kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

এমনই দুর্ভাগা যে বড় স্বপ্ন দেখারও উপায় নেই

জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ত্রিমুকুট জিতেছেন শাপলা আক্তার। এ নিয়ে চারবার ত্রিমুকুট জেতা হলো তাঁর। এবারের সাফল্যের পর নারায়ণগঞ্জের হয়ে খেলা এই ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দেশের ব্যাডমিন্টনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



এমনই দুর্ভাগা যে বড় স্বপ্ন দেখারও উপায় নেই

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : অভিনন্দন আপনাকে। আবারও জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রেবল জিতলেন।

শাপলা আক্তার : গতবার এলিনার কাছে হেরেছিলাম আমি। এবার তাকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ভালো লাগার ব্যাপার হলো, সে-ও আমার মতো নারায়ণগঞ্জের হয়ে খেলেছে। তার সঙ্গেই আমি দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমি খেলা শুরু করি ২০০৩ সাল থেকে জুনিয়রে। ২০০৬ সাল থেকে সিনিয়র ন্যাশনাল খেলা শুরু করলেও পরের বছর এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, সেই থেকে পাঁচবার এককের শিরোপা আমার। আর ত্রিমুকুট জিতেছি চারবার। পাবনার মেয়ে হলেও আমি নারায়ণগঞ্জের হয়ে খেলেছি।

প্রশ্ন : পাবনায় প্র্যাকটিসের সুযোগ-সুবিধা কি আছে?

শাপলা : আছে, তবে ঢাকার মতো তো নয়।

আমি চাকরি করি নিট কনসার্নে, খেলার সুবাদেই এই চাকরি। ওখানে ব্যাডমিন্টন খেলার ইনডোর আছে, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে। আমরা অনেকেই ওখানে প্র্যাকটিস করি।

প্রশ্ন : এই সাফল্যের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

শাপলা : প্রথমে নিজের পরিশ্রম। তারপর রাজু ভাই, পাবনার খুরশীদ ভাই ও চপল আঙ্কেলের অবদান আছে।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে আপনি আর এলিনা মিলে ডাবলসে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এর চেয়ে বেশি দূর যাওয়া কি সম্ভব নয়?

শাপলা : আমরা আসলে এমন দুর্ভাগা যে এর চেয়ে বেশি সাফল্যের স্বপ্ন দেখার উপায় নেই। পাশের দেশ ভারতের মেয়েরা দুর্দান্ত খেলে। সাইনা নেহওয়াল টপ ক্লাস ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, তার পথ ধরে অনেক নতুন নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে। ভারতে ব্যাডমিন্টনের কত টুর্নামেন্ট হয়, তা ছাড়া প্রতিবছর বিদেশে অনেক টুর্নামেন্ট খেলে তারা। তাই তারা আজ অলিম্পিকে পদকের স্বপ্ন দেখে। সেখানে আমরা বছরে একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলারও সুযোগ পাই না।

প্রশ্ন : আপনাদের খেলা বলতে তো এসএ গেমস ও বাংলাদেশ ওপেন।

শাপলা : এসএ গেমসের যে অবস্থা, তা কখন হয় তার কোনো ঠিক থাকে না। বাংলাদেশ ওপেনটা হয়। যেমন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপই দেখেন ২০১৪ সালের পর এবার হয়েছে। এর মাঝে কিন্তু কোনো টুর্নামেন্ট হয়নি। আর খেলা না থাকা মানে লক্ষ্যহীন। প্র্যাকটিসেও থাকি না আমরা। যেমন ঢাকা এসএ গেমসের আগে আমরা ১০ মাস প্র্যাকটিসে ছিলাম এবার মাত্র ছয় মাস প্র্যাকটিস করেছি। আসলে ফেডারেশনের তরফ থেকেও কিছু নেই খেলোয়াড়দের জন্য, যদি ১০ নম্বর র্যাংকিং পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জন্য কোনো প্রেরণা থাকত।

 


মন্তব্য