kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্যামুয়েলসকে ‘বিঁধলেন’ স্টোকস

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্যামুয়েলসকে ‘বিঁধলেন’ স্টোকস

দুজনের তিক্ত সম্পর্কের গল্প বেশ পুরনো। তাতে নতুন ঝাঁজ যোগ করলেন বেন স্টোকস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলসের সম্মানবোধের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডেইলি মেইলে ধারাবাহিভাবে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘ফায়ারস্টার্টার : মি, ক্রিকেট অ্যান্ড দ্য হার্ট অব দ্য মোমেন্ট’-এ।

২০১৫ সালের গ্রেনাডা টেস্ট থেকে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি। যেখানে স্টোকস আউট হওয়ার পর তাঁকে ব্যঙ্গাত্মক স্যালুটে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান স্যামুয়েলস। এ বছর বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হলে আবার দেখা হয়ে যায় দুজনের। ভেতরটা যে টগবগিয়ে ফুটছে, তা কয়েকবারের কদর্যভাবে পরস্পরের সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বোঝা গেছে। স্যামুয়েলস সেদিন অপরাজিত ৮৫ রান করে জেতেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার। সতীর্থ কার্লোস ব্রাথওয়েট শেষ ওভারে স্টোকসের বোলিংয়ে টানা চার ছক্কা মেরে নিশ্চিত করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে স্যামুয়েলস সম্পর্কের স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে দেন, ‘স্টোকস নার্ভাস এক ছোকরা... ও কিছু শিখল না’ বলে।

ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার সেদিন ছিলেন পরাজিত-বিষণ্ন। স্যামুয়েলসের কথার জবাব দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। এবার ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মেইলে নিজের লেখা আত্মজীবনীতে ধুয়ে দিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানকে, ‘অন্যের প্রতি সম্মানবোধের অভাব রয়েছে মারলন স্যামুয়েলসের। ক্রিকেট মাঠে ওর সঙ্গে সময় কাটালে তা বুঝে যাবেন। আর এ বছর বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ফাইনালের পর ওর আচরণেই বোঝা গেছে, খেলাটির প্রতি ওর চূড়ান্ত অশ্রদ্ধা। ’ স্যামুয়েলসের কোন আচরণের কথা বলেছেন, তাও স্পষ্ট করেন স্টোকস, ‘সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ও ঢোকে প্যাড না খুলে। পা তুলে দেয় টেবিলের ওপর। এটি চরম অভদ্র আচরণ। ’

ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান যে তাঁকে ‘নার্ভাস ছোকরা’ বলেন, সে প্রসঙ্গও তুলে আনেন স্টোকস। তাঁকে যে একেবারেই পছন্দ করেন না, জানিয়ে দেন তা, ‘‘উদ্ভট দাবি করল যে, আমি নার্ভাস ছোকরা। অবশ্য আমার সম্পর্কে এমনটা বলার আগে থেকেই ওকে এক বিন্দু পছন্দ করি না। ‘খেলাটির প্রতি শ্রদ্ধা’ দেখানো যে কথা প্রচলিত, তাতে আমি বিশ্বাস করি। আমার মনে হয় না মারলন খেলাকে শ্রদ্ধা করে। ’’

তবে যে ফাইনাল নিয়ে এত কথা, তাতে জেতার কথা ছিল ইংল্যান্ডের। শেষ ওভারে ১৯ রান যে করতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কিন্তু স্টোকসের বোলিংয়ে টানা চার ছক্কা মেরে দেন ব্রাথওয়েট। ওই সময়ের অনুভূতির কথাও লেখেন এই ইংরেজ, ‘সেটি ছিল অসাড় এক অনুভূতি। সব কিছু খালি খালি লাগছিল। জানতাম যে সব ক্যামেরা আমার ওপর ধরা। তখন হয়তো আমাকে ঠিকঠাক দেখাচ্ছিল তবে তা অভিনয়। জো রুট বারবার বলছিল, নিজের অনুভূতি প্রকাশ কোরো না, মাথা উঁচু রাখো। ’

অভিনয়ে তাই হয়তো করেন স্টোকস। কিন্তু শেষ হাসি ছিল যে স্যামুয়েলসেরই! ডেইলি মেইল


মন্তব্য