kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তাঁর তুলনায় একটু কমই

মাসুদ পারভেজ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শুরুতে গুরুত্ব দেননি তেমন, বরং বাংলাদেশের বোলিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে ভাবার জন্য সময় চেয়ে নেওয়া কোর্টনি ওয়ালশ দোটানার মধ্যেও ছিলেন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে সম্মানিত করতেই কাজটি করবেন কি করবেন না, তা নিয়ে দোলাচলের অবসান।

সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন যে এখানে আসবেনই।

বাংলাদেশে এসে গতকাল বিকেলে তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সন্মানিতবোধ করার কথা বললেনও, ‘নিজামের (বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) সঙ্গে প্রথম কথা হওয়ার পর ভাবার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের আলোচনা এই এগোচ্ছিল তো আবার পেছাচ্ছিল। এর মধ্যেই যখন তিনি জানালেন যে আমিই তাঁদের এক নম্বর টার্গেট, তখন সত্যিই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলাম। ’ সেই বিবেচনায় অর্থের চেয়ে যে সম্মানই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তা বিসিবির সঙ্গে তাঁর চুক্তির অর্থমূল্যেও স্পষ্ট।

যদিও ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী তিন লাখ ইউএস ডলার দেওয়া হচ্ছে শুনে এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তিকে বেশ ব্যয়বহুল বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচই মনে হবে। অবশ্য সেই ভুলটি ভেঙে দিতে গতকাল সন্ধ্যায় উদ্যোগী হলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিসিবি পরিচালকই। টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট পাওয়া প্রথম বোলারের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির অঙ্ক নিশ্চিত করে তিনি বলছিলেন, ‘ওনার মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের তুলনায় তিন বছরে তিন লাখ ডলার এমন কিছুই নয়। হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের তুলনায় তো নয়ই। ওনার মতো খ্যাতিমান ক্রিকেটার কিনা ব্যাটিং উপদেষ্টা থিলান সামারাবীরার সমান পারিশ্রমিকেই কাজ করতে সম্মত হয়েছেন!’

সমানই কারণ ৪৫ দিনের চুক্তিতে সামারাবীরা দিনপ্রতি পাবেন ৫০০ ইউএস ডলার। ওয়ালশের সঙ্গে বিসিবির চুক্তিটা বছরে ২০০ দিন কাজ করার হলেও তাঁর দৈনিক পারিশ্রমিক ওই শ্রীলঙ্কানের সমানই। অর্থাৎ বছরে ওয়ালশের পেছনে পারিশ্রমিক বাবদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের খরচ এক লাখ ইউএস ডলার। যা হাতুরাসিংহের সাড়ে তিন মাসের বেতনের চেয়ে কিছু বেশি। ওয়ালশ দিনভিত্তিক চুক্তি করলেও হাতুরাসিংহে মাসিক বেতন পেয়ে থাকেন মার্কিন ডলারেই। কিছুদিন আগে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বেতনও। যা প্রায় ২৮ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, নির্দিষ্ট করে বললে অঙ্কটা ২৭ হাজার ৭২৩ ডলার বলে জানিয়েছেন ওই পরিচালকই। সে তুলনায় ওয়ালশকে বেশ সস্তায় মিলেছে বলে তাঁর দাবি ফেলনাও নয়। যখন আরো বড় অঙ্কেও ওয়ালশকে পেতে প্রস্তুতি ছিল বিসিবির। সেখানে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ২ বছর ১০ মাস ২৮ দিন মেয়াদি চুক্তির প্রথম বছর পার করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই ফাস্ট বোলারের বার্ষিক পারিশ্রমিক শতকরা ৬ ভাগ হারে বাড়বে। নতুন চুক্তিতে হাতুরাসিংহের বেড়েছিল এর প্রায় তিন গুণ। তাই নিজ দেশে আসা-যাওয়ার জন্য বিজনেস ক্লাসের বিমান টিকিট বাবদ চুক্তিতে বছরে ২৪ হাজার ডলার বরাদ্দ থাকলেও ওয়ালশ ঠিক অতটা ব্যয়বহুল নন!


মন্তব্য