিব আল হাসানের। দলে থাকবেন কি থাকবেন না—এমন দোলাচলে থাকা ইমরুল কায়েসও মারেন বড় বড় শট। কিন্তু বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্টের দুশ্চিন্তা দূর করার মতো ব্যাটিং কালকের অনুশীলনে অন্তত করতে পারেননি সৌম্য সরকার। এ কারণেই কিনা সামারাবীরাকে দীর্ঘ সময় কাটাতে দেখা যায় বাঁহাতি ওই ওপেনারের সঙ্গে।

অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথাবার্তায় নিজের রোমাঞ্চের কথা জানান এই শ্রীলঙ্কান, ‘আন্তর্জাতিক দলের একদল দুর্দান্ত ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করা ভীষণ রোমাঞ্চকর। আজ প্রথম দিনে আমি একটু চুপচাপই আছি। খেলোয়াড়দের জানার চেষ্টা করছি। ওদের চার-পাঁচজনকে অবশ্য আগে থেকে চিনি, ওদের বিপক্ষে খেলেছি আমি। এখন চুপচাপ থাকলেও সামনে ওদের সঙ্গে কাজ করতে করতে আরো সহজ হয়ে যাব। ’ নতুন শিষ্যদের প্রতিভা নিয়ে অবশ্য নিঃসংশয় তিনি, ‘আজ যা দেখলাম ও আগে টিভিতে যা দেখেছি, তাতে ওদের প্রতিভা নিয়ে আমি চিন্তিত না। তবে এই মুহৃর্তে আমাদের কাজ করতে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে আবার মানিয়ে নেওয়ায়। কারণ পাঁচ-ছয় মাস পর সেখানে খেলা সহজ না। ’ আর ইংল্যান্ডের আগে যে আফগানিস্তানকে নিয়ে মূল মনোযোগ, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

হয়তো ইংল্যান্ড সিরিজের ওয়ার্ম আপ তা, কিন্তু কালকের অনুশীলনের মতো তো আর নয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে! আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের বিরতিও গোনার মধ্যে না ধরে উপায় নেই।


মন্তব্য