kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেশে ফিরেই রেকর্ড বাকীর

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : শ্যুটিংয়ে অনেক ইভেন্ট থাকলেও কালের প্রবাহে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল হয়ে গেছে বাংলাদেশের শ্যুটিং। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে পদক জয়ের সুবাদে ইভেন্টটা এমন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে যেন ১০০ মিটার স্প্রিন্ট।

তাই হালের শ্যুটিংয়ের সব ফোকাস থাকে আবদুল্লাহ হেল বাকীর ওপর। প্রত্যাশা অনুযায়ী এই চ্যাম্পিয়ন শ্যুটার আলো ছড়িয়েই শেষ করেছেন জাতীয় শ্যুটিং। নতুন রেকর্ড করে কমনওয়েলথ গেমসের রুপাজয়ী শ্যুটার টানা পঞ্চমবারের মতো সোনা জিতেছেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। এবারের আসরে ১১ সোনা জিতে দলগত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্মি শ্যুটিং এসোসিয়েশন।

স্রেফ অভিজ্ঞতার জোরেই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রেখেছেন তিনি। রেকর্ড করেছেন কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে সর্বোচ্চ ৫৯৫ স্কোর করে। ফাইনালে কোনো কাজে আসে না এই রেকর্ড। সেখানে চ্যালেঞ্জার হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন মাহমুদুল হাসান। ১০ শটের লড়াইয়ে একসময় ১৬২ স্কোর করে এগিয়ে যান তিনি। তখন বাকী, শোভন ও অঞ্জন সিংহ তিনজনই একই সংগ্রহ (১৬১.৮ স্কোর) নিয়ে পিছিয়ে। এই তিনজনের মধ্যে টাইব্রেকারে অঞ্জন ছিটকে গেলে তিন পদকের লড়াইয়ে শামিল হন মাহমুদুল হাসান, বাকী ও শোভন। সোনার লড়াই জমে ওঠে বাকি ও মাহমুদুলের মধ্যে। শেষ শটের আগে দুজনের স্কোর ১৯২। শেষ শট যাঁর ভালো হবে তিনিই জিতবেন। মাহমুদুল মারলেন ৯.২ স্কোর আর বাকি খুঁজে পেলেন নিজের সেরাটা—১০.৫। অর্থাৎ ১.৩ পয়েন্টে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের মাহমুদুল হাসানকে পেছনে ফেলে নৌবাহিনীর আবদুল্লাহ হেল বাকী ২০২.৫ স্কোর করে সোনা জিতলেন টানা পঞ্চমবারের মতো। ২০১.২ স্কোর করে রুপা জিতেছেন মাহমুদুল হাসান।  

শেষ মুহূর্তের স্নায়ুচাপ উতরে সোনাজয়ী বাকীর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি কোনো সময়ই, ‘আমি যতই খারাপ করি, একটা সুযোগ পাবই, এটা আমি জানতাম। মানসিকভাবে আমি তৈরি ছিলাম সুযোগটির জন্য। একটা খারাপ হলে পরের শটটি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মারার চেষ্টা করি। তাই শেষ শট পর্যন্ত আশা ছিল, একটা সুযোগ আমি পাবই। আমার কাজ ছিল শেষটা খুব নিখুঁতভাবে করা। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে। ’ কোনো পদকই না জেতার মতো অবস্থা হয়েছিল তাঁর, টাইব্রেকারে ছিটকে গেলেই তো সব শেষ হয়ে যায়। সেখানে প্রথম উতরালেন, তারপর মাহমুদুল হাসানের কঠিন চ্যালেঞ্জ টপকে সেরার আসনটি ধরে রেখেছেন এই শ্যুটার। তাঁর জন্য এ সময়টা একটু কঠিনই ছিল। অলিম্পিক শেষ করে ফেরার পর কোনো অনুশীলন করতে পারেননি, ‘কম্পিটিশন যেদিন শুরু হয়েছে সেদিনই কেবল আমি ফিরেছি। তার ওপর নতুন রেঞ্জ। আমি যখন যাই তখন এর কাজ চলছিল। গতকাল কেবল অনুশীলন করেছি। আসলে ১০-১৫ দিন প্র্যাকটিসের বাইরে ছিলাম। ’

অর্থাৎ অলিম্পিকে যাওয়ার আগে যেটুকু প্র্যাকটিস হয়েছিল সেটাই মূল সম্বল। তাই দিয়ে ব্রাজিল ফেরতা শ্যুটার গড়েছেন নতুন জাতীয় রেকর্ড, ‘চ্যাম্পিয়নের চেয়েও বড় ব্যাপার হয়েছে নতুন রেকর্ড গড়া, এটাই সন্তুষ্টির জায়গা। আগের রেকর্ড ছিল ৫৯৫-এর, যেটা গতবার আমি ছুঁয়েছিলাম। আজ (কাল) ৫৯৬ করে নতুন রেকর্ড গড়েছি। ’ ২০০২ সালে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৫৯৫ স্কোরের রেকর্ড গড়েছিলেন ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী শ্যুটার আসিফ হোসেন খান। এই চ্যাম্পিয়নের রেকর্ড ভেঙে কাল নতুন রেকর্ড করেছেন গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের রুপাজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকী। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটন বদল হয় এভাবেই।


মন্তব্য