kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাল আবার গার্দিওলা-মরিনহো

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাল আবার গার্দিওলা-মরিনহো

হোসে মরিনহো মুখোমুখি হচ্ছেন পেপ গার্দিওলার। এদিকে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গেও তো গার্দিওলার দেখা হয়ে যাচ্ছে আবার।

ম্যানচেস্টার-ডার্বি এমনিতেই রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ফোটে টগবগিয়ে। সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে এই দুই বাড়তি অনুষঙ্গ। কাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-ম্যানচেস্টার সিটি দ্বৈরথের জন্য তাই যেন তর সইছে না ফুটবলপ্রেমীদের।

গার্দিওলা-মরিনহোর ‘লড়াই’য়ের ইতিহাস অনেক পুরনো। শুরুটা সেই ২০০৯ সালে, প্রথমজন যখন বার্সেলোনার কোচ, পরেরজন ইন্টার মিলানের। মাঠে শিষ্যদের ফুটবলযুদ্ধ ছাপিয়ে টাচলাইনেও মুখোমুখি হয়ে যান দুই কোচ। বলা বাহুল্য, সেখানে আগ্রাসী ভূমিকায় মরিনহোই। এরপর তিনি গেলেন রিয়াল মাদ্রিদে। দুই কোচের লড়াই পায় ভিন্ন মাত্রা। সংবাদ সম্মেলনের কথার লড়াই, টাচলাইনের পাশে বাগ্যুদ্ধ, এমনকি প্রতিপক্ষ ক্যাম্পে সহকারী কোচের চোখে আক্ষরিক অর্থেই খোঁচা মারা—কী হয়নি! এসব মিলিয়ে গার্দিওলা-মরিনহোর মুখোমুখি হওয়া কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হয়ে থাকেনি। এর চেয়েও ঢের বেশি কিছু।

মাঠের ফুটবলে জয় বেশি গার্দিওলারই। ১৬ ম্যাচের মধ্যে তাঁর দল জেতে সাতবার। তিনি বায়ার্ন মিউনিখের কোচ থাকা অবস্থায় উয়েফা সুপার কাপে মরিনহোর চেলসির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় ধরলে আটবার। অন্যদিকে পর্তুগিজ কোচ জেতেন মোটে তিনবার। ম্যানচেস্টার-ডার্বি তাই মরিনহোকে সুযোগ এনে দিয়েছে রেকর্ডে খানিকটা সমতা আনার।

ইব্রাহিমোভিচেরও যেমন সুযোগ তাঁর সামর্থ্য দিয়ে গার্দিওলাকে জবাব দেওয়ার। বার্সেলোনায় এই কোচের অধীনে খেলেন তিনি। কিন্তু দুজনের ভাবনা একই তরঙ্গে ছিল না। যে কারণে ড্রেসিংরুমে গার্দিওলাকে ‘মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ’ পর্যন্ত বলেন ইব্রা। এক মৌসুম পর স্প্যানিয়ার্ড কোচ বিক্রি করে দেন সুইডিশ তারকাকে। কালকের ম্যানচেস্টার ডার্বি তাই গার্দিওলা-ইব্রাহিমোভিচের ইগোরও লড়াই।

এবার দুই দ্বৈরথেরই লড়াইয়ের মঞ্চ আলাদা। গার্দিওলা এই মৌসুমেই আসেন ইংল্যান্ডে; কোচের দায়িত্ব নেন ম্যানচেস্টার সিটির। তাঁর ফুটবলীয় দর্শনে এখনো তাই অভ্যস্ত হয়ে ওঠার সময় পায়নি ‘সিটিজেন’রা। তাঁর মতো মরিনহোর জন্য ইংল্যান্ড নতুন না, তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ তো হলেন প্রথমবারের মতো। আর সকাল যদি দিনের পূর্বাভাস ঠিকঠাক দেয়, তাহলে নগরের দুই দলের সমর্থকদেরই আশাবাদী হওয়ার উপাদান অনেক। নতুন লিগ মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই যে জিতেছে ইউনাইটেড-সিটি! আবার ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় ইংল্যান্ডে খেলতে আসা ইব্রাহিমোভিচের শুরুটাও দুর্দান্ত। এরই মধ্যে সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। কালকের ডার্বিতে নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রাখার জন্য নিশ্চয়ই মরিয়া থাকবেন এই সুইডিশ তারকা।

নতুন দুই কোচ তাঁদের স্কোয়াডও ঢেলে সাজিয়েছেন দল বদলে। এবারে অবশ্য গার্দিওলার চেয়ে এগিয়ে মরিনহো। ইব্রাহিমোভিচের পাশাপাশি পল পগবা, হেনরিখ মিখিতারিয়ান, এরিক বেইলিকে দলে টানে ম্যানইউ। অন্যদিকে ম্যানসিটিতে আসে নোলিতো, জন স্টোনস, লেরয় সানে, ইকে গুনদোগান, ক্লদিও ব্রাভোরা। গার্দিওলার দর্শনের সঙ্গে মেলে না বলে দীর্ঘদিনের গোলরক্ষক জো হার্ট ব্রাত্য হয়ে গেছেন, তাঁর জায়গায় বার্সেলোনা থেকে আনা হয়েছে ব্রাভোকে। ডার্বিতেই আকাশি-নীল জার্সিতে গোলবারের নিচে অভিষেক হতে পারে এই চিলিয়ানের। এএফপি, মিরর


মন্তব্য