kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিশোরীদের হাতেই দেশের ফুটবল পতাকা

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কিশোরীদের হাতেই দেশের ফুটবল পতাকা

কৃষ্ণা সরকার : ৫ গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশের ফুটবলে কী বৈপরীত্য। ছেলেরা গোলের জন্য মাথা কুটে মরছে অথচ কৃষ্ণা-আনুচিংদের পায়ে গোলের ছড়াছড়ি।

মালদ্বীপে গিয়েও সেইন্টফিট হাপিত্যেশ করছেন ভালো স্ট্রাইকার নেই বলে। আর দেশে গোলাম রব্বানী ছোটনের তৃপ্তি মহা গোল উৎসবে, ‘মাঝমাঠ থেকে শুরু করে ফরোয়ার্ড লাইন পর্যন্ত প্রায় সবাই গোল পেয়েছে। গোল করার ক্ষমতা আছে আমার মেয়েদের। ’

প্রথম তিন ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল দল করেছে ১৮ গোল। গোল খাওয়ার উপক্রম হয়নি একবারের জন্যও। এতটুকু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহমুদা। চতুর্থ ম্যাচে নাকি তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কালকের প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে হওয়ায় একটু গুমোট হাওয়া বইছে। খানিকটা শঙ্কাও মাথাচাড়া দিয়েছে মহিলা ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে। মজা হলো, এই ভয়ডর সব বাইরে, দলের ভেতর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গস্পর্শী বাতাবরণ! ‘হালকা ওয়ার্ম আপ করেছে আমার মেয়েরা। চাইনিজ তাইপে নিয়ে তাদের মধ্যে এতটুকু ভয় নেই। তাদের পারফরম্যান্সের যে ধারাবাহিকতা তাতে কোনো ম্যাচের আগে বাড়তি চাপ তারা অনুভব করে না’—নিজের দলের ওপর তীব্র বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কথায়। তবে এই কোচের হিসাবে স্বাগতিকদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও চাইনিজ তাইপে। একতরফা খেলে ইরানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ টানা তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। স্বপ্নের পথে এখন একমাত্র বাধা কেবল চাইনিজ তাইপে। বাংলাদেশের মতো তাদের সংগ্রহ সর্বোচ্চ ৯ পয়েন্ট, তবে +২ গোলগড়ে এগিয়ে তাইপে। তাই কালকের ম্যাচে তাদের হারানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে।

টিম ম্যানেজমেন্টও জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না। প্রতিপক্ষকে সম্মান দিয়েই বাংলাদেশ কোচ একটা গুরুত্বপূর্ণ তুলনা দাঁড় করিয়েছেন, ‘তাইপে ভালো খেলে, অনেকটা আমাদের মতোই খেলে। কিন্তু তারা এখনো পর্যন্ত কোনো কঠিন দলের মুখে পড়েনি, আমরা যেমন ইরানকে হারিয়েছি। তাই শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের কেমন পারফরম্যান্স হবে, সেটা এখনো অজানা। আমার মেয়েরা স্বাভাবিক খেলা খেললে এ ম্যাচ জিতবে। ’ টুর্নামেন্টের তিন দুর্বল দল আরব আমিরাত, কিরগিজস্তান ও সিঙ্গাপুরের জালে অনেক গোল করা তাইপে কাল শক্তিশালী বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে। এর পরের প্রতিপক্ষ ইরান। এই দুটি ম্যাচেই আসলে তাদের সামর্থ্য যাচাই হবে। স্বাগতিকদের সুবিধা মাঝমাঠ থেকে ফরোয়ার্ড লাইনে সানজিদা বাদে বাকি সবাই গোল পেয়েছে। অর্থাৎ গোলের টেনশন বিদায় নিয়েছে তাদের মাথা থেকে। প্রথম ম্যাচে গোলহীন থাকা মূল স্ট্রাইকার কৃষ্ণা সরকার পরের ম্যাচ থেকে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই অধিনায়ক করেছে সর্বোচ্চ ৫ গোল, এর মধ্যে বাঁপায়ের অসাধারণ এক গোল আছে কিরগিজস্তানের সঙ্গে। ৪ গোল করেছে আনুচিং। গোলের এমন উৎসব হয়েছে যে ডিফেন্ডারদেরও গোল আছে। সুতরাং গোল নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের। তারা জানে গোলের সুযোগ তৈরি হবে এবং গোলও হবে। ম্যাচটা বরং কৃষ্ণা-আনুচিংদের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়ে যেতে পারে। আগের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের সবাই নিজেদের পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে ডিফেন্স করে গেছে। এমন প্রতিরোধের মুখে লক্ষ্যে বল পাঠানো কঠিন। এর পরও অনেক সুযোগ নষ্ট করে তারা পেয়েছে ১৮ গোল। কাল চাইনিজ তাইপেও খেলবে জেতার জন্য, আক্রমণে উঠবে গোলের জন্য। তাতে করে ডিফেন্সের প্রতিরোধ অনেক কমে যাবে, আর এটাই হবে স্বাগতিক ফরোয়ার্ডদের জন্য গোলের ভালো সুযোগ।

এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে ঠেকানোর আর কেউ নেই। পরের ম্যাচে সবচেয়ে দুর্বল আরব আমিরাত, সুবাদে জয়ের গ্যারান্টি আছে। তার আগে কালকের ‘ফাইনাল’ জিততে হবে। স্বাগতিক কোচই ফাইনাল আখ্যা দিয়েছেন চাইনিজ তাইপের সঙ্গে ম্যাচকে। এটা জিতলেই কিশোরীদের হাতেই পত পত করে উড়বে দেশের ফুটবলের পতাকা।


মন্তব্য