kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশের সামনে আজ ভুটানও ‘গালিভার’!

সনৎ বাবলা   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের সামনে আজ ভুটানও ‘গালিভার’!

শেষ লাইফ লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের সঙ্গে ৫ গোলে হেরে ফেরা স্বাগতিকদের কাছে ভুটানও এখন ফুটবলের ‘গালিভার’।

আগে তাদের কাছে হারের রেকর্ড নেই বলে যে এই দল হেরে নতুন রেকর্ড গড়বে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে। এই ভয়টা থাকছেই, পাশাপাশি এশিয়ান কাপ বাছাই প্লে-অফে ভুটান ম্যাচ উতরাতে না পারলে সামান্য সম্ভ্রমও আর অবশিষ্ট থাকে না দেশের ফুটবলের।

এমন কঠিন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে নতুন কোচ করে বসেছেন নতুন কাণ্ড। দলের নামিদামি ফুটবলারদের বিদায় দিয়ে ২৩ জনের স্কোয়াড গড়ে টম সেইন্টফিট নতুন চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আজ (কাল) শেষ ট্রেনিং সেশন করে আমরা ২৩ জনের দল ঘোষণা করেছি। স্কোয়াডে অ্যাটাকিং ফুটবলারের সংখ্যা বেশি, কয়েকজন ফরোয়ার্ড, কয়েকজন উইঙ্গার নিয়েছি। কারণ এই ম্যাচটা আমাদের জিততে হবে, গোল করতে হবে। কখন কাকে ব্যবহার করব, সেটা নির্ভর করছে আমার কৌশলের ওপর। ’ সর্বশেষ মালদ্বীপের ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়েছেন তিন ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন, ওয়ালি ফয়সাল ও ইয়ামিন মুন্না, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার প্রাণতোষ দাশ ও ফরোয়ার্ড সেন্টু সেন। তাঁদের সঙ্গে মামুনুল ইসলামকেও বিদায় দিয়ে কোচ হতবাক করে দিয়েছেন সবাইকে।

আসলে এই মিডফিল্ডারের নামটা জাতীয় দলের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে ইনজুরি ছাড়া তাঁকে বাইরে রাখার সাহস দেখাতে পারেননি আগের ডাচ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ। কিন্তু নতুন বেলজিয়ান কোচের কাছে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, ‘মামুনুল দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছে, তাকে সম্মান করি আমি। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে মামুনসহ পাঁচ ফুটবলার নেভি দলে খেলতে গেছে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে। জীবনে এরকম ব্যাপার আমি দেখিনি। ফেরার পর থেকে সে ইনজুরিতে, দলকে কিছুমাত্র সাহায্য করতে পারেনি সে। তার জায়গায় আবদুল্লাহ খুব ভালো খেলেছে। নেভিতে গিয়ে খেলে ইনজ্যুরড হওয়া ফুটবলার ও গত ম্যাচের ভালো পারফরমারের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে আমাকে। ’ এ ছাড়া সর্বশেষ মালদ্বীপ দল থেকে বাদ পড়া পাঁচজনের ব্যাপারে ৪৩ বছর বয়সী কোচের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘তারা অভিজ্ঞ ফুটবলার হয়েও মালদ্বীপের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে চাপের মুখে খেলতে পারেনি। ফেরার পর ঢাকায় ট্রেনিং সেশন দেখে আমি আর ঝুঁকি নিতে পারিনি, কারণ ভুটান অনেক গতিময় ফুটবল খেলে। ’ মালদ্বীপের দল থেকে বাদ পড়া পাঁচ ফুটবলারের জায়গায় ঢুকেছেন দুই ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান ও মনসুর আমিন, দুই মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মেহবুব হাসান এবং উইঙ্গার জুয়েল রানা।

এই অদল-বদলে যে চারদিকে খুব হাহাকার শুরু হয়েছে এমন নয়। বরং কোচের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে উত্সুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। বাদ পড়া নামিদামিরা তো দেশের ফুটবলকে মহীয়ান করার মতো কিছু করতে পারেননি। গত জুন থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র দুটি, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে। হারের দুর্দাশা এত ভয়ংকর যে ৫ গোল মামুলি ব্যাপার, সর্বোচ্চ ৮ গোলে হেরেছে জর্দানের কাছে। নতুনরা নিশ্চয়ই এর চেয়ে খারাপ করবে না। মাঝমাঠ নিয়ে সেইন্টফিটের দুশ্চিন্তা নেই, তবে কারা ম্যাচ জেতাবে, সেই নিয়ে কোচের মনেও আছে বড় প্রশ্ন। এটা দেশের ফুটবলের পুরনো অসুখ, ঘরোয়া লিগে আফ্রিকান স্ট্রাইকারের এমন আধিপত্যের মধ্যে দেশি স্ট্রাইকারদের বড় দুর্দশা চলছে। এ জন্য স্কোয়াডে ফরোয়ার্ডের সংখ্যা বেশি। তা ছাড়া গোল যে অন্য কারো করা বারণ, তা নয়। বেলজিয়ান কোচের স্বপ্ন, ‘গোলও হবে, ম্যাচও জিতব। তবে ২-০ হলে খুশি হব, ৩-০ হলে আরো খুশি। আমাদের জিততেই হবে। কারণ অ্যাওয়ে ম্যাচে থিম্পুতে গিয়ে খেলাটা সহজ নয়। তবে চোখ বন্ধ করে খেলার উপায় নেই, কাউন্টারে চ্যানচো ভোগাতে পারে। ’ তাঁর ভয় ভুটানের চ্যানচো ও তেসেরিং দর্জিকে। ম্যাচ না জিতলেও তারা ঢাকা মাঠে একটা গোল করে বসলে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ প্লে-অফে বড় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ওই গোল। ভুটানি কোচ পেমার চাওয়া একটি ড্র। মালদ্বীপে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশকে তিনি হালকাভাবে দেখছেন না, ‘ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। এই ম্যাচে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই ভিন্ন কৌশলে খেলবে। ’

এত স্ট্র্যাটেজি-ফরমেশনের জিগির করে কাজ নেই। আজ ফুটবলের সম্ভ্রম রক্ষার ম্যাচ। এই বাস্তবতা বুঝেই বাংলাদেশ কোচের উদাত্ত আহ্বান, ‘এখনই সময় বাংলাদেশ দলের জেগে ওঠার। প্রমাণ করতে হবে, তারা ভুটানের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলে। ’ ছেলেদের ফুটবল এমন জায়গায় যে এসে ঠেকেছে, মাঠে খেলে দেখাতে হবে। তারপর বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ ৭টায় শুরু হবে এই বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিরসনের ম্যাচ।

২৩ জনের বাংলাদেশ দল : আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, মনসুর আমিন, তপু বর্মণ, মেহেদী হাসান তপু, আতিকুর রহমান ফাহাদ, আতিকুর রহমান মিশু, শাখাওয়াত হোসেন রনি, নাবিব নেওয়াজ জীবন, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, জুয়েল রানা, এনামুল হক শরীফ, দিদারুল আলম, মেহবুব হাসান নয়ন, রুবেল মিয়া, রেজাউল করিম, আরিফুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইমন মাহামুদ, জাফর ইকবাল, শহিদুল আলম ও সোহেল রানা।

 


মন্তব্য