kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রথম দিনে দর্শক ওয়ালশ

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম দিনে দর্শক ওয়ালশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রথম দিন তিনি শুধুই দেখেছেন। কাউকেই কোনো টিপস দেননি কোর্টনি ওয়ালশ।

অবশ্য কামরুল ইসলাম রাব্বিকে ব্যতিক্রমই বলতে হয়। ক্যারিবীয় পেস কিংবদন্তি এই তরুণ পেসারকে কিছু একটা ঠিকই দিয়েছেন। তবে সেটি টিপস নয়, নতুন একটি নাম। কী সেটি? এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা বোলারের মুখ থেকেই শুনুন, ‘‘আমার মনে হয় উনি কাউকে সংক্ষেপে ডাকতে পছন্দ করেন। আমাকে ডাকছিলেন ‘র‍্যাব’ বলে। সম্ভবত রাব্বি থেকে নামটি সংক্ষেপ করে নিয়েছেন। আমাকে ইয়র্কার মারতে বলেছিলেন। ঠিকমতো ইয়র্কার মারার পর বলছিলেন ‘গুড বোলিং র‍্যাব’। ’’

যাঁর মুখ থেকে অনুপ্রেরণাদায়ী বাক্যটি শুনলেন কামরুল, গত কিছুদিন ইউটিউবে সেই ওয়ালশের বোলিংয়ের ভিডিও ধুমসে দেখেছেন। এই জ্যামাইকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সময় কামরুল বা তাঁর মতো তরুণদের ফাস্ট বোলিং কিংবদন্তির মহিমা বোঝার বয়স ছিল না। তাঁরা একেবারেই ছোট তখন। তবে ওয়ালশকে আদর্শ মেনে বড় হওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা টিভিতেই খেলা দেখেছেন টেস্টে ৫০০ উইকেট পাওয়া প্রথম বোলারের। অবশ্য যে দেখেছেন বা দেখেননি, কাউকেই গতকাল খুব আলাদা করার কিছু ছিল না। কারণ বোলিং কোচ হিসেবে ওয়ালশকে কাছে পাওয়ার প্রথম দিনটিতে এঁদের সবাই ছিলেন কমবেশি রোমাঞ্চিত।

এমনই যে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মুখ থেকে কথাই বেরোচ্ছিল না ঠিকমতো। তার ওপর এটি ওয়ালশের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা।   ২০১৪-র ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে সতীর্থদের অনেকের সঙ্গে দেখা বা কথা হলেও হয়নি মাশরাফির সঙ্গে, ‘আমার আইডলের সঙ্গে দেখা হওয়া বলে কথা! এত রোমাঞ্চিত ছিলাম যে খুব বেশি কথা এগোয়নি। আর সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর আমার জিম ছিল, তাই ওনার সঙ্গে থাকতেও পারিনি বেশিক্ষণ। ’ মাশরাফি না থাকলেও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে ওয়ালশের সামনেই বোলিং করেছেন রুবেল হোসেন, আল-আমিন হোসেন, আবু হায়দার ও কামরুলরা। তাঁদের বোলিং পর্যবেক্ষণ করেই পার করেছেন প্রথম দিনটি।

পর্যবেক্ষণের সময় দু-একটি প্রশ্নে কারো কোনো সমস্যা আছে কি না, জেনে নিতে চেয়েছেন সেটিও। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ালশের দেখা পাওয়া আল-আমিন যেমন বলছিলেন, ‘কাল (আজ) আমাদের একটি ম্যাচ (যেটি ক্যাম্পে থাকা ক্রিকেটাররা দুই ভাগে ভাগ হয়ে খেলেন) আছে। উনি এই ম্যাচেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে বলে আমাদের বোলিং দেখেছেন। আমার গ্রিপ দেখে এতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি কি না, জানতে চেয়েছেন তাও। ’ রুবেল হোসেনের কাছে মনে হয়েছে তাঁদের নতুন বোলিং-গুরু শুরুতে সবার বিষয়ে ধারণাই পেতে চেয়েছেন প্রথম দিনের অনুশীলনে, ‘প্রথম দিনে আমাকে কিছুই বলেননি। শুধুই দেখেছেন। আমার বোলিংয়ের রান-আপ ও গ্রিপ থেকে শুরু করে গুড লেন্থ আর ইয়র্কারও দেখেছেন। হয়তো এখন সবার বিষয়ে ধারণা নিচ্ছেন তিনি। ’ রুবেল অনেক কিছু শিখে নেওয়ার অপেক্ষায়ও আছেন, ‘ওনার মতো একজন কিংবদন্তির কাছ থেকে অবশ্যই অনেক কিছু শেখার আছে। আমিও মুখিয়ে আছি শিখতে। উনি লম্বা সময়ের জন্য এসেছেন। কাজেই আস্তে আস্তে অনেক কিছু শিখব বলেই আশা করছি। ’


মন্তব্য