kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুটানকেও হারানো যায় না!

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভুটানকেও হারানো যায় না!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মালদ্বীপে ভরাডুবির পর তারা এবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিজেদের নামিয়ে এনেছে ভুটানের কাতারে। ভুটানও এখন বাঘ, ঢাকায় গোলশূন্য ড্র করে তারা থিম্পুতে বাংলাদেশকে হারানোর ব্রত নিয়েছে।

১ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা ছেড়ে যেতে পারছে বলে দারুণ খুশি ভুটানি কোচ পেমা।

আর টম সেইন্টফিট অসহায়। তাঁর বাংলাদেশ দল অনেক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরেছে এই বেলজিয়ান কোচের গলায়, ‘আমি খুব হতাশা এবং রাগান্বিত। ১৫-২০ মিনিটে ২-০ গোল হয়ে যায়, তখনই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। আবার শেষ ১০ মিনিটে ৪ গোল হলেও কিছু করার ছিল না। ওদের গোলরক্ষক ছাড়া পোস্টেও আমরা বল পাঠাতে পারিনি। পারলে একটা স্ট্রাইকার দিন আমাকে। ’ স্ট্রাইকার চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে বাংলাদেশের। ম্যাচের একটা সময় তিনজন স্ট্রাইকার খেলিয়েও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ভালো খেলেও গোলের জন্য হাপিত্যেশ করেছে। এটা নিয়মিত চিত্র স্বাগতিকদের, এক বছর ধরে দেশের ফুটবলের এটাই প্রধান সমস্যা। ব্যাপারটা এখন স্ট্রাইকার চাই বিজ্ঞাপনে দাঁড়িয়ে গেছে।  

আসলে ম্যাচটা ২২ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়। ১৬ মিনিটে ডানদিক থেকে রুবেল মিয়ার ক্রসটি সাখাওয়াতের সামনে পড়ে। ভুটানি ডিফেন্ডার পরাস্ত হলেও এই স্ট্রাইকারের নিরীহ শট গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় পোস্টের বাইরে। ২২ মিনিটে রুবেলের আরেকটি দুর্দান্ত ক্রস একদম সাখাওয়াতের মাথায়। কিন্তু তাঁর হেড অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে দিয়ে ভুটানি গোলরক্ষক দলকে ম্যাচে ধরে রেখে সাখাওয়াতের দুর্দশা জারি রেখেছেন। এখনো পর্যন্ত চলতি ঘরোয়া মৌসুমে পারেননি গোলের খাতা খুলতে। এএফসি কাপ প্লে-অফে ভুটানে গিয়ে একটি গোল করলেও মিস করেছেন পেনাল্টি। আরেক স্ট্রাইকার সোহেল রানার পায়ে নেই কিছুই। না পারেন দৌড়াতে, না পারেন বল ধরে সতীর্থের পায়ে ঠেলতে। এমনই অক্ষম পুরো প্রথমার্ধ যেন ১০ জন নিয়েই খেলেছে দল। এ জন্যই রুবেল মিয়া বোধ হয় পরে আর কোনো ক্রস পাঠাননি দুই স্ট্রাইকারের উদ্দেশে। তিনি বুঝে গেছেন এঁদের দিয়ে গোল পাওয়া যাবে না। ডানদিক ধরে দুর্দান্ত খেলেও চট্টগ্রাম আবাহনীর এই উইঙ্গার পরে কোনাকুনি শট করেছেন পোস্টে। বারবার বলগুলো গেছে গোলরক্ষকের গ্রিপে। এর পরই ২৯ মিনিটে ভুটানি আক্রমণে তালগোল পাকিয়ে যায় বাংলাদেশ ডিফেন্স। সদ্য মালদ্বীপে ৫ গোল খেয়ে আসার চাপে তারা খেলার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে। আর ভুটানি স্ট্রাইকার চ্যানচো এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছেন পুরো ম্যাচে। ভাগ্য ভালো যে ২৯ মিনিটে তাঁর নেওয়া শটটি রায়হানের গায়ে লেগে বাইলাইন অতিক্রম করে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। ৪১ মিনিটে বাঁদিক থেকে জাফর ইকবালের শট ভুটানি গোলরক্ষক ফিস্ট করলে সেটাও পড়ে ওই দুর্ভাগা সাখাওয়াতের পায়ে। এবারও তিনি মারেন গোলরক্ষকের গায়ে।

বাংলাদেশের খেলা হয়েছে আসলে দুই উইং ধরে। বিরতির পর জুয়েল রানা নামেন বদলি হয়ে এবং পরে বাঁদিকে জাফর ইকবালকে তুলে কোচ ঢাকা আবাহনীর এই উইঙ্গারকে নেন বাঁদিকে। তাতেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। নতুন কোচ টম সেইন্টফিটের অধীনে বাংলাদেশের খেলার ধরনটিও হয়েছে একদম নতুন। এত দিন খেলত পায়ে পায়ে বিল্ডআপ ফুটবল। সেটা বাদ দিয়ে গতকাল খেলেছে লং পাসের ফুটবল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠ বলে কিছুই ছিল না দলের। ডিফেন্স থেকে বল উড়িয়ে মারছে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে। সেখানে অপেক্ষারত চার ফরোয়ার্ড সাখাওয়াত, তপু ও নাবিব নেওয়াজ বল কখনো পেয়েছেন, নয়তো সেখান থেকে শুরু হয়েছে কাউন্টার অ্যাটাক। তাতে ভুটানের জন্য ও রকম বিপদ না হলেও ৭৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে চ্যানচো ঢুকে গিয়েছিলেন। শট নেওয়ার মুহূর্তে তপু বর্মণ দিনের সেরা ট্যাকল করে বাংলাদেশ দলের পোস্ট সুরক্ষিত রেখেছেন। শেষ ১০ মিনিটে অবশ্য বাংলাদেশের আক্রমণের ঝড়েও গোলের সম্ভাবনা জেগেছিল। এমনই সামর্থ্যহীন স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ বলটা খালি পোস্টে মারার সাহস দেখাননি। তাই গোলহীন বাংলাদেশ এক পয়েন্ট নিয়ে কোনো রকমে শেষ করেছে এএফসি কাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের হোম ম্যাচ। অ্যাওয়ে ম্যাচ হবে আগামী মাসের ১০ তারিখ থিম্পুতে। সত্যি বললে, বাছাই পর্বে যাওয়ার কাজটা এখন অনেক কঠিন।

বাংলাদেশ : আশরাফুল রানা, রায়হান হাসান, মামুন মিয়া, তপু বর্মণ, আতিকুর রহমান মিশু, শরীফ (জুয়েল রানা), আবদুল্লাহ, জাফর ইকবাল (নাবিব নেওয়াজ), রুবেল মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন ও সোহেল রানা (তপু)।


মন্তব্য