kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার মাইক্রোবাসে

মেয়েদের ফুটবলকেই আঁকড়ে ধরছে ফেডারেশন

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মেয়েদের ফুটবলকেই আঁকড়ে ধরছে ফেডারেশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ছেলেদের দিয়ে তো আর হলো না। তাই এ মুহূর্তে কিশোরীদের নিয়ে ফুটবল ফেডারেশন বড় স্বপ্ন দেখছে।

স্বপ্ন জয় করতে তারা এক বছরের বিলাসী পরিকল্পনা করেছে সেই চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েদের নিয়ে।

 

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নয়। সামনে যে কঠিন দিন আসছে, সেটা বুঝতে পেরেই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘গ্রুপে আমরা যেভাবে ৫/১০ গোল দিয়েছি, চূড়ান্ত পর্বে আমাদের অবস্থাও সেরকম হতে পারে। তাই মেয়েদের লড়াই করার সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য, ফিটনেস বাড়ানোর জন্য এক বছর নিবিড় ট্রেনিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করব। পুরো পরিকল্পনা আজ বাফুফে সভায় অনুমোদন হয়েছে। ’ গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে পা রেখেছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে। এখানে তাদের সঙ্গী এশিয়ার পরাশক্তিরা—অস্ট্রেলিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, লাওস ও থাইল্যান্ড। এই আট দলকে নিয়ে আগামী বছর ৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডে হবে চূড়ান্ত পর্ব।

এক লাফে নদী থেকে সাগরে গিয়ে পড়েছে কৃষ্ণা-সানজিদারা। সেখানে সাঁতরানো যে কঠিন সেটা উপলব্ধি করতে পারছে বাফুফে। তাই মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ পেশ করেছেন নতুন পরিকল্পনা, ‘দলের ২৩ ফুটবলার এসে গেছে, তাদের নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আবাসিক ক্যাম্প। তাদের সব দায়িত্ব নেবে বাফুফে। লেখাপড়া থেকে শুরু করে তাদের খাওয়া-দাওয়া সবই বাফুফের দায়িত্ব। ’ পরিকল্পনাপত্রে চারজন শিক্ষক নিয়োগের কথা আছে। বাফুফে ভবনে বসেই তারা লেখাপড়া করবে এবং স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসবে। প্রতি দেড় মাস পর পর মা-বাবা বাফুফে ভবনের আবাসিক ক্যাম্পে এসে দেখা করে যাবে। এমন ফুটবল ক্যাম্প একদমই নতুন।

মূল কোচিং স্টাফ যেরকম ছিল সেরকমই থাকছে। অর্থাৎ গোলাম রব্বানী ছোটনই থাকছেন হেড কোচ হিসেবে, সহকারী মাহবুবুর রহমান লিটু ও অনন্যা। এর সঙ্গে ফিজিক্যাল ট্রেনার, গোলরক্ষক কোচ এবং নারী ফিজিওথেরাপিস্ট যোগ করা হবে। নিবিড় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এই দলকে নিয়ে আগামী এক বছরে ৫/৬টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা আছে। ‘আমরা চাই সাফ অঞ্চলের বাইরে গিয়ে শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে। কয়েক মাস পর পর এরকম ম্যাচ খেললে আমাদের দলের উন্নতিটা বোঝা যাবে’—বলেছেন মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান। এর মধ্যে বাফুফে সভাপতি মাসিক ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমি বেতন বলব না, এই মেয়েদের মাসিক ভাতা দেবে বাফুফে। পুরুষ দলের চেয়েও তাদের বেশি দেওয়া হবে। টাকার অঙ্কটা আমি বলছি না, ইতিমধ্যে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মহিলা ফুটবলের সঙ্গী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ’

এক বছরের এই বিলাসী পরিকল্পনা সফল করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত না অর্থাভাবের কবলে পড়ে সিলেটের বাফুফে একাডেমির মতো অচলাবস্থা হয়ে যায়। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কণ্ঠে কঠিন প্রতিজ্ঞা, ‘আমি যত দিন বেঁচে আছি এবং বাফুফের সভাপতি পদে আছি, এই পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হবে। না পারলে পদত্যাগ করে চলে যাব। ’ নারী ফুটবল নিয়ে তিনি ভীষণ সিরিয়াস। চূড়ান্ত পর্বে যেন দেশের মেয়েরা অন্তত লড়াই করতে পারে সে জায়গায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আসলে দেশের ফুটবল পতাকা তো এখন এই কিশোরীদের হাতেই।


মন্তব্য