kalerkantho


রেকর্ডময় ম্যাচে পাকিস্তানের লজ্জা

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রেকর্ডময় ম্যাচে পাকিস্তানের লজ্জা

রেকর্ডময় ম্যাচটিতে ওলটপালট হয়েছে অনেক কীর্তি। নিজের মাঠে শুরুটা করেছিলেন অ্যালেক্স হেলস। তাঁর ১২২ বলে ২২ বাউন্ডারি ৪ ছক্কায় ১৭১ রানের ইনিংসটি ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ।

রীতিমতো রানের প্লাবন। ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ আমির, ইয়াসির শাহদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ট্রেন্টব্রিজে ইংল্যান্ড গড়ল ওয়ানডের সর্বোচ্চ ৪৪৪ রানের রেকর্ড। ওয়াহাব রিয়াজের ১০ ওভারে খরচ ১১০ রান, এটা ওয়ানডের দ্বিতীয় খরুচে বোলিংয়ের লজ্জা। মোহাম্মদ আমির (৭২), শোয়েব মালিকরাও (৩ ওভারে ৪৪) রান বিলিয়েছেন অকাতরে। এমনি এমনি তো ওয়াসিম আকরাম আক্ষেপ করে বলেননি, ‘আমাদের ওয়ানডে দলটা খেলছে নব্বইয়ের দশকের ক্রিকেট। ’

রানের স্রোতে ভেসে ৪২.৪ ওভারে ২৭৫-এ গুটিয়ে ১৬৯ রানে হারে পাকিস্তান। তাতে দুই ম্যাচ বাকি থাকতে ০-৩ ব্যবধানে হারে সিরিজও। এ নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে টানা ৪২ বছর ওয়ানডে সিরিজ জেতা হলো না পাকিস্তানের। সেখানে তারা সর্বশেষ জিতেছিল ১৯৭৪ সালে। সেটাই আবার পাকিস্তানের প্রথম ইংল্যান্ড সফর! এরপর খেলা ৯ ওয়ানডে সিরিজের ৮টিতে হার আর ড্র অন্যটিতে। এবারও লজ্জার সিরিজ হারের পর অধিনায়ক আজহার আলী মেনে নিলেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা, ‘আমরা টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক আর ওয়ানডের ৯ নম্বরে।

ওয়ানডেতে গত কয়েক বছর মোটেও ভালো খেলছি না। ট্রেন্টব্রিজে রান উৎসব ঠেকাতে উইকেটের দরকার ছিল, আমরা সেটাই নিতে পারিনি। ক্যাচ মিস করেছি কয়েকটা। ওয়াহাব দুটি উইকেট মিস করেছে নো বলের জন্য। ’

রেকর্ডময় ম্যাচটিতে ওলটপালট হয়েছে অনেক কীর্তি। নিজের মাঠে শুরুটা করেছিলেন অ্যালেক্স হেলস। তাঁর ১২২ বলে ২২ বাউন্ডারি ৪ ছক্কায় ১৭১ রানের ইনিংসটি ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ। ১৯৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রবিন স্মিথের অপরাজিত ১৬৭ ছিল এত দিনের সেরা। জো রুট টানা পঞ্চম পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস খেলে ৮৬ বলে ৮৫ রানে ফেরার পর ট্রেন্টব্রিজে ঝড় তুলেছিলেন জস বাটলার ও এউইন মরগান। বাটলার ৫১ বলে ৭ বাউন্ডারি ৭ ছক্কায় ৯০ এবং মরগান অপরাজিত ছিলেন ২৭ বলে ৩ বাউন্ডারি ৫ ছক্কায় ৫৭ রানে। বাটলারের ফিফটি আসে ২২ বলে, যা ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম। ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ওয়ানডের সর্বোচ্চ ৪৪৪ রানের ইতিহাস গড়ে থামে ইংল্যান্ড। ২০০৬ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৪৪৩ ছিল এত দিনের সেরা।

রান পাহাড়ে চাপা পড়া পাকিস্তান ৪২.৪ ওভারে গুটিয়ে যায় ২৭৫-এ। ওপেনার শারজিল খান ৩০ বলে ৫৮ আর ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আমির ২৮ বলে ৫ বাউন্ডারি ৪ ছক্কায় করেছিলেন ৫৮। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে এবারই প্রথম ফিফটির স্বাদ পেলেন কেউ। এর আগে ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই এই পজিশনে সর্বোচ্চ ৪৩ করেছিলেন পাকিস্তানের শোয়েব আখতার। লজ্জার ম্যাচে আমিরের রেকর্ডটাই যা সান্ত্বনা পাকিস্তানের। আছে আতঙ্কও। কেননা সিরিজ নিশ্চিতের পর তাদের হোয়াইটওয়াশের হুমকি দিয়েছেন এউইন মরগান, ‘দলের সবাই দারুণ খেলেছে। ছন্দটা ধরে রেখে জিততে চাই পরের দুটি ম্যাচ। ’ ক্রিকইনফো


মন্তব্য