kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিশোরীদের স্বপ্নপূরণের ‘ফাইনাল’ আজ

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কিশোরীদের স্বপ্নপূরণের ‘ফাইনাল’ আজ

আজ মুখোমুখি লড়াইয়েই ফয়সালা হবে কে সেরা, আগেভাগে বলা যাচ্ছে না কিছুই। ম্যাচ ড্র হলেও ফল তাইপের ঘরেই যাবে। এই হিসাবে বাংলাদেশ যদি কিছুটা পিছিয়ে থাকে তো অন্য হিসাবও আছে। সেটি স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা। কৃষ্ণা, সানজিয়া, মার্জিয়া, মারিয়ারা চেনা মাঠে চেনা দর্শকদের সামনে খেলবে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রতিপক্ষ ভারত বা ইরান হলেও কথা ছিল। এই দুটি দল মেয়েদের ফুটবলে বরাবরই ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশের ওপর।

অনূর্ধ্ব-১৪ দল সেই আধিপত্য ভেঙে দেওয়ার পর এবার অনূর্ধ্ব-১৬-র মেয়েরাও ইরানকে একরকম বাড়ি পাঠিয়েছে। ভারত এলেও যে একই পরিণতি হতো তা বলেই দেওয়া যায়। সেই হিসাবে এবারের এএফসি বাছাইয়ে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়াটাই ছিল নিশ্চিত। আদৌ তা হয়নি, কারণ ভারতের বদলে এবার অজানা, অচেনা চাইনিজ তাইপে এসে জুড়েছে এই গ্রুপে। যারা কিনা এরই মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি গোল করে রেখেছে আসরে। সমান ম্যাচে দুই দলেরই সমান জয়। আজ মুখোমুখি লড়াইয়েই ফয়সালা হবে কে সেরা, আগেভাগে বলা যাচ্ছে না কিছুই।

ম্যাচ ড্র হলেও ফল তাইপের ঘরেই যাবে। এই হিসাবে বাংলাদেশ যদি কিছুটা পিছিয়ে থাকে তো অন্য হিসাবও আছে। সেটি স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা। কৃষ্ণা, সানজিদা, মার্জিয়া, মারিয়ারা চেনা মাঠে চেনা দর্শকদের সামনে খেলবে। যে দর্শকরা মেয়েদের ফুটবলে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে আজ মাঠে আসছেন। ইরানকে হারানোর পর থেকেই চাইনিজ তাইপে নিয়ে আলোচনাটা এত বেশি যে অন্য ম্যাচগুলো স্রেফ আনুষ্ঠাকিতার হয়ে গেছে। গোলাম রব্বানীর দল সেটি দেখিয়েছেও সিঙ্গাপুরের জালে ৫ গোল দেওয়ার পর কিরগিজস্তানকে ১০ গোলে উড়িয়ে। তাইপে ম্যাচের পরও আরেকটি ম্যাচ থাকছে আরব আমিরাতের বিপক্ষে। তারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ড্র করেছিল, বাংলাদেশের জন্য সেটিও যে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ হবে তাও ধরে নেওয়া হচ্ছে। তাইপের মুখোমুখি হওয়াটাই আজ তাই মর্যাদা পাচ্ছে ফাইনালের। কোচ রব্বানী সেই গুরুত্ব বুঝেই ম্যাচে আজ মাথা ঠাণ্ডা রাখতে বলেছেন মেয়েদের, ‘এই ম্যাচের ওপরই দুই দলের চূড়ান্ত পর্বে যাওয়া নির্ভর করছে। এ কারণে দুই দলই ম্যাচ জিততে অল আউট ফুটবল খেলবে। আমি আমার মেয়েদের উত্তেজিত হতে নিষেধ করেছি। ওরা (তাইপে) চাইবে মাঠে আমাদের মেয়েদের খেপিয়ে তুলতে। ’ নিজের শিষ্যদের ওপর তাঁর আস্থার কমতি নেই, ‘ফাইনাল’ বাড়তি চাপ হবে না বলেও তাঁর বিশ্বাস, ‘এই মেয়েরাই কিন্তু গত দুটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে। ফাইনাল ম্যাচের চেয়ে বেশি চাপ তো আর কোনো ম্যাচে নেই। ’ গত বছর নেপালে রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ঠিক ফাইনালের দিন ভয়াবহ ভূমিকম্প হলো। সাত মাস পর সেই নেপালে গিয়ে ফাইনাল খেলেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরেছে। এ বছর কিরগিজস্তানেও সেই ধারাবাহিকতা। তবে আঞ্চলিকতার গণ্ডি পেরিয়ে অনূর্ধ্ব-১৬-র এই আসর যে আরো বড় অর্জনের মঞ্চ। এখানে চ্যাম্পিয়ন হলেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মেয়েরা খেলবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে। কোচ রব্বানী আজকের ম্যাচের আগে সেই গুরুত্বটাও বুঝিয়েছেন মেয়েদের, “আমি মেয়েদের সব সময়ই বলি, ‘তোমরাই দেশের মহিলা ফুটবলের চেহারা পাল্টে দিচ্ছো। আজকের এই ম্যাচটাই আমাদের মেয়েদের ফুটবলের টার্নিং পয়েন্ট। এই ম্যাচ জিতলে মহিলা ফুটবল অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সুতরাং এই ম্যাচটা তোমরা দেশের জন্য খেলো। তোমাদের মা-বাবার জন্য খেলো। যাঁদের ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে তোমরা এই ক্যাম্পে পড়ে আছো। ’

আজ জিতলেই ছোট ছোট এই মেয়েদের সব ত্যাগ, কষ্ট যেন সার্থক। তাইপে কি বাধা হতে পারবে! কোচের মতে বাংলাদেশ আজ আটঘাট বেঁধেই নামছে। গত তিন ম্যাচে গোলরক্ষক মাহমুদাকে কোনো বিপদ সামলাতে না হলেও এই ম্যাচ মাথায় রেখেই প্রতিদিন ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাকে। তার কথা, ‘আগের তিন ম্যাচে মার্জিয়া, কৃষ্ণারা ওদের সেরাটা দেখিয়েছে। আমি সুযোগ পাইনি। এ ম্যাচে এরকম সুযোগ হলে আমি হতাশ করব না। ’ আজকের ম্যাচ মাথায় রেখে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে মূল ডিফেন্ডার মাশুরা আর ফরোয়ার্ড স্বপ্নাকেও বিশ্রামে রেখেছিলেন রব্বানী। সানজিদাকেও পুরো সময় খেলাননি। আজ তাদের কাছ থেকে সেরাটাই পাওয়ার আশা। তাইপের বিপক্ষে আগে না খেলা হলেও তাদের ম্যাচগুলো মাঠে বসেই দেখেছেন কোচ। সেসব ম্যাচের ভিডিও কাটাছেঁড়া করে রণকৌশলও সাজিয়েছেন, বিপজ্জনক হিসেবে ফরোয়ার্ড হি জুন রু, মিডফিল্ডার নিয়েন চিং উন ও ইয়ো ইয়োজুকে নিয়েও সতর্ক থাকছেন। সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক এই ম্যাচের প্রস্তুতি সারা, সন্ধ্যায় লাল-উৎসবের অপেক্ষাই এখন শুধু।


মন্তব্য