kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্টেফির ২০ বছর পর কেরবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্টেফির ২০ বছর পর কেরবার

ক্যারোলিনা প্লিসকোভার ফোরহ্যান্ডটা বাইরে যেতেই শুয়ে পড়লেন কোর্টে। এরপর দৌড়ে গ্যালারিতে।

জড়িয়ে ধরলেন কোচকে। কোর্টে ফিরে আর ধরে রাখতে পারলেন না নিজেকে। কাঁদতে কাঁদতে অ্যাঞ্জেলিক কেরবার বলছিলেন, ‘সেই ছোট্টটি থেকে স্বপ্ন দেখতাম গ্র্যান্ড স্লাম জেতা আর র্যাংকিংয়ের চূড়ায় পৌঁছনোর। স্বপ্ন পূরণ হলো আমার। ’ বছরের শুরুতে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে জিতেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। ইউএস ওপেনের ফাইনালে পৌঁছে প্রথমবারের মতো স্বাদ পান র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানের মুকুট মাথায় পরার। আর বছরের শেষটা হলো ইউএস ওপেনের নতুন রানি হয়ে। গত পরশু ফ্ল্যাশিং মিডোর ফাইনালে প্লিসকেভাকে ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪ গেমে হারান স্টেফি গ্রাফের দেশের এই তারকা। ১৯৯৬ সাল অর্থাৎ ২০ বছর বাদে স্টেফির পর প্রথম জার্মান হিসেবে ইউএস ওপেন জিতলেন তিনিই। শিরোপা জয়ের পর পর স্টেফি খুদে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন অভিবাদন। কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি কেরবারও, ‘তিনিই আমার আদর্শ। অনেকবার স্টেফি গ্রাফকে বলেছি কথাটা। ’

দশম বাছাই প্লিসকোভা অবশ্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়েছেন ফাইনালে। প্রথম সেট হারার পর দ্বিতীয় সেটটা পাওয়ার টেনিসে জিতেন ৪-৬ গেমে। তৃতীয় সেটেও লড়ছিলেন পাল্লা দিয়ে। একটা সময় স্কোরে সমতা ছিল ৩-৩ ও ৪-৪। তবে শেষ দুটো গেমে দাপট কেরবারের। ষষ্ঠ গেমে ৪০-০-তে এগিয়ে যাওয়ার পর প্লিসকোভার সেই ভুল। ফোরহ্যান্ডটা মারলেন বাইরে। এক আঙুল দিয়ে ‘নাম্বার ওয়ান’ বুঝিয়ে কেরবারের বুনো উদ্‌যাপন এর পর থেকে। ম্যাচটা কেরবার জিতলেও প্লিসকোভাকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা, ‘অসাধারণ ফাইনাল উপভোগ করলাম। কেরবার, প্লিসকোভা উপহার দিল দারুণ এক ম্যাচ। ’ প্লিসকোভাকে সান্ত্বনা জানালেন কেরবারও, ‘দ্বিতীয় সেটে প্লিসকোভা বুঝিয়েছে কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও। ইউএস ওপেনে ওর কাছে হেরেছি প্রথম কোনো সেট। শুভকামনা রইল প্লিসকোভার জন্য। ’

এর আগে খেলা ১৭ গ্র্যান্ড স্লামের কোনোটিতে তৃতীয় রাউন্ডের বাধা পার হননি প্লিসকোভা। এবার চতুর্থ রাউন্ডে ভেনাস আর সেমিফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে নাম লিখিয়েছিলেন ফাইনালে। কিছুদিন আগে সিনসিনাটি ওপেনের ফাইনালে বিধ্বস্ত করেছিলেন কেরবারকেও। সেই আবেগে কিনা ফাইনালে করলেন ৪৭টা আনফোর্সড অ্যাররস। ৪০টা উইনার্সের পরও ম্যাচটা হাতছাড়া হয়েছে তাতে। বিপরীতে কেরবারের আনফোর্সড এররস মাত্র ১৭টি। স্নায়ুর চাপে না ভুগে এমন সাফল্য তাঁর, ‘আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখেছি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইানালে সেরেনাকে হারানোর পর থেকে। আমার ভালো খেলার শুরুটা অবশ্য পাঁচ বছর আগের ইউএস ওপেনে। সেবার পৌঁছেছিলাম সেমিফাইনালে। সেখানেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারাটা বিশেষ কিছু। ’

র‍্যাংকিংয়ের ১০-এ থেকে গত বছর শেষ করেছিলেন কেরবার। ২০১৬-র শুরুতে জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। ফাইনাল খেলেছেন উইম্বলডন আর রিও অলিম্পিকের। নিউ ইয়র্কে র্যাংকিংয়ের চূড়ায় বসে জিতলেন শিরোপাও। সত্যিই টেনিসের নতুন রানি এখন ২৮ বছর বয়সী কেরবার। এএফপি


মন্তব্য