kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

আমাদের ফুটবল শেষ হয়ে গেছে

মালদ্বীপের কাছে ভরাডুবির পর বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে চারদিকে হতাশার সুর। চলছে নানামুখী সমালোচনা। সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুয়েল রানা চেষ্টা করেছেন ফুটবলের সমস্যাগুলো ধরতে। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে তিনি কাঠগড়ায় তুলেছেন ফুটবলারদেরই

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আমাদের ফুটবল শেষ হয়ে গেছে

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : মালদ্বীপের বিপক্ষে এই ভরাডুবি কি আমাদের ফুটবল শেষের চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে দিল?

জুয়েল রানা : এমন হারের পর তো আর বলার কিছু থাকে না। বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যর্থতার আবর্তে আমাদের ফুটবল।

এখন শুধু এই বাস্তবতাটা মেনে নিতে হবে যে আমাদের ফুটবল শেষ হয়ে গেছে। সব কিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। নতুন ফুটবলার তৈরি করতে হবে।

প্রশ্ন : এই ফুটবলারদের দিয়ে তাহলে আর হবে না!

জুয়েল : এই ফুটবলাররা বুঝে গেছে, তাদের ছাড়া চলবে না। তারা পুরো ফুটবলকে জিম্মি করে ফেলেছে। জাতীয় দল এবং ক্লাবগুলোও অসহায় তাদের কাছে। বেঞ্চের ফুটবলারও ২০ লাখ টাকা নিয়ে বসে থাকে! অথচ নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকে ন্যূনতম কোনো খেয়াল নেই।

প্রশ্ন : আপনাদের সময় কি ফুটবলাররা এত টাকা পেত না?

জুয়েল : আমাদের আগের প্রজন্মের ফুটবলারদের কর্মকাণ্ডের ফল আমরা ভোগ করেছি। ক্লাব অফিশিয়ালরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ফুটবলারদের পুলে ফেলে দিয়েছিল। জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট করেছিল। এ জন্য রাগে-ক্ষোভে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলাম। এখন এই সময়ের ফুটবলাররা যা শুরু করেছে আবার অফিশিয়ালরা নতুন করে ভাবতে পারে। আমি এটা কামনা করি না। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে পরের প্রজন্ম বিপদে পড়বে নিশ্চিত।

প্রশ্ন : এই মালদ্বীপের কাছে আপনারাও হেরেছিলেন ১৯৯৯ সালে কাঠমাণ্ডুতে।

জুয়েল : সেই সাফ গেমসে প্রথম ম্যাচে তাদের কাছে হেরেছিলাম ২-১ গোলে। হারের পর নিজেদের বোধোদয় হয়েছিল। তারপর নিজেদের কমিটমেন্টের সর্বোচ্চ দেখিয়ে সাফে প্রথম সোনার পদক জিতেছিলাম। এই ফুটবলারদের মধ্যে কমিটমেন্টের ঘাটতি অনেক। এক ম্যাচ হারলে যে পরের ম্যাচ জিতে দেখাবে, সেই জিদও কাজ করে না তাদের মধ্যে। বরং তারা বাজে খেলে, নানা অপকর্মের কথাও শুনি।

প্রশ্ন : শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তো কয়েকজনকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছিল।

জুয়েল : শাস্তি তো ধরে রাখতে পারেনি বাফুফে। সত্যি বললে, আমাদের কর্মকর্তাদের কারণে ফুটবলাররা আজকের বেয়ারা অবস্থায় এসেছে। সেই ডিডোর সময় থেকে দেখেন, খেলোয়াড়দের সাসপেন্ড করে এই কোচ টিকে থাকতে পারেননি। কিছুদিন আগে মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়ার পরও তাদের আবার জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছে। এরপর কোচের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্যাম্প ছেড়ে গেছে কয়েকজন। কোনো শাস্তি হয়নি বলেই আজকের এই দুরবস্থা। বাফুফেকে আসলে নতুন করে ভাবতে হবে, খেলোয়াড় তোলার দিকে নজর দিতে হবে। মালদ্বীপের মতোই ফুটবল বিপ্লব করতে হবে।


মন্তব্য