kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মরগানের অনুপস্থিতি বিভক্তি ডেকে আনবে না

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মরগানের অনুপস্থিতি বিভক্তি ডেকে আনবে না

নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক এউইন মরগান। স্পষ্ট করেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন আইপিএল খেলার সময় বেঙ্গালুরুতে বোমা বিস্ফোরণ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার সময় নির্বাচনী সহিংসতা দেখায় পরবর্তী সময়ে কোনো রকম সম্ভাব্য অনিরাপদ পরিস্থিতির দিকেই আর পা বাড়াবেন না।

ওয়ানডে অধিনায়কের অনুগামী অ্যালেক্স হেলসও। কদিন আগেই ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়া হেলসও আসবেন না বাংলাদেশ সফরে, তাতে করে টেস্ট দলে জায়গা হারাবার ঝুঁকিতে আছেন তিনি। ইংল্যান্ড দলের সমর্থক গোষ্ঠী বার্মি আর্মিও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কামুক্ত হতে না পারার কারণে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা মেনে তারা না আসার সিদ্ধান্তই নিয়েছে। এই যখন অবস্থা, তখন দায়িত্ব পেয়ে বুক চিতিয়েই বিরুদ্ধস্রোতে দাঁড়িয়েছেন জস বাটলার। বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে দলের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত জানিয়ে বাটলার স্পষ্ট করে বলেছেন, খেলোয়াড়দের বাংলাদেশ সফরে আসা না-আসা নিয়ে এই মতবিরোধ ড্রেসিংরুমে কোনো বিভক্তি ডেকে আনবে না।

‘এতে করে ড্রেসিংরুমে কোনো বিভেদ তৈরি হবে না, এটা নিশ্চিত। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো। দলের সবাই আমরা একে অন্যের ভালো বন্ধু, আমরা সেভাবেই থাকতে চাই। আমাদের মাঝে কোনো বিভক্তির প্রাচীর মাথা তুলতে দেব না। ’—মরগান ও হেলসের বাংলাদেশ সফরে না আসা নিয়ে সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন বাটলার। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশ সফর শেষেই আবার দায়িত্ব বুঝে নেবেন মরগান ‘মরগানই ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। সে যখনই খেলতে পারবে, তখনই সে দায়িত্ব বুঝে নেবে। ’ অনেকের সফরে না আসা নিয়ে বাটলারের বক্তব্য, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সবার জন্যই কঠিন ছিল। গণমাধ্যমে অনেক কিছু পড়ে ও দেখেশুনে সবারই কিছু দুশ্চিন্তা হয়। ক্রিকেটের বাইরেও জগতে অনেক কিছু আছে, যার অনেক কিছুই আমরা ক্রিকেট খেলতে গিয়ে দেখতে চাই না। ’ বাটলার এসব বললেও ব্রিটিশ গণমাধ্যমের একাংশের ধারণা, দলে জায়গা ফিরে পেতে কষ্ট হবে মরগান ও হেলসের। বাংলাদেশ সফরের সময়ে দলে যদি একটা জোট গড়ে ওঠে তাহলে সেখানে মরগানের জায়গাটা নাও হতে পারে। সাবেক আইরিশ ক্রিকেটার মরগান কখনোই খুব বন্ধুবৎসল ছিলেন না, সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে না আসায় টিম ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু স্টাউসের বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ সফরে জনি বেয়ারস্টো, স্যাম বিলিংস, বেন ডাকেট ভালো পারফর্ম করলে হয়তো বাংলাদেশ সফরের পরপরই সূচিতে থাকা ভারত সফরে নিশ্চিত করে লেখা যাবে না মরগানের নাম। ঝুঁকিটা বেশি নিচ্ছেন হেলস, টেস্ট ওপেনারের জায়গাটা নিয়ে। তাঁর কাউন্টি দল নটিংহ্যাম্পশায়ার নেমে গেছে দ্বিতীয় বিভাগে, বছরের বড় একটা সময় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতেই ব্যস্ত থাকা হেলস বাংলাদেশ সফরে না আসায় অ্যালিস্টার কুকের নতুন যে সঙ্গী হবেন তাঁকেই হয়তো বাংলাদেশ ও ভারত সফর মিলিয়ে ৭ টেস্টেই সুযোগ দেবেন নির্বাচকরা। তাতে করে টেস্ট দলে ফেরার রাস্তাটা হয়তো বন্ধই হয়ে যেতে পারে হেলসের।

বাংলাদেশ সফরে এসে হয়তো প্রতিপক্ষ দর্শকদের উল্লাসই দেখতে হবে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের, তাদের সাফল্যে গলা মেলাবার খুব বেশি কাউকে না পাওয়ারই কথা। ‘বার্মি আর্মি’ আসছে না বাংলাদেশে। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের সংগঠনের ওয়েবসাইটে ভারত সফরের বিভিন্ন ভ্রমণ ও খেলা দেখার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ব্রিটিশ ফরেন অফিসের (এফসিও) সতর্কতা মেনে সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশ সফরে না আসার সিদ্ধান্ত তাদের। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কারো ভ্রমণকে নিরুৎসাহ করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে তারা। মেইল অনলাইন


মন্তব্য