kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ গোলের উৎসব

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১০ গোলের উৎসব

কিরগিজস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের গোল উৎসব। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাই ফুটবল প্রতিযোগিতায় ১০-০ গোলে জিতেছে মারজিয়া-কৃষ্ণারা।ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মহিলা ফুটবল বিপ্লবের এ পর্যায়ে বাংলাদেশ গোল উৎসব করেছে কিরগিজস্তানের জালে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার কিশোরীদের মাঠে যেমন দাপুটে উপস্থিতি সেটার প্রতিফলন স্কোরলাইনে হচ্ছিল না বলে আক্ষেপ ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের।

সেই আক্ষেপ মিটিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দল কৃষ্ণার হ্যাটট্রিকে ১০-০ গোলে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতেছে।

আগের দুই ম্যাচে গোলের মুখ দেখতে অনেকটা সময় নিয়েছিল তারা। কাল ২১ মিনিটে গোলের দেখা পায় আনুচিং মারমার কল্যাণে। এটাও কি দেরিতে পাওয়া! আসলে তার আগেই অন্তত ৩-৪ গোল হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করেও তারা লক্ষ্য ভেদ করতে পারেনি। যেমন ১১ মিনিটে আনুচিংয়ের শট এক কিরগিজ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোল বাঁচিয়েছে এমন নয়, কিরগিজ মেয়েরা সবাই ডিফেন্সে নেমে এমন মাছের বাজার তৈরি করেছে, তা অতিক্রম করে শট লক্ষ্যে পৌঁছানো বড় কঠিন। কারে না কারো গায়ে লাগছেই, তাই জটলা থেকেই হয়েছে প্রথম গোল। ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলে অবশ্য মারজিয়ার বাঁ পায়ের চমৎকার শটের কাছে পরাস্ত হয়েছেন কিরগিজ গোলরক্ষক। এই আদেলিনার বড় কঠিন দিন গেছে কাল, মারজিয়া-আনুচিং-কৃষ্ণাদের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে হয়েছে তাঁকে। অনেক ঠেকিয়েও তিনি চার গোল হজম করেছেন প্রথমার্ধে। পরের গোল দুটি করেছেন কৃষ্ণা ও আনুচিং মারমা।

বিরতির পর গোল নিয়ে আর কোনো আফসোস ছিল না কোচের। ম্যাচ শেষেও গোলাম রব্বানী ছোটন বলেছেন, ‘গত দুই ম্যাচে আমরা যেভাবে খেলেছি সেই অনুযায়ী গোল পাইনি। এই ম্যাচে আমাদের খেলার ধারা অনুযায়ী অনেক গোলই পেয়েছে দল। আরো হতে পারত, তবে যা হয়েছে কম নয়। এই বাচ্চাদের কাছে এর চেয়ে বেশি আশা করাটাও ঠিক নয়। ’ দ্বিতীয়ার্ধেও তারা একই গতিতে খেলা শুরু করে এবং ৪৮তম মিনিটেই ম্যাচের সেরা গোলটি করেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। ডানদিক থেকে অধিনায়কের বাঁ পায়ে বাঁক খাওয়ানো এক শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে গেছে কিরগিজস্তানের জালে। এমন গোল বাংলাদেশ পুরুষ দলের কারো পায়েও সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। এটা তাঁর দ্বিতীয় গোল, ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বাঁ পায়ের আরেকটি দুর্দান্ত শটে। এর মাঝে ৭৫ মিনিটে নার্গিস প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের ফ্রি-কিকে লক্ষ্য ভেদ করেছেন। এভাবেই ১০ গোলের জয়-কাহিনী রচিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। কোচ ছোটনের তৃপ্তি, ‘আজকের ম্যাচে মেয়েরা কৌশলমতো খেলতে পেরেছে। গোল বেশি করার যে টার্গেট সেটা পূরণ হয়েছে। ’ কৃষ্ণার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি জোড়া গোল করেছে শামসুন্নাহার ও আনুচিং মরামা। এ ছাড়া নার্গিস, মার্জিয়া ও মারিয়া মান্ডা করেছেন একটি গোল করে। গোলের আফসোস অনেকের কেটে গেলেও আগের ম্যাচ শেষে কান্নাকাটি করা সানজিদা কালও দেখেননি গোলের মুখ। বাজে খেলার কারণে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ এত গোল করলেও এখনো চাইনিজ তাইপের চেয়ে ২ গোলে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। লড়াইয়ে এখন আর গতবারের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইরান নেই, স্বাগতিকদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চাইনিজ তাইপে। তাদের মতো বাংলাদেশও ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে, তবে গোলে পিছিয়ে। কাল প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৯-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় চাইনিজ তাইপে। দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে ইরান।

বাংলাদেশ দল : শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, সানজিদা (তহুরা) মৌসুমী, আনুচিং, মার্জিয়া, কৃষ্ণা সরকার, মারিয়া, আনাই, মাহমুদা।


মন্তব্য