kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এই ইংল্যান্ড সেই ইংল্যান্ড

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এই ইংল্যান্ড সেই ইংল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অ্যাডিলেড ওভালে বাংলাদেশের কাছে হেরে ২০১৫-র বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড অবশ্য এখন আর সেই আগের দল নেই। অন্তত নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ ৪-১-এ জেতার পথে যেমন ক্রিকেট খেলেছে, তাতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই যায়।

বিশেষ করে ট্রেন্টব্রিজে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ৪৪৪ রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে তাদের অন্য রকম মেজাজে দেখা দেওয়াটাও সে ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে যথেষ্ট। যদিও বাংলাদেশ সফরে আসার ঠিক আগে এমন ছন্দ পেয়ে যাওয়াটা স্বাগতিক শিবিরে ভীতি ছড়াতে পারেনি একদমই। মাঝে একদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে সে বার্তা দিয়েও গেছেন সাব্বির রহমান, ‘ওরা ৪০০ করলে আমাদেরও তাড়া করার ক্ষমতা আছে। ’

যথাসময়ে সে ক্ষমতা দেখাতে পারলে ভালো, তবে লম্বা সময় ওয়ানডে না খেলার অনভ্যাস কিন্তু এখনো ঝেড়ে ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নিজেদের মধ্যে দুই ভাগ হয়ে খেলা তিন-তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচে যে ব্যাটসম্যানরা চেনা চেহারায় খুব একটা দেখা দিতে পারেননি। আশা করা যায় যে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ চেনা সেই ছন্দটা ধরিয়ে দিতে পারবে, যে ছন্দে থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। মাঝে বছর দেড়েক পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা হওয়ার মতো অনেক সাফল্য বাংলাদেশ পেয়েছে বটে তবে ইংল্যান্ডের খেলার চরিত্রও বদলেছে।

কতটুকু? দিন তিনেক আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ চলার সময় এক আলোচনায় অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশারের একটি কথাই সে ধারণা দিতে সক্ষম। তিনি বলছিলেন, ‘এই ইংল্যান্ড বেশ আক্রমণাত্মক। আর ইংলিশদের আক্রমণের সুরটা ধরে দেয় ওদের টপ অর্ডার। ’ সেই টপ অর্ডারে দুই ওপেনার জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলসের পর নামেন জো রুট। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেটি বাদ দিলে বাকি প্রত্যেক ম্যাচেই এঁদের যেকোনো একজনের ব্যাটে দেখা মিলেছে বড় ইনিংসের। আর বিশ্ব রেকর্ড গড়া ম্যাচটিতে হেলসের ১২২ বলে ১৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের পাশে জো রুটের ৮৬ বলে ৮৫ রানের ইনিংসটিও কম উল্লেখযোগ্য ছিল না।

ইংল্যান্ডের পক্ষে আশার দিক হলো ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘ সফরে আসার আগে ফর্মে আছে তাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ভারত সফরে যাওয়ার আগে তিন ওয়ানডে এবং দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসছে ইংলিশরা। ওয়ানডে দিয়েই শুরু হবে সিরিজ এবং পাকিস্তানকে নিজেদের মাঠে উড়িয়ে দেওয়ার টাটকা স্মৃতি নিয়েই আসছেন জেসন-হেলস-রুটরা। কিন্তু গত বছর নিজেদের মাঠে পাকিস্তান, ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকাও যেখানে সিরিজ হারের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে ফিরে গেছে, তখন ইংল্যান্ডের জন্য কী অপেক্ষা করছে? কিন্তু ইংলিশরাও যখন ২০১৫ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড নেই আর, এক নির্বাচক যখন তাঁদের বেশ আক্রমণাত্মক দলের মর্যাদাও দিচ্ছেন, তখন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নিরাপদ পথই ধরলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে দারুণ জমজমাট এক সিরিজই অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য। ’

ওয়ানডে সিরিজ ভাগ্য যার পক্ষেই হেলে পড়ুক না কেন, সাব্বির আগে থেকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রেখেছেন ইংলিশদের। তা নিজেদের সবশেষ সিরিজে তাঁরা পাকিস্তানের ওপর যতই চড়ে বসার নজির রাখুক না কেন। সাব্বির তো হুঙ্কারই দিয়ে রেখেছেন একরকম, ‘সব দলই নিজেদের মাটিতে বাঘ। ইংল্যান্ডও ইংল্যান্ডের মাঠে ভালো খেলেছে। কিন্তু আমাদের এখানে এলে ওদের তো আগে আমাদের স্পিনারদেরও সামলাতে হবে। ’ বিশেষ করে টেস্টে স্পিনারদের সামলানোর চ্যালেঞ্জ তো আরো বেশিই থাকবে। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের ফাঁকে কাকে যেন এটিও মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন প্রধান নির্বাচক, ‘ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও ভুলে যাবেন না, নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে কিন্তু ইংলিশদের যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে। ’ সম্ভবত কেউ একজন বাংলাদেশের ১৩ মাস টেস্ট না খেলার প্রসঙ্গ তুলতেই এটির অবতারণা করেছিলেন মিনহাজুল!


মন্তব্য