kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দাবায় ভরাডুবির নতুন ওেশজ্ঞি

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দাবায় ভরাডুবির নতুন ওেশজ্ঞি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাকু রওনা হওয়ার আগেই শঙ্কা জেগেছিল। গ্র্যান্ডমাস্টাররা শঙ্কা উড়িয়ে আশার পালে হাওয়া দিয়েছিলেন।

সেই আশা হেরেছে শঙ্কার কাছে, দাবা অলিম্পিয়াড ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ। দেশের দাবা অলিম্পিয়াড ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৭৬তম হয়েছে চার জিএম ও এক আইএমে গড়া পুরুষ দাবা দল।

১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে দাবা অলিম্পিয়াডে। বাকুর ভরাডুবির আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে ফল ছিল ২০১০ সালের রাশিয়া অলিম্পিয়াডে, ৭৩তম হয়েছিল সেবার। সেটাকেও ছাড়িয়ে গিয়ে এবার আরো অধঃপাতে যাওয়ার নজির গড়েছেন নিয়াজ-জিয়া-রাজীব-রাকিবরা। অথচ তাঁরা বাকু গিয়েছিলেন ২০১২ সালে ইস্তাম্বুল অলিম্পিয়াডের গৌরবকে ছোঁয়ার লক্ষ্যে। সেই আসরে ৩৩তম হয়ে বাংলাদেশ সেরা কীর্তি গড়েছিল ভারতকে পেছনে ফেলে। সেই ভারত এবার শিরোপার জন্য লড়েছে, অলিম্পিয়াডের শীর্ষ দল রাশিয়ার সঙ্গে ড্র করে হয়েছে চতুর্থ! আর বাংলাদেশ গড়ছে পেছনে যাওয়ার রেকর্ড। নারী দলও পিছিয়ে ৭৭তম স্থানে।

দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচহীন বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য পারফরম্যান্স নিয়ে যুগপৎ প্রশ্ন এবং শঙ্কা জেগেছিল। দাবা ফেডারেশনের সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীমের জবাব ছিল, ‘আমরা কোচের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অল্প সময়ের জন্য কোনো ভালো কোচ আসতে চায়নি। ’ খারাপের শঙ্কা উড়িয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব বলেছিলেন, ‘আমরা নিজেরা মিলে প্রায় এক মাস ক্যাম্প করেছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি। আশা করি রেজাল্ট খারাপ হবে না। ’ বাস্তবে হয়েছে খুব খারাপ। এ জন্য বেশি দায় রাজীবেরই, এক নম্বর বোর্ডে অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে যত ভালো খেলেছেন ঠিক ততটাই খারাপ খেলেছেন দুর্বল প্রতিপক্ষ কাতার ও আরব আমিরাতের দাবাড়ুর সঙ্গে। দুই দেশের দুই জিএমের সঙ্গে তিনি হেরে গেছেন। আরব আমিরাতের সঙ্গে ২-২ পয়েন্টে ড্র এবং কাতারের কাছে ২.৫-১.৫ পয়েন্টে হেরে যাওয়ায় এত নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। আইএম আবু সুফিয়ান শাকিল মনে করেন ‘কাতারের কাছে হারটাই আমাদের রেজাল্ট খারাপ করে দিয়েছে। তাদের হারালে আমরা ঠিকই চল্লিশের ঘরে চলে আসতাম। এটা একদম অপ্রত্যাশিত হার। নইলে রাজীব এক নম্বর বোর্ডে খুব ভালো খেলেছে। নিয়াজ ভাইও দুর্দান্ত খেলেছেন প্রথম পাঁচ গেম। ’ দশম রাউন্ড শেষে বাংলাদেশ ছিল ৫৬তম অবস্থানে। একাদশ ও শেষ রাউন্ডে কাতারের সঙ্গে জিতলেই পুরো চেহারা পাল্টে যেত।

দাবায় শেষ রাউন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটা হলো দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে জেতা নিশ্চিত করা। সেটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হলেই রেজাল্ট ভালো হয়। সঙ্গে বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কিংবা ড্র করে অঘটন ঘটিয়ে দিলে দলের অবস্থানগত উন্নতি হয় অভাবনীয়। বাংলাদেশের বেলায় হয়েছে উল্টো। চার গ্র্যান্ডমাস্টারের মধ্যে রাজীব ও জিয়াউর রহমান ১০ গেমে ৫.৫ পয়েন্ট করে, আবদুল্লাহ আল রাকিব ৯ গেমে ৫ পয়েন্ট ও নিয়াজ মোরশেদ ৮ গেমে ৫.৫ পয়েন্ট পেয়েছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মাস্টার মিনহাজ উদ্দিন সাগর ৭ গেম খেলে পেয়েছেন ৫ পয়েন্ট।


মন্তব্য