kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমন সুযোগের জন্য সব ছেড়ে আসা যায়

জাতীয় দলের বোলিং কোচ কে হচ্ছেন—এ নিয়ে অনেক লুকোচুরির পর জানা গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি বোলার কোর্টনি ওয়ালশই ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তালিম দেবেন বাংলাদেশের বোলারদের। শনিবার রাতে পৌঁছেছেন ঢাকায়; কাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানালেন বাংলাদেশ, নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কিছুই

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এমন সুযোগের জন্য সব ছেড়ে আসা যায়

ছবি : মীর ফরিদ

প্রশ্ন : নিজের দেশে আপনার জমজমাট ব্যবসা আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নির্বাচক ছিলেন।

ক্যারিবিয়ানেই কাজের অনেক সুযোগ নিশ্চয়ই ছিল, সব ছেড়ে দিয়ে কিসের টানে বাংলাদেশের বোলিং কোচ হয়ে এলেন?

কোর্টনি ওয়ালশ : আমার মনে হয় সুযোগটাই এমন ছিল, যার জন্য সব ছেড়ে আসা যায়। আমার সব সময়ের স্বপ্ন একটা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা। তাই প্রস্তাবটা যখন এলো তখন খুব বেশি ভাবতে হয়নি। আমি এরকম একটা কিছুই করতে চেয়েছিলাম আর সেটা করতে পারার সুযোগ পেয়েছি বলে ভালো লাগছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে কারো কথা কি বিশেষভাবে আছে আপনার মাথায়?

ওয়ালশ : আমি নাম মনে রাখতে পারি না। তা ছাড়া নাম নেওয়াটা আমার ভালোও লাগে না। দেখা গেল কারো নাম হয়তো আমি বললাম আর সে দু-তিনটি ম্যাচে ভালো করল না! আমি আসলে মুখিয়ে আছি তরুণ বাংলাদেশি ফাস্ট বোলারদের দেখার জন্য। তারা অনেক ভালো করছে, আমি এসে যেন তাদের আরেকটু ভালো করাতে পারি, সেটাই হচ্ছে মোদ্দাকথা।

প্রশ্ন : প্রথাগতভাবে উপমহাদেশ থেকে ভালো পেসার বের হয় না, যেমনটা ক্যারিবিয়ান বা দক্ষিণ আফ্রিকায় হয়। সেই প্রাকৃতিক ব্যাপার ও প্রথার ভেতর থেকে পেস বোলারদের তৈরি করাটা কতটা কঠিন হবে?

ওয়ালশ : এই কিছুদিন আগেই হয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ভারত সিরিজেই ভারতের কয়েকজন ফাস্ট বোলার আমাদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। উপমহাদেশ থেকে ফাস্ট বোলার বের হয় ঠিকই, দেখতে হবে তারা কতটা শক্তিশালী। ভালো মানের ফাস্ট বোলার আছে ঠিকই, দেখতে হবে তারা কত দিন টিকে থাকে এবং তাদের দেখভাল কিভাবে হয়। এ কাজের জন্যই তো এখানে আমার আসা। সবার কাজের চাপটা পর্যবেক্ষণ করা হবে আর বোঝানো হবে কিভাবে ফর্ম ধরে রাখতে হয়।

প্রশ্ন : ক্যারিবিয়ানের সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশে এসে খাপ খাইয়ে নেওয়াটা কতটা কঠিন?

ওয়ালশ : ১৭ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিকেট খেলেছি, সবটা সময়ই তো আর দেশের মাটিতে খেলিনি! আমার ঘরের বাইরে থাকার অভ্যাস আছে। এমনকি এখানে আসার আগে যে কাজটা করতাম, সেই নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করতেও আমাকে গোটা ক্যারিবিয়ানে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। আমি চেষ্টা করব এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে। বাংলাদেশে আসার পর থেকে যেটা বুঝেছি, এখানকার আবহাওয়া উষ্ণ, মানুষ খুব বন্ধুসুলভ। আমি নতুন অনেক বন্ধু বানাতে এসেছি।

প্রশ্ন : অনেক দিনের লম্বা ক্যারিয়ার আপনার। ঠিক কোন ব্যাপারগুলোতে জোর দেওয়াতে এত দিন খেলে যেতে পেরেছেন?

ওয়ালশ : আমি ফিটনেস ধরে রাখার ব্যাপারে সব সময় সতর্ক ছিলাম। কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতা থেকেই এত দিন ধরে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আমি সব সময় সেরা হতে চেয়েছি, এই ভাবনাটাই আমাকে অনুপ্রাণিত রেখেছে।

প্রশ্ন : মাত্রই এলেন। কাজে নেমে পড়ার আগে, বাংলাদেশের বোলারদের কী বার্তা দিতে চান?

ওয়ালশ : একটা কথা বলে দিতে চাই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। শক্ত হও আর কঠিন পরিশ্রমের জন্য তৈরি থাকো। শরীরের যত্ন নাও আর ধারাবাহিকতা রাখো। এই মন্ত্রে যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে আমরা সঠিক গন্তব্যে যেতে পারব। রাতারাতি কিছু হবে না। কিছু মৌলিক কাজ করতে হবে। মূল বিষয়গুলো ঠিক হয়ে গেলে তখন অনেক অগ্রগতি ও ধারাবাহিকতা চোখে পড়বে।

প্রশ্ন : খেলোয়াড় হিসেবে কখনো বাংলাদেশে আসা হয়নি, এলেন বোলিং কোচ হয়ে। সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পেছনে কোন ব্যাপারগুলো কাজ করেছে?

ওয়ালশ : এই দেশের তরুণরা যে ক্রিকেট খেলছে, সেটা দেখেই আমি খুশি এবং বেশ রোমাঞ্চিত। এখানে আসার জন্য বলা যায় ভেতর থেকেই একধরনের সাড়া পাচ্ছিলাম। বাংলাদেশে এসে কখনো খেলা হয়নি, তাদের বিপক্ষেই খেলেছি এক-দুইবার। তাই মনে হলো, নতুন বন্ধু বানাবার এটাই একটা সুযোগ। আমি চ্যালেঞ্জ ভালোবাসি, সব কিছুর একটা সন্তোষজনক পরিণতি দেখতে চাই। আমাকে চাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খুব আগ্রহী ছিল, এটা যেমন আমাকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি আমি ভেবেছি চ্যালেঞ্জটা নিতে যে যখন বাংলাদেশ ছাড়ব তখন যেন তাদের বোলিংয়ের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো করে দিয়ে যেতে পারি। তারা চাইছে তাদের দলের র্যাংকিং বাড়াতে, সেই যাত্রায় আমি তাদের সঙ্গে আছি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন আরেক ক্যারিবিয়ান, গর্ডন গ্রিনিজ। এখানে আসার আগে তাঁর সঙ্গে কি কোনো কথা হয়েছে?

ওয়ালশ : গর্ডনের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি, এর-ওর মাধ্যমে কিছু জেনেছি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ঠিক পথে এগোচ্ছে জানলে সে খুশিই হবে।

প্রশ্ন : আপনাকে বিসিবি ঠিক কোচ নয় মেন্টর হিসেবে দেখছে, বোলারদের অভিভাবক হিসেবে দেখছে। আপনি কোন দর্শনে কাজ করবেন?

ওয়ালশ : আমিও নিজেকে ঠিক প্রশিক্ষক নয় বরং গুরু হিসেবেই দেখি। জ্যামাইকা, গ্লস্টারশায়ার, কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে যেভাবেই হোক আমি ক্রিকেটের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি সব সময়ই চেয়েছি তরুণ বোলারদের নিজের ছায়ায় নিয়ে এসে গড়ে তুলতে, কার্টলি অ্যামব্রোস ছিল সেরকমই একজন। বাংলাদেশ থেকে যদি দ্বিতীয় অ্যামব্রোস পাই, তাহলেই আমি খুশি হব। সে যখন দলে এলো, আমার মতো হতে চেয়েছিল। দুজনে মিলে আমরা দারুণ একটা নতুন বলের জুটি গড়ে তুলেছিলাম। সেটাই যদি আমি বাংলাদেশের দুজনের মধ্যে শিখিয়ে দিয়ে যেতে পারি, তাহলেই আমি খুশি। আমিই তাদের কোচ, মেন্টর, অভিভাবক সব। তারা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে সেখান থেকে তাদের বের করে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার। আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন জোয়েল গার্নার, ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিংদের দেখেছি। তাঁরা আমাদের জন্য যা করেছেন, সেটা আমি বাংলাদেশ দলের জন্য করে যেতে চাই।


মন্তব্য