kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বদলে যেতে পারে ক্রিকেট কাঠামো

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শেষ হয়ে গেছে টেস্ট ক্রিকেটকে দুই স্তরে ভাগ করার সম্ভাবনা। আইসিসি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটকে দুই স্তরে ভাগ করার প্রস্তাবনা থেকে সরে এসেছে তারা।

তবে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের রোমাঞ্চ ধরে রাখতেই ক্রিকেট কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে আইসিসির পক্ষ থেকে। দুবাইতে সদস্য দেশগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আয়োজিত আইসিসির ক্রিকেট কাঠামো কর্মশালা শেষে উঠে এসেছে অনেক প্রসঙ্গই। তাতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, টিভি স্বত্বের প্যাকেজ ডিলসহ নানা কিছুই স্থান পেয়েছে আলোচনায়। প্রধান নির্বাহীরা দেশে ফিরে নিজ নিজ বোর্ডের বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনের।

আইসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত এখন দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী। নিজ মেয়াদে লরগাত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালুর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে টেস্টে দ্বিস্তর পরিকল্পনা বেশ কিছু সদস্য দেশের বিরোধিতার মুখে ভেস্তে যাওয়াতে নতুন করে সেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়। তাঁর কাছ থেকেই শোনা গেল, ‘এখন আমরা সর্বোচ্চ যেটা করতে পারি, বর্তমান র্যাংকিং পদ্ধতির ভেতর থেকেই একটা চ্যাম্পিয়নশিপ মডেল তৈরি করতে পারি, যেখান থেকে দুই বছর পর পর শীর্ষ দুই দল হয়তো ফাইনাল খেলল। যদিও একেবারে নিখুঁত কিছু নয়, তবে এটা হয়তো সব সদস্য দেশ একমত হবে। কোনো কিছু না করাটা কোনো কাজ হতে পারে না। ’

আইসিসিতে কোনো প্রস্তাবের পক্ষে ১০ পূর্ণ সদস্য দেশের সাতটির ভোট থাকতে হয়। কাগজ-কলমে ভোট না হলেও টেস্টের দুই স্তর পরিকল্পনায় ছয়টি দেশ পক্ষে থাকলেও ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে গিয়েছিল বিভাজনের বিরুদ্ধে। তাই শেষ পর্যন্ত দুই স্তর না হলেও টেস্ট ক্রিকেট ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠে এসেছে কর্মশালায়। তাতে প্রতি দুই বছর পর পর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনাল আয়োজন যেটা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনই অগ্রাধিকার পাবে। এই প্লে-অফ ২০১৯ সালের ভেতরেই বার্ষিক সূচিতে জায়গা করে নেবে। এর পাশাপাশি ওয়ানডেতে লিগ কাঠামো দাঁড় করানো, যা একই সঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব হিসেবেও কাজ করবে। তিন বছর ধরে প্রতিটি দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে কমপক্ষে একটি সিরিজ খেলবে প্রস্তাবিত ওয়ানডের লিগে, লিগের শেষ বছরটা আসন্ন বিশ্বকাপে যারা সরাসরি জায়গা পাবে না তাদের বাছাই পর্ব হিসেবে গণ্য হবে। একই ব্যবস্থা টি-টোয়েন্টির জন্যও। সীমিত ওভারের ক্রিকেট সিরিজে ন্যূনতম তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি থাকতে হবে। এ ছাড়া ক্রিকেটের বিপণনে কিছু সংস্কারের প্রস্তাবও এসেছে। সনি ইএসপিএন টেন স্পোর্টস কিনে নেওয়াতে ক্রিকেটের সম্প্রচারে ভারতীয় উপমহাদেশীয় অঞ্চলে ক্রেতার সংখ্যা কমে ঠেকেছে দুইয়ে। তাই দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক হোম ও অ্যাওয়ে ট্যুরগুলোকে নিয়ে প্যাকেজ আকারে একই সম্প্রচার সংস্থার কাছে বিক্রিতে একজোট হওয়ার কথা ভাবছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড। তবে ক্রিকেট কাঠামোয় এসব পরিবর্তন এখনই চূড়ান্ত কিছু নয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেপ টাউনে হবে প্রধান নির্বাহীদের কমিটি ও বোর্ডের বৈঠক। সেখানেই আরো আলোচনা হবে—এমনটাই জানিয়েছেন লরগাত। ক্রিকইনফো


মন্তব্য