kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এই খেলেই তো লাখ লাখ টাকা!

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এই খেলেই তো লাখ লাখ টাকা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টম সেইন্টফিট ‘স্ট্রাইকার চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন! বেলজিয়ান কোচ যেভাবে বলেছেন সেটা বিজ্ঞাপনের চেয়ে কম নয়, ‘আমি গোল করার লোক চাই। বয়স কোনো ব্যাপার না, যে গোল করতে পারবে তাকেই আমি দলে নেব।

প্রেসিডেন্ট (বাফুফে সভাপতি) যদি ফিট থাকে তাকেও গোলের জন্য মাঠে নামিয়ে দিতে রাজি। ’ ১৫-২০ মিনিটের জন্য ষাটোর্ধ্ব কাজী সালাউদ্দিন কিংবা আসলামে এখনো গোলের সম্ভাবনা দেখেন কেউ কেউ! প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসাবে বছর দেড়েক আগে কমলাপুরে বুড়োদের ম্যাচে আসলামের দুর্দান্ত সাইডভলি গোলটিও জুড়ে দিচ্ছেন।

হালের অবস্থা কত খারাপ। বাংলাদেশ দলে গোল করার কেউ নেই। দুই ম্যাচ পার করে সেইন্টফিটের মুখে অসহায়ত্বের সুর। তিনি এমন একটা দলের দায়িত্ব নিয়েছেন যাদের হয়ে ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়া খুব কঠিন। ২০১৪ সাল থেকে হিসাব করলে দেখা যাবে, ২২ ম্যাচে মাত্র ৪টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ড্র ৬টি, সামর্থ্যের দিক দিয়ে এই দলের কোচের পক্ষে ড্র-ই সবচেয়ে গৌরবের কীর্তি। ২০১৪ থেকে এ পর্যন্ত খেলা ২২ ম্যাচে মাত্র ১৪ গোল আছে বাংলাদেশের! যে জিনিসটা ম্যাচের জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক, সেটাই করতে পারে না দেশের ফুটবলাররা। গোল বাদ দিয়ে ফুটবলটা পয়েন্ট নির্ভর খেলা হলেই তাঁরা খুশি হতেন!

ওই ১৪ গোলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ গোল করেছেন জাহিদ হাসান। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের এই স্ট্রাইকার এই মৌসুমে এখনো মাঠেই নামেননি। ৩ গোল নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা সাখাওয়াত হোসেন। ঘরোয়া মৌসুমে এবার তিনি গোলের খাতা খুলতে পারেননি এখনো, তাই জারি আছে শেখ রাসেলের দুর্দশা। তেমনি পরশু ফাঁসিয়ে দিলেন জাতীয় দলকেও। তিনটি ভালো সুযোগের একটি দুর্দান্ত সেভ করেছেন ভুটানি গোলরক্ষক, বাকি দুইবার বল পোস্টেই রাখতে পারেননি এ স্ট্রাইকার। ১৪ গোলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের অংশটা হলো আত্মঘাতী, ২টি। বাকি ৫ গোল করেছেন মিঠুন চৌধুরী, তপু বর্মন, সোহেল রানা, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, নাসির উদ্দিন। এই হচ্ছে, এখনকার ফুটবলের রথী-মহারথীদের গোলের কীর্তি। এ সামর্থ্য দিয়ে আসলে কাউকে হারানোর স্বপ্ন দেখা যায় না।

অথচ দল বদলের বাজারে একেকজনের কী হাঁকডাক। তাদের নিয়ে টানাহেঁচড়া হয় দু-তিন ক্লাবে! দামও ওঠে আকাশচুম্বী! ২৫-৩০ লাখ টাকা দিয়ে ক্লাবে নাম লেখান, তারপর বেশির ভাগ সময় বেঞ্চ গরম করেন। অনেকের মতো সেইন্টফিটও গলদ দেখছেন—ক্লাবগুলোর বিদেশি স্ট্রাইকার নির্ভরতায় কানা হয়ে গেছে জাতীয় দল। কিন্তু বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ভাবেন অন্যভাবে, ‘জায়গা কেউ কাউকে ছাড়ে না, লড়াই করে জায়গা করে নিতে হয়। কোনো দেশি ফুটবলার বিদেশির চেয়ে ভালো খেললে কোচ কখনো তাকে বসিয়ে রাখতে পারে না। ’ বিদেশির সঙ্গে তো তরুণ নাবিব নেওয়াজকে এ মৌসুমে ঢাকা আবাহনী কম সুযোগ দেয়নি, তার পরও একটি গোল নেই! এরকম গোলহীন স্ট্রাইকার সাখাওয়াত-নাবিব নেওয়াজকে নিয়ে বেলজিয়ান কোচ স্বপ্ন দেখেছিলেন ভুটানকে হারানোর। তাদের গোল মিসের মহড়া দেখে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনও ক্ষুব্ধ, ‘আসলে আমাদের সামর্থ্যই কমে গেছে। একজন সফল ফুটবলার হতে গেলে দরকার প্র্যাকটিস আর প্র্যাকটিস। স্কিল বাড়ানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। ’ কিন্তু এখনকার ফুটবলাররা ক্লাব ট্রেনিংয়ের বাইরে এতটুকু পরিশ্রম করতে রাজি নন। নিজের সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য বাড়তি কিছু করারও প্রয়োজন মনে করেন না। কারণ একটাই, না খেলেও লাখ লাখ টাকা পাওয়া যায় এ দেশে। তা ছাড়া নতুন প্রতিভারও আগমনী বার্তা নেই, যাঁরা ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এঁদের ক্যারিয়ার।

এটা আসলে এক হাওয়াই জগৎ। পুরোপুরি ফাঁপা। এখানে নিয়মিত লিগ হয়, সেখানে এক-আধটু খেলেই ফুটবলাররা মুখে মুখে বিশ্বজয় করে ফেলে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলে বোঝা যায় পায়ে কিছুই নেই। তারা ফুটবলটা খেলে মুখে মুখেই। ঠিক তেমনি ফেডারেশনেও। ফুটবল উন্নয়নের বিলাসী আলোচনা হয়, নানা পরিকল্পনা হয়। শেষ পর্যন্ত আসলে কিছুই হয় না। দীর্ঘদিন কিছু না হওয়ার ফল ভোগ করছে এ দেশের ফুটবল।


মন্তব্য