kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মরগানের না আসা নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলাদেশ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মরগানের না আসা নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এউইন মরগানের মানসিকতা ছিল অফ স্টাম্পের ঠিক বাইরের বলে মুখোমুখি হওয়ার মতো। খেলবেন নাকি ছাড়বেন—দ্বিধায় ছিলেন এ নিয়ে।

তবে গত কিছু দিনে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়কের কথাবার্তায় বাংলাদেশ সফর ‘ছেড়ে দেওয়ার’ ইঙ্গিতই ছিল। এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাননি বটে। তবে কাল ইংলিশ গণমাধ্যমে বলা তাঁর কথাবার্তায় তা স্পষ্ট হয় আরেকটু। নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ সফরে না আসার সিদ্ধান্তই হয়তো নিতে যাচ্ছেন মরগান।

‘এর আগে দু-একবার নিরাপত্তার কারণে ক্রিকেট থেকে আমার মনোযোগ নড়ে যায়। তখনই নিজেকে বলেছি, অমন পরিস্থিতিতে নিজেকে আর আমি ফেলব না’—বলেছেন ইংল্যান্ড ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। তাঁর কথাতেই ইঙ্গিত যে, বাংলাদেশ সফরে আসছেন না। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর ইংল্যান্ডের এই সফরের আকাশেই ছিল মেঘের আনাগোনা। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পাঠানো নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গেলেন। সে অনুযায়ী ইংল্যান্ডে ফিরে দেন প্রতিবেদন। তাতে সন্তুষ্ট হয়েই বাংলাদেশ সফরের সবুজ সংকেত দেয় ইসিবি। কিন্তু তাদের ওয়ানডে অধিনায়কের মন থেকে আতঙ্ক যে যাচ্ছেই না!

মরগানের মনে ভয়ের এমন বাসা বাঁধার কারণটাও বলেছেন। আর যে দুটি সহিংস পরিস্থিতির উল্লেখ করেন, এর একটির ঘটনাস্থল আবার বাংলাদেশ, ‘শেষ পর্যন্ত পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ক্রিকেট খেলার জন্য নিজের ভেতর স্বস্তি থাকা প্রয়োজন। এর আগে আমি এমন সব জায়গায় গিয়েছি, যেখানে মনোযোগ নড়ে যায়। ২০১০ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ খেলছিলাম বেঙ্গালুরুতে। তখন মাঠে বোমা পড়ে। দ্রুতই আমরা মাঠ ছাড়ি এবং সরাসরি বিমানবন্দরে চলে যাই। আরেকবার বাংলাদেশে খেলছিলাম ঘরোয়া ক্রিকেটে। ওখানে তখন নির্বাচন হচ্ছিল এবং পরিস্থিতি ছিল ভীষণ সহিংস। ’

ইসিবির ডিরেক্টর অব ক্রিকেট অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস আবার খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সফরে যাওয়া কিংবা না যাওয়ার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়ার তাগাদা দিয়েছেন। কারণ বাংলাদেশ সফরের দল ঘোষণার বাকি নেই খুব বেশি সময়। নির্বাচক ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করবেন সে দল। মঈন আলী, ক্রিস জর্ডান, লিয়ান ডসনরা এরই মধ্যে বলেছেন, স্কোয়াডে থাকলে বাংলাদেশ সফরে যেতে আপত্তি নেই তাঁদের। জনি বেয়ারস্টোর কথায়ও অভিন্ন ইঙ্গিত। কিন্তু আশ্বস্ত হতে পারছেন না মরগান, ‘আন্তর্জাতিক কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিকেট উদ্বেগ নিয়ে খেলার ব্যাপার নয়। এটি হওয়া উচিত জীবনের সেরা সময়। এর জন্য একজন খেলোয়াড়ের মুখিয়ে থাকার কথা। সেখানে ভালো করার ব্যাপারে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার কথা। ’ বাংলাদেশ সফরে এসে সে মনোযোগ যে দিতে পারবেন না, প্রকারান্তরে তা-ই জানিয়ে দেন তিনি। আর জুলাইয়ের হলি আর্টিজান হামলার পর আর কোনো দেশের বাংলাদেশ সফরে না আসাকেও দাঁড় করাচ্ছেন অজুহাত হিসেবে, ‘যেহেতু ওই সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পর আর কোনো দল বাংলাদেশ সফরে যায়নি, সে কারণে এই (যাওয়া কিংবা না যাওয়ার) সিদ্ধান্তটি বড়। ’ যদিও ওই হামলার পর বাংলাদেশে আর কোনো দেশের ক্রিকেট সফর ছিল না সূচিতে। মরগানের এ কারণটিকে তাই সফরে না আসার ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখা যায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশ্য মরগানের অমন মন্তব্যে খুব দুশিন্তার কিছু দেখছেন না। বিসিবি পরিচালক এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন তেমনটাই, ‘ইসিবি আমাদের জানিয়েছে যে ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশে আসছে। সেখানে কে থাকবে, কে থাকবে না—সেটি তাদের ব্যাপার। মরগান এমন কিছু বলে থাকলে তা নিয়ে ইসিবি যা করার করবে। আমাদের কিছু করার নেই। ’ পাশাপাশি সবাইকে আরো একবার নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি, ‘আমরা ওদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাতে সন্তুষ্ট হয়েই তো সফরে আসার সিদ্ধান্ত দেয় ইসিবি। তবে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে কারা থাকবে, কারা থাকবে না, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। সফরটি যে হচ্ছে, তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। ’


মন্তব্য