kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টেস্টকে দুই স্তর করার প্রস্তাব বাতিল

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



টেস্টকে দুই স্তর করার প্রস্তাব বাতিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রথমে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মাঝখানে আশ্বস্ত হয়েছিল। এবার পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হলো।

নিশ্চিন্ত হলো এটা জেনে যে দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্ট কাঠামোর ছক আর আলোর মুখ দেখছে না। বেশ কিছুদিন ধরেই ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলার আলোচনা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্য দেশগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সভায় (সিইসি মিটিং) গুরুত্ব দিয়েই আলোচিত হচ্ছিল। যেটি কিছুতেই আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপিত হওয়ার মতো অবস্থায় যাচ্ছিল না। কারণ সেটির বিরোধিতা চলছিল। আর এ ক্ষেত্রে উচ্চকণ্ঠ ছিল বিসিবিও। গতকাল প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে দুবাইতে হওয়া এক সেমিনারেও বিষয়টি উঠেছিল। যথারীতি সেটির বিরোধিতা করেছেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। সঙ্গী এবার আরো অনেকেই। তাই টেস্ট ক্রিকেটকে উচ্চবিত্ত আর নিম্মবিত্তে ভাগ করে দেওয়ার আলোচনা আর ধোপেই টেকেনি। ফলাফল খোদ আইসিসি থেকেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।

সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ঘণ্টাদুয়েক পর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভালের ফাইনালে উপস্থিত বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের প্রতিক্রিয়ায় খেলে গেল বিজয়ের আনন্দ। কেন? সেটি তাঁর এই গৌরবমাখা কথায় বুঝে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়, ‘এই দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্ট কাঠামোর প্রস্তাবে প্রথম বিরোধিতা করেছিল বাংলাদেশ। এটি আপনারা আইসিসির রেকর্ডে খোঁজ করলেই পাবেন। ’ যদিও একসময় শোনা গিয়েছিল যে দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্টের পক্ষে আছে ছয়টি পূর্ণ সদস্য দেশ। কিন্তু গতকাল দুবাইয়ের সেমিনারের পর সেখানে উপস্থিত এক প্রধান নির্বাহী ক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন, ‘বেশ বড় ধরনের সমঝোতাই হয়েছে। যার ফলে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ’ জানা গেছে, বোর্ড ইন কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই), শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি), বিসিবি এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট গতকাল প্রস্তাবিত কাঠামোর ঢালাও বিরোধিতা করার পর সমর্থন পায় অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডেরও। সবার সমর্থন পাওয়ার পর আর এই প্রস্তাব থাকে কী করে!

তাই ফোনের ওপার থেকেও বিসিবি প্রধান নির্বাহীর ছোট্ট প্রতিক্রিয়ায় আনন্দটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। ’ আর ঢাকায় বিসিবি সভাপতিও তো কম উচ্ছ্বসিত ছিলেন না, ‘আমাদের জন্য দারুণ সুখবর এটি। আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে এটি হলে অন্তত আমাদের জন্য ভালো কিছু নেই। বরং খারাপই হতে পারে। যে কারণে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে আমরা প্রতিবাদ করে আসছিলাম। ’ শুরুর দুশ্চিন্তার পর বিসিবি মাঝখানে অনেকটা আশ্বস্তও হতে পারছিল এ জন্য যে, ‘শুরু থেকেই আমরা এর প্রতিবাদ করছিলাম। এরপর ভারতকে আমাদের সঙ্গে পাই, সঙ্গে ছিল শ্রীলঙ্কাও। এ কারণেই আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। যখনই ভারত আমাদের সঙ্গে চলে এলো, তখন আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠি। তখন থেকেই আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যাই যে এটি আর হচ্ছে না। আজ (গতকাল) আইসিসিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল। আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত। আমাদের ক্রিকেট আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে না। ’ তাই পুরোপুরি চিন্তামুক্তি।


মন্তব্য