kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দৃষ্টিসীমায় এখন বিশ্বকাপ

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দৃষ্টিসীমায় এখন বিশ্বকাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাল বাফুফে টার্ফের অনুশীলনে মেয়েদের দেখে বোঝার উপায় নেই আগের দিন তারা কি অসাধ্য সাধন করে ফেলেছে। পুরুষ ফুটবল দল ইতিহাসে একবারই এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলেছে।

সেটি ১৯৮০ সালে। বাছাই পর্বে আট দলের গ্রুপ থেকে সৌদি আরব, ইরাক, জর্দানসহ পাঁচটি দলই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশ শুধু আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলেই উঠে গিয়েছিল মূল পর্ব। এর পরের ৩৫ বছরে সেই এশিয়া কাপ দূরে সরে যেতে যেতে এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে হলেও মেয়েরা আজ সেই স্বপ্নটাকেই বাস্তবের জমিনে নামিয়ে এনেছে। তাও কি দাপটের সঙ্গে! কৃষ্ণা, সানজিদা, মার্জিয়াদের প্রশংসা এখন মুখে মুখে, পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে তারা নাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই মেয়েরা কিন্তু এই সাফল্যেই তৃপ্ত নয়। তাদের থামার সীমানা এখন একটাই— বিশ্বকাপ।

বাংলাদেশের ফুটবলে এত বড় স্বপ্ন এর আগে দেখিয়েছে কে আর কবে! দলের তিন সেরা পারফরমার কৃষ্ণা রানী, সানজিদা আক্তার ও মৌসুমীকে একসঙ্গে করে জানতে চাওয়া হলো, ‘এই সাফল্যের পর তোমাদের কী চাওয়া?’ বড় সংবর্ধনা, অর্থ পুরস্কার এমন কোনো কিছুরই চাহিদা নেই তাদের। শুধু ফুটবল অনুশীলনের আরো সুযোগ চায় তারা, অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মৌসুমীর কথা, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে যেমন ধরে রাখা কঠিন। আমাদেরও এই অর্জনটা ধরে রাখার জন্য এখন আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে। সে জন্য আমরা চাই ফুটবল ফেডারেশন যেন আমাদের আরো দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। বাড়িতে গেলে আমাদের অনুশীলনের তেমন সুযোগ থাকে না। আমাদের মেয়েদের জন্য একাডেমি করে দেওয়া হলে সেখানে থেকে আমরা সারা বছর অনুশীলন করতে পারতাম। ’ এবারের টুর্নামেন্টের জন্য গত ঈদুল ফিতরে বাড়িতে যাওয়া হয়নি এই মেয়েদের। কিন্তু তা নিয়ে কারো মনে একটুও কষ্ট নেই। ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার যেমন বলছিল, ‘ফুটবল তো আমাদের সাধনা। এর জন্য তো আমাদের কষ্ট করতেই হবে। ’ সাফল্যের ক্ষুধা, শ্রেষ্ঠত্বের তাড়না এই মেয়েদের মধ্যে এতটাই প্রবল যে তারা সামনে আসা কোনো বাধাকেই আর অজেয় ভাবছে না।

এই মনোভাব নিয়েই আগামী বছর এশিয়ার এলিট উত্তর কোরিয়া, জাপান, চীন, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এশিয়ার সেরা আটটি দল, তারই একটি এখন বাংলাদেশ। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই তিন বা চারটি দল সুযোগ পাবে ২০১৮-এ উরুগুয়েতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে। অর্থাৎ কৃষ্ণারা এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বকাপের লড়াইয়ে। যদিও জাপান, উত্তর কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ানরা ফুটবল অবকাঠামো এবং সাফল্যে এখনো ঢের এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৬ বা ১৭ পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ব্যবধানটা এখনো অজানা। ২০০৫ সালে প্রথম অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বাছাইয়ের কোনো বালাই ছিল না। যারা অংশ নিতে আগ্রহী তারাই খেলেছে। বাংলাদেশে নারীদের ফুটবল শুরু হয়েছে তখন কেবল। কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সে আসরে বাংলাদেশও নাম লেখায়, জাপানের কাছে ২৪-০ গোলের হারও আছে তাদের। তবে এখন ধরেই নেওয়া যায় সময়টা বদলেছে। কারণ ইরানকেও একটা সময় অন্য গ্রহের দল মনে হতো বাংলাদেশের কাছে, ভারতকে কখনো হারানো যাবে ভাবা যায়নি, এই মেয়েরা সেটি এখন করে দেখাচ্ছে বলেই চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে যাবে তারা এশিয়া কাপে। কৃষ্ণা, আনুচিং, সানজিদাদের পায়ে যে ঝলক দেখা গেছে তাতে ফুটবলপ্রেমীরাও নিশ্চয় নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন। কোচ গোলাম রব্বানী সেই ২০১০ সাল থেকে মেয়েদের নিয়ে কাজ করছেন। বাস্তবতা আর সম্ভাবনার হিসাবটাও তাঁর সুচারু, ‘কোরিয়া, জাপানের মতো দলগুলোর সঙ্গে এখনো আমাদের অনেক ব্যবধান। জাপান চাইনিজ তাইপেকেও ৬-৭ গোল দেয়। আমাদের তাই প্রস্তুত হয়েই সেই আসরে যেতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে ওদের জন্য। ’ সেই পরিকল্পনা এখনো তোলা থাকলেও বাফুফে মেয়েদের এই ছন্দটা এখনই হারাতে দিচ্ছে না। ঈদের পর ১৬ তারিখ থেকেই আবার তাদের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। নতুন লক্ষ্যে ঝাঁপানো আবার তখন থেকেই।


মন্তব্য