kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওয়ারিঙ্কাকে নিয়ে ‘বিগ ফাইভ’!

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ওয়ারিঙ্কাকে নিয়ে ‘বিগ ফাইভ’!

গত বছর রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতার পরই আলোচনাটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে হারানোর পর আরো জোরালো সেই গুঞ্জন—বিগ ফোর কি তবে ভেঙেই দিলেন স্তানিসলাস ওয়ারিঙ্কা!

ক্যারিয়ারে তিনটি মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে তিনটিতেই শিরোপা।

প্রতিপক্ষ নাদাল ও জোকোভিচই। এবার ১৩তম গ্র্যান্ড স্লামের সন্ধানে আসা জোকোভিচকেই দ্বিতীয়বার হারালেন ওয়ারিঙ্কা। প্রথমবার গত বছরই ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে। নাদাল বধ তার আগের বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। নাদালের ক্যারিয়ার গত কয়েক বছর ধরেই অবশ্য পতনের দিকে। কিন্তু জোকোভিচ তো তা নন। রজার ফেদেরার-নাদালের পর টেনিস বিশ্ব প্রায় একা হাতে শাসন করছেন সার্বিয়ান তারকা। শারীরিক সামর্থ্য, সঙ্গে কঠিন মানসিকতায় তাঁর সঙ্গে তুলনীয় কেউ নয়, এমনই বলা হচ্ছিল। কিন্তু এবারের ইউএস ওপেন ফাইনালে সেই সব দিক থেকেই জোকোভিচকে টক্কর দিয়ে গেছেন ওয়ারিঙ্কা। প্রথম সেট ৬-৭ এ হারের পর টানা তিন সেট জিতে (৬-৪, ৭-৫ ও ৬-৩) তিনি ম্যাচ জিতে নিয়েছেন। কোর্টে দারুণ সাবলীল ওয়ারিঙ্কার বিপরীতে জোকোভিচকেই বরং ভঙ্গুর মনে হয়েছে। শেষ সেটে পায়ের শুশ্রূষার জন্য দুইবার টাইম আউট নিয়েছেন, প্রথমবার ১-৩ এ পিছিয়ে থাকা অবস্থায়। যা নিয়ে বেশ বিতর্কও হয়েছে সুযোগের অপব্যহার হচ্ছে কি না সে প্রশ্নে। তবে ওয়ারিঙ্কার ছন্দ কিছুতেই নষ্ট করা যায়নি। দাপটেই তিনি ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জিতে নিয়েছেন। বিগ ফোরের অন্যতম অ্যান্ডি মারের সমান এখন তাঁর অর্জন।

নিজেকে এখন বিগ ফাইভের একজন মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নে অবশ্য বিনয়ী উত্তরই ৩১ বছর বয়সী ওয়ারিঙ্কার, ‘গত দশ বছর ধরে তারা এই পর্যায়ে আছে। প্রতিটি মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনাল, সেমিফাইনাল এমনকি মাস্টার্সেরও সেরা চারে তাদেরই দেখা গেছে। তাই আমার মনে হয় এটি ঠিক হবে না। বিগ ফোর টেনিস ইতিহাসেরই অংশ হয়ে গেছে এর মধ্যে। ’ তবে নিজেকে তিনি যতটাই আলোচনার বাইরে রাখতে চান, প্রশংসা তাঁর জন্য থেমে থাকছে না। জোকোভিচই যেমন তাঁকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন, ‘দরকারি সময়ে ওর চেয়ে সাহসী খেলোয়াড় আর হয় না। শিরোপাটা ওরই প্রাপ্য ছিল। ’ ওদিকে কোর্টে টাইম আউট নিয়ে বিতর্কে জোকোভিচকে মোটেও দোষী ভাবছেন না ওয়ারিঙ্কা, বরং সার্বিয়ান এ তারকাকে অনুপ্রেরণা মেনেই যে তাঁর এত দূর আসা সেটিই বলেছেন অকপটে, ‘জোকোভিচই সেরা এবং অসাধারণ একজন। আমি যে আজ এখানে তার অনুপ্রেরণাও সে। ’ তার পরও তিনটি মেজরের ফাইনালে উঠে তিনটিতেই জয়, সেই কীর্তিতে ওয়ারিঙ্কা নিজেও যে অভিভূত, ‘সত্যিই এ অবিশ্বাস্য। কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করেই আমি কোর্টে নেমেছি, কিন্তু প্রতিবারই আমি জিতেছি। সত্যি বলতে আমার দেওয়ারও আর কিছু বাকি নেই। এই মুহূর্তের অনুভূতি আমি বোঝাতে পারব না। এমনটা আগে কখনোই হয়নি। আমার সব সময়ই লক্ষ্য থাকে নিজের সেরাটা দেওয়া, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। ’ এভাবেই টেনিসে নিজেকে বারবার চেনাচ্ছেনও তিনি। বিগ ফোর এখন বিগ ফাইভ তো বলাই যায়। মেইল অনলাইন


মন্তব্য