kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট হয়েই আসছে ইংলিশরা

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট হয়েই আসছে ইংলিশরা

নিরাপত্তা প্রস্তুতি : সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গেছে। সপ্তাহ দুয়েক পরই বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। সে জন্য ব্যাট-বলের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত মাশরাফি-মুশফিকরা। ওদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রস্তুতি আবার ভিন্ন। সফরকারী দলকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে যে! শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের চারপাশের দেয়ালে তাই সংযোজন করা হচ্ছে নিরাপত্তার নতুন প্রলেপ। ‘হোম অব ক্রিকেট’ তাতে নিশ্চিদ্র হচ্ছে আরেকটু। ছবি : কালের কণ্ঠ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সফরের ইংল্যান্ড দল ঘোষণা হতে আরো কয়েক দিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে এউইন মরগান ও অ্যালেক্স হেলস আসবেন না।

অন্যদের মধ্যে কেউ যেন ওই দুজনকে অনুসরণ না করেন, এ জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সে দেশের গণমাধ্যমের খবর।

আর বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা যেন না থাকে, সে জন্য তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইংল্যান্ডের সংবাদপত্র ডেইলি মেইল জানাচ্ছে, সফরের সময় ইংল্যান্ডের হোটেল ও মাঠে থাকবেন স্নাইপাররা। সামনের রাস্তায় থাকবে কামান। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে হোটেলে থাকবেন, এর চারপাশে গড়ে তোলা হবে ইস্পাতসম নিরাপত্তা বলয়। অনুশীলন ও ম্যাচের বাইরে হোটেল থেকে বের হওয়ার ওপর জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এক রকম হোটেলবন্দি হয়েই থাকতে হবে। এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতেই পারেন ক্রিকেটাররা।

এমনিতে বিদেশ সফরে অনেক সময় তাদের সঙ্গী হয় পরিবার। এবার অবশ্য কোনো ক্রিকেটারই বাংলাদেশে আনছেন না পরিবারকে। কিন্তু ইসিবির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রেগ ডিকাসন সফর শেষে ফিরে যে প্রতিবেদন দেন, তাতে আশ্বস্ত হয়ে ইংল্যান্ড আসছে বাংলাদেশে। ইসিবির এক মুখপাত্র যেমন ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘যেকোনো সময় আমাদের যেকোনো সফরের সময় খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের নিরাপত্তার ব্যাপারটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ সফরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা পেয়েছি। কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা আছে সেখানে। ’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো থেকে তথ্য নিয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, পুরো সফরজুড়েই করব। ’

সফর তো হচ্ছে; কিন্তু মরগান না এলে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক খুঁজতে হবে ইংল্যান্ডকে। সে ক্ষেত্রে সহ-অধিনায়ক জস বাটলারের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে উইকেটরক্ষক হিসেবে এমনিতেই বাড়তি দায়িত্ব থাকায় দীর্ঘমেয়াদে অধিনায়কত্ব হয়তো দেওয়া হবে না তাঁকে। সে ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারেন জো রুট। তবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে স্থায়ীভাবে ওয়ানডে অধিনায়ক বদলের সম্ভাবনা কম। তখন পর্যন্ত দায়িত্বটা হয়তো মরগানেরই থাকছে। আর এ সময়ে দলের পারফরম্যান্সেই বোঝা যাবে, ২০১৯ পর্যন্ত দলকে টেনে নেওয়ার যোগ্য অধিনায়ক তিনি কি না। এরই মধ্যে খেলোয়াড়দের নিশ্চিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ সফর থেকে সরে দাঁড়ানোয় বোর্ড তাঁদের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না। তবে স্ট্রাউস আবার এ-ও স্পষ্ট করেন, বদলি খেলোয়াড়রা যদি ভালো পারফর্ম করেন, তাহলে পুরনোদের ফেরা কঠিন হবে।

২০১৫ সালের মে মাসে ইসিবির ডিরেক্টর অব ক্রিকেট পদে নিয়োগ পান স্ট্রাউস। তাঁর মনোযোগের বড় জায়গাজুড়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেট। ওয়ানডেতে গত ১৮ মাসে দারুণ কিছু ফলও পায় ইংল্যান্ড। ‘সাদা বলের ক্রিকেট আরো সিরিয়াসলি নেওয়ার ব্যাপারে আমি অনেকবার কথা বলেছি। তবে তাতে যেন বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্যে ভারসাম্য থাকে। আমার মনে হয় না, এখনকার কেন্দ্রীয় চুক্তি সিস্টেমে তা রয়েছে। আমরা তেমন এক সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করছি’—বলেছেন স্ট্রাউস। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দল নির্বাচনী বেশির ভাগ সভায় ছিলেন স্ট্রাউস, যদিও ভোট দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। জেমস হুইটেকারের নেতৃত্বের নির্বাচনী প্যানেল নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। যেখানে আরো আছেন মিক নিওয়েল, অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার এবং কোচ ট্রেভর বেলিস। এ নিয়ে সন্তুষ্ট স্টাউস, ‘আমি আসার পর থেকে দেখছি, নির্বাচনী পদ্ধতি দারুণভাবে কাজ করছে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তাদের সঠিক তথ্য দেওয়া। প্রযুক্তির আরো ভালো ব্যবহার, বিশ্লেষণ করে আমাদের দল নির্বাচন করা হয়। ’

তবে মরগান-হেলসরা বাংলাদেশ সফরে না গেলে দল নির্বাচন নিয়ে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তা থেকে যাবে ইংল্যান্ডের। ডেইলি মেইল, ক্রিকইনফো


মন্তব্য