kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অজেয় থেকেই শেষ করল বাংলাদেশ

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অজেয় থেকেই শেষ করল বাংলাদেশ

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আনুষ্ঠানিকতার শেষ ম্যাচেও আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই একই রকম আধিপত্য নিয়ে খেলা, বারবার গোলমুখী আক্রমণ, শ্যুটিং, পাসিং ড্রিবলিংয়ে আরো একবার নিজেদের মেলে ধরা—এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইয়ের শেষ দিনটাও তাই কৃষ্ণা-সানজিদাদের আলোয় আলোকিত।

ম্যাচ শুরুর তৃতীয় মিনিটেই কৃষ্ণার গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডানদিক থেকে মার্জিয়ার ক্রসে বাংলাদেশ অধিনায়কের হেড জালে। বিরতি পর্যন্ত স্কোরলাইনটা যে ১-০ তাতে অবশ্য দায় আছে বাংলাদেশের মেয়েদেরই। আমিরাতের খেলোয়াড়রা সারাক্ষণ বলের পেছনেই ছুটেছে। কিন্তু কৃষ্ণা-সানজিদারা বল পায়ে রেখেও পরের মিনিট চল্লিশেক আর গোল বের করে নিতে পারেনি। বেশির ভাগ সময়ই ডি বক্স, ডি বক্সের বাইরে জটলায় বল হারিয়েছে তারা। ৩৯ মিনিটে বাংলাদেশ পেনাল্টিও পেয়ে যায়, চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে যে সুযোগে ম্যাচ বের করে নিয়েছিল কৃষ্ণারা। কাল সেই পেনাল্টি থেকেও গোলের সুযোগ হাতছাড়া। এদিনও কৃষ্ণাকে ফেরাতে গিয়েই বক্সের ভেতর ফাউল করে বসে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার। স্পট কিকে শামসুন্নাহার ভুল করবে ভাবাই যায়নি। আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে দুটি গোলই তার। কিন্তু কাল তার শট গেল পোস্টের বাইরে দিয়ে।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের করা ২২ গোলের ১৫টিই দ্বিতীয়ার্ধে। এদিনও বিরতির পর গোল বাড়বে ধরেই নেওয়া হচ্ছিল, হয়েছেও তা-ই। ড্রেসিংরুম থেকে ফিরেই কৃষ্ণার দ্বিতীয় গোল। এবার সানজিদা আক্তারের নেওয়া কর্নারে তার ডান পায়ের শট জালে। ব্যবধান ৩-০ হতেও সময় লাগেনি, ৫৬ মিনিটে মারিয়া মান্ডার শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আনুচিংয়ের পায়ে, গোলরক্ষককে একা পেয়ে এ স্ট্রাইকার সুযোগ নষ্ট করেনি।

কালই প্রথম সকাল ১১টায় ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ। চড়া রোদে খেলার ব্যাপার তো আছেই, টানা জয় আর গোল করায় তো ক্লান্তি পেতে পারে। তার ওপর ম্যাচটা একেবারেই আনুষ্ঠানিকতার। গ্রুপে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান নিশ্চিত, মূল পর্বের টিকিট হাতে এসে গেছে। তার পরও এই ম্যাচ নিয়ে গোলাম রব্বানী সিরিয়াস ছিলেন শতভাগ জয় শুধু নয়, মেয়েদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সটা ধরে রাখার জন্যও। যে কারণে একাদশেও খুব বদল আনেননি; কৃষ্ণা, মারিয়া, মার্জিয়া, সানজিদার সঙ্গে আনুচিং এদিন শুরুর একাদশেই। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি অবশ্য তহুরা আক্তারকে সুযোগ দিয়েছেন কোচ আনুচিংকে উঠিয়ে। ১৪ বছরের এই কিশোরীর পায়েই দলের চতুর্থ গোল। বাঁদিক থেকে মনিকার ক্রসে একেবারে গোললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে সে মাথা ছুঁইয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে মনিকাও নেমেছে বদলি হয়ে। ডান দিকে তার মুভমেন্টও ছিল চোখে পড়ার মতো। মনিকা, তহুরা, আনুচিংয়ের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ দলের বেঞ্চের শক্তিটাও বোঝা গেছে এই টুর্নামেন্টে। তবে স্কোরার তালিকা দেখে যা বোঝা যাবে না তা হলো, এই দলে সানজিদার গুরুত্ব। আক্রমণে তার সৃষ্টিশীলতা, তার পায়ের কাজে বারবার গোলমুখ খুলে গেছে, নিজে গোল না পেলেও অনেকগুলো গোলের উৎস এই মিডফিল্ডার। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা কৃষ্ণা রানী, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কই সবচেয়ে আলোচিত এবারের আসরে। দারুণ পারফরম্যান্স গোলেও অনূদিত হওয়ায় পুরো দলই তাতে উজ্জীবিত। গতকালের জোড়া গোল নিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৮ গোল কৃষ্ণার। বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আনুচিংয়ের ৫ গোল।

কাল টুর্নামেন্ট শেষেও কোচ গোলাম রব্বানী মেয়েদের এই পারফরম্যান্স ধরে রাখা নিয়ে ভাবনায়, ‘ওদের আমি বলেছি, আমরা আজ একটা লক্ষ্য পূরণ করেছি। সামনে আমাদের আরো বড় লক্ষ্য মূল পর্বে। সে জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে। ’ আগামী বছরের মূল পর্বের আগে এ বছরের নভেম্বরেই আবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। যাতে এই দল থেকেও সুযোগ পাবেন অনেকে। ঈদের ছুটিও তাই দীর্ঘ হচ্ছে না মেয়েদের। ১৬ তারিখ থেকেই তাদের আবার ক্যাম্প শুরু, মাঝখানের সময়টাতেও ফিটনেস ধরে রাখার কড়া নির্দেশ কোচের। আসরের শেষ দিনে কাল ইরানকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে রানার্স-আপ হয়ে ফিরছে চাইনিজ তাইপে।

 


মন্তব্য