kalerkantho


মরগান না এলে বাটলার অধিনায়ক

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মরগান না এলে বাটলার অধিনায়ক

গতকাল ছিল এউইন মরগানের ৩০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক যতটা শুভকামনা পেয়েছেন, এর চেয়ে বেশি বোধ হয় পেয়েছেন বাংলাদেশ সফরে আসার অনুরোধ! ফেসবুকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাটা একেবারে কম নয়, ১২ লাখের বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই কাল তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় লিখেছে, বাংলাদেশ সফর নিয়ে মরগান যেন তাঁর মনোভাবটা বদলান। কেউ কেউ সমালোচকের ভূমিকা নিয়ে তীক্ষ বাক্যবাণ হানলেও কোমল সুরই ছিল বেশি। তাঁকে ফেসবুকে অনুরোধ জানানোদের তালিকায় বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সবুজ সংকেত ও আইসিসির ধন্যবাদের পর ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেলেও মরগানের অসম্মতি আটকে ছিল গলার কাঁটা হয়ে। সেটা দূর করতে বাংলাদেশের সমর্থকদের সুরটা অনুরোধের হলেও ব্রিটিশ মিডিয়ার সুরটা কড়া।

আইপিএলে খেলার সময় বেঙ্গালুরু স্টেডিয়ামের বাইরে বোমা বিস্ফোরণ ও বাংলাদেশে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময় নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা দেখার দুঃস্মৃতি থেকেই মরগানের এমন সিদ্ধান্ত—জানিয়েছেন তিনি নিজেই। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য ইসিবি তাঁকে আজকের দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছে। মরগানও বলেছেন তিনি সতীর্থ কাউকে না যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেবেন না, বরং ব্যাপারটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত। যদিও অ্যালেক্স হেলসও চাইছেন না বাংলাদেশে আসতে। এসবের জন্য ইংল্যান্ডের টিভি সাংবাদিক পিয়ারস মরগান টুইটারে খোলাখুলিই আঙুল তুলেছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়কের দিকে, ‘এসব নাকি কান্না বন্ধ করো। হয় বাংলাদেশে যাও, নয়তো অধিনায়কত্ব ছাড়ো। নেতারা নেতৃত্ব দেয়, অজুহাত দেখায় না। ’ সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের অনেকেও টুইটারে সমালোচনা করছেন মরগানের। আয়ারল্যান্ডে জন্মানো ও শুরুতে আয়ারল্যান্ডের হয়েই ক্রিকেট খেলা মরগানকে নিয়ে আইরিশ-ব্রিটিশ একটা দ্বন্দ্ব ছিল সব সময়, যার আঁচটা টের পাওয়া গিয়েছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ইংল্যান্ডের হারের পর। তবে পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের ভালো পারফরম্যান্সে সেসব চাপা পড়ে গেলেও এখনকার পরিস্থিতিতে আবারও বেরিয়ে আসছে সেসব। সাধারণ এক ব্রিটিশ নাগরিক ক্রিস স্টুয়ার্ট টুইট করেছেন, ‘ইংল্যান্ড দলের উচিত মরগানকে স্রেফ বসিয়ে দেওয়া আর ওর জায়গায় অন্য কাউকে নেওয়া। ’ এমন মানসিকতার লোক তো আর স্টুয়ার্ট একা নন!

মরগান যদি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত না পাল্টান, তাহলে ওয়ানডেতে জস বাটলারকে অধিনায়ক বানিয়ে পাঠাবে ইসিবি। আন্তর্জাতিক স্তরে বাটলার এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটাও মরগানের অনুপস্থিতিতে। আগে অবশ্য বয়সভিত্তিক ও দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন, এবারে ৩ ওয়ানডের গোটা সিরিজের জন্যই যদি দায়িত্ব পেয়ে যান তাহলে মন্দ লাগবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন এরই মধ্যে, ‘আমার তো সেই অভিজ্ঞতাটা ভালোই লেগেছিল। ’ পর পর দুটো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারা ইংল্যান্ড দলের জন্য বাংলাদেশ সফরটা হবে চ্যালেঞ্জিং। উপমহাদেশের উইকেটে অধিনায়ককে সন্ধ্যার শিশির থেকে শুরু করে বোলারের ওভার রেটসহ অনেক কিছু নিয়েই মাথা ঘামাতে হবে। সেটায় যদি বাটলার উতরে যান, তাহলে কি ফের নিজের জায়গাটা ফিরে পাবেন এই আইরিশ? দলের পরিচালক অ্যান্ডু্র স্ট্রাউস কিন্তু খেলোয়াড়দের আগেই বলেই দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ সফরে না গেলে যে ঝুঁকিটা তোমরা নিচ্ছ সেটা হলো তোমরা আরেকজনকে জায়গাটা নেওয়ার একটা সুযোগ করে দিচ্ছ। ’

অ্যালিস্টার কুক চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে মাঠে থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিয়ে বেশ চাপেই ফেলে দিয়েছেন মরগানকে। এখন বাটলার, বেন স্টোকস, জো রুটরা যদি বাংলাদেশ সফরে বড় রান করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে চাপ বাড়বে মরগানেরই ওপর। টেলিগ্রাফ ইউকে


মন্তব্য