kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কৈশোরের নায়ককে পেয়ে রোমাঞ্চিত মাশরাফি

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কৈশোরের নায়ককে পেয়ে রোমাঞ্চিত মাশরাফি

আমি সব সময়ই কোর্টনি ওয়ালশের ভক্ত ছিলাম। তিনিই আমার ক্রিকেট আইডল। জানার অনেক কিছুই আছে ওনার কাছ থেকে। সব মিলিয়ে আমি একটু বেশিই রোমাঞ্চিত।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের উদয়লগ্নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক ক্রিকেট কিংবদন্তির দারুণ অবদান। এত বছর পর মাশরাফি বিন মর্তুজার গোধূলিলগ্নও যখন প্রায় সমাগত, তখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট দৃশ্যপটে আবির্ভূত হতে চলেছেন আরেক ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।

দুজনকে নিয়ে অবশ্য সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়কের দুই রকম অনুভূতি। অ্যান্ডি রবার্টস যদি তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজপথে তুলে দেওয়ার পথটা চিনিয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে সেই চড়াই-উতরাই দাবড়ে বেড়ানো ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্নটা দেখিয়েছিল কোর্টনি ওয়ালশের বোলিং।

সেই ওয়ালশের বাংলাদেশের বোলিং কোচ হওয়ার খবরটি আনুষ্ঠানিক হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায়ও বারবার মনে করিয়ে দিলেন যে কে তাঁর আদর্শ ছিলেন। তাই বলে রবার্টসের ঋণ তো কিছুতেই ভুলে যাওয়ার নয়। ২০০১ সালে তরুণ বোলারদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করতে এসেছিলেন এই অ্যান্টিগান। সেই শিবিরেই মাশরাফিকে দেখা রবার্টস যাওয়ার আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসকদের বলে গিয়েছিলেন, ‘এই ছেলেটিকে চাইলে এখনই টেস্ট খেলিয়ে দিতে পারেন। ’ ব্যস, তখন গতি দিয়েই মাত করে দিতে জানা ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর জন্য খুলে যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুয়ার। ওই বছরেরই নভেম্বরে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায় তাঁর। গতকাল সন্ধ্যায় বলছিলেনও সে কথা, ‘অ্যান্ডি রবার্টস ছিলেন আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অনেক বড় এক টার্নিং পয়েন্ট। ওনার জন্যই আমি খুব তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পেরেছিলাম। আমাকে অনেক সহায়তাও করেছিলেন। ’

ওয়ালশ কিছুই করেননি, এমনকি কোনোদিন তাঁর সঙ্গে দেখাও হয়নি। তবু এই জ্যামাইকানকে নিয়েই যেন বেশি উচ্ছ্বসিত শোনাচ্ছিল মাশরাফির কণ্ঠ, ‘আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় সময়ই একটি কথা বলেছি। আমি সব সময়ই কোর্টনি ওয়ালশের ভক্ত ছিলাম। তিনিই আমার ক্রিকেট আইডল। জানার অনেক কিছুই আছে ওনার কাছ থেকে। সব মিলিয়ে আমি একটু বেশিই রোমাঞ্চিত। এ জন্যই যে তাঁর মতো একজন খেলোয়াড় ও ব্যক্তিত্বকে ড্রেসিংরুমে পাব। ’ তিনি একা নন, পাবে পুরো বাংলাদেশ দলই। তাঁর উপস্থিতির একটি বড় প্রভাব পড়বে বলেও আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘ওনার মতো একজন হাই প্রোফাইল ক্রিকেটারকে পাওয়াটা অবশ্যই অনেক বড় ব্যাপার। আমি আশা করছি আমাদের বোলিংয়ে ওনার ব্যাপক প্রভাবও পড়বে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। এখন পর্যন্ত আমি সর্বোচ্চটাই আশা করছি। আমি নিশ্চিত যে অন্য সবাইও তাই করছে। ’ 

বাংলাদেশের পেসাররা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য নিজেদের তৈরি করার শিক্ষাই ওয়ালশের কাছ থেকে পাবেন বলে বিশ্বাস মাশরাফির, ‘বিশ্বের গ্রেটেস্ট বোলার যাঁরা, তাঁদের মধ্যে ওয়ালশ একজন। আমার কাছে মনে হয় খেলাটির প্রতি বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ওনার আবেগ অনেক বেশি ছিল। ১৩২টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সংখ্যার দিক থেকে দেখলেও খুব বেশি লোক অতগুলো টেস্ট খেলেননি। আর পেস বোলার হিসেবে এতগুলো টেস্ট ফিট থেকে খেলা, বিরাট ব্যাপার। ওই আবেগ বা টেস্ট খেলার ক্ষুধা না থাকলে এত দিন খেলতে পারতেন না। আমাদের দেশের বোলাররা এসব শিখতে পারলে খুব ভালো হবে। ’ মূলত এটি শেখার দিকেই যেন বেশি জোর দিচ্ছেন ইনজুরি ও অস্ত্রোপচার জর্জর ক্যারিয়ারে টেস্ট খুব বেশি খেলতে না পারা মাশরাফি, ‘সার্বিকভাবে বলতে বললে বলব, তাঁর পুরো ক্যারিয়ার কিভাবে এত দীর্ঘ করেছেন, এই জিনিসগুলো আমি মনে করি শেখার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ’ শিখতে চান নিজেও, ‘আমি যে পারফেক্ট, তা তো নয়। আমারও বহু ভুল আছে। যেসব ভুল আছে, সেসব আমি অবশ্যই ওনার সঙ্গে শেয়ার করব। ওনার কোচিং সামর্থ্য দিয়ে উনিও নিশ্চয়ই চাইবেন যে আমার ভুলগুলো ঠিক করে দিতে। ’


মন্তব্য