kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হতাশ সেইন্টফিট গর্বিত সেইন্টফিট

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হতাশ সেইন্টফিট গর্বিত সেইন্টফিট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘আমি দারুণ হতাশ, রাগান্বিত আবার গর্ববোধও করছি’—সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই একবাক্যে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন কোচ টম সেইন্টফিট। তাতে ম্যাচের চিত্রও পাওয়া যায়।

বারবার সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারাটা হতাশারই। সাখাওয়াত রনি, নাবিব নেওয়াজরা যেভাবে সুযোগগুলো পায়ে ঠেছেলেন তাতে কোচ হিসেবে রাগ না হয়েও পারে না সেইন্টফিটের। বাকি রইল গর্বের জায়গাটা, তাঁর দৃষ্টিতে, ‘যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে আমি গর্বিত। গোল করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবই করেছে খেলোয়াড়রা। কিন্তু গোলটিই শুধু আমাদের পাওয়া হয়নি। ’

অবধারিতভাবেই স্ট্রাইকারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাবিব, সাখাওয়াতরা যে সুযোগুলো নষ্ট করেছেন, ভালো মানের স্ট্রাইকাররা তা কখনোই করেননি। বাংলাদেশে সেই মানের স্ট্রাইকারের সংকট—এ বাস্তবতাটাই তাই আবার প্রকট হয়েছে বেলজিয়ান কোচের কাছে, ‘আমি জানি না কী করতে হবে। বাস্তবতা হলো, আমাদের সেই মানের স্ট্রাইকার নেই। ঘরোয়া ফুটবলে নাইজেরিয়ান, ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকাররা মাঠ মাতাচ্ছে, সেখানে স্থানীয় স্ট্রাইকারদের কোনো সুযোগ নেই। ’ দলের ডিফেন্স, মিডফিল্ডের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এই কোচ। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা এনামুল হক শরীফকে দলের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণই মনে করছেন তিনি এখন, ‘সে একজন রয়েল বেঙ্গল টাইগার। মাঠে বাঘের মতোই লড়ে সে দেশের জন্য। ’ সেই শরীফ ইনজুরিতে পড়ে উঠে পড়ার পর কোচ বরং মিডফিল্ডার নামাননি, ডান উইংয়ে জুয়েল রানাকে নামিয়ে আক্রমণে শক্তি বাড়িয়েছেন, ‘তরুণ আব্দুল্লাহর পাশে তখন একজন মিডফিল্ডার নামানোই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমাদের গোলও দরকার ছিল দারুণভাবে। যে কারণে আক্রমণে আমাকে শক্তি বাড়াতে হয়েছে। শরীফ উঠে যাওয়ার পর থেকে সারাক্ষণ পাঁচজন খেলোয়াড় আমি ওপরে রেখেছি গোল করার জন্য। ’

এর পরও কাঙ্ক্ষিত সেই গোল আসেনি। শেষ মিনিট দশেকেও একাধিক গোল হতে পারত। কিন্তু স্ট্রাইকাররা কোচকে হতাশ করেছেন, ‘অনেক সময়ই ওরা ফাঁকা পোস্ট পেয়েছে। কিন্তু গোল করতে পারেনি। এর কারণ কী আমার জানা নেই। ’ গোল বাঁচাতে তিনি বরং প্রশংসা করেছেন দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও মামুন মিয়ার পারফরম্যান্সকে, ‘যেখানে আমরা ১০-১২টা সুযোগ তৈরি করেছি গোলের সেখানে প্রতিপক্ষ সুযোগ পেয়েছে মাত্র দুই-তিনটি। কিন্তু আমাদের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের দারুণ পারফরম্যান্সে তারা সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ’ বাংলাদেশের সুযোগ তৈরির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন রুবেল মিয়া। এই উইঙ্গার স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসা পেয়েছেন, মামুনুল ইসলামবিহীন মিডফিল্ডে তরুণ আব্দুল্লাহও বাহবা পেয়েছেন তাঁর।


মন্তব্য