kalerkantho


ট্রফি কার?

চ্যাম্পিয়নদের থামাতে চ্যাম্পিয়ন নাচ!

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



চ্যাম্পিয়নদের থামাতে চ্যাম্পিয়ন নাচ!

টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন একটা দলের সামনে প্রথমবার ফাইনালে ওঠা দল। নিরস অঙ্কের বিচারে ম্যাচটা একপেশেই হওয়ার কথা। কিন্তু হচ্ছে না প্রথমবার ফাইনালে ওঠা দলটার নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলে। ২০১৬ সালে এটা আইসিসি আয়োজিত দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট, প্রথমটা ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশে সেই যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে গেছে ক্যারিবীয় কিশোররা, পুরুষ ও মহিলাদের দুটি দলই উঠেছে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনালে। ক্যারিবীয়দের বৃহস্পতি এমনই তুঙ্গে যে, তাদের কাছে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দলকেও মনে হচ্ছে ম্লান!

আইপিএল যেমন উপমহাদেশের বাইরের খেলোয়াড়দের ভারতের মাটিতে খেলার ধাঁধার সমাধান খুঁজতে কাজে দিয়েছে, মেয়েদের ক্রিকেটে সেই ভূমিকাটা হতে পারে ডাব্লিউবিবিএলের। অস্ট্রেলিয়ায় গত বছরের শেষ আর চলতি বছরের শুরুর সময়টা হয়ে গেছে মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ বা ডাব্লিউবিবিএল। সেখানে মেগ ল্যানিং, এলিস পেরি, অ্যালিসা হিলিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন স্টেফানি টেইলর, দিয়ান্দ্রা ডটিনরা। তাই ফাইনালে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে প্রাথমিক যে ভয়টা পাওয়ার কথা, সেটা কেটে গেছে নিশ্চিত। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দলের বিপক্ষে সমালোচকদের অস্ত্র, অধিনায়ক মেগ ল্যানিংয়ের ওপর অতি নির্ভরশীলতা! দলের সহ-অধিনায়ক অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল একদমই মানতে চাইছেন না কথাটা, ‘আমরা একজন খেলোয়াড়ের ওর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, এই কথাটার সঙ্গে আমি একেবারেই দ্বিমত পোষণ করছি। অ্যালিসা হিলির মতো একজন খেলোয়াড়ের অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই, ছোট ছোট অবদান মিলেই বড় হয়ে যায়। আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। সাম্প্রতিক সময়ে তো এলিস পেরির ব্যাটিং খুবই ভালো হচ্ছে। ’ স্পিনবান্ধব ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার বাজির তাস হয়ে উঠতে পারেন লেগস্পিনার কারস্টেন বিমস ও বাঁহাতি স্পিনার জেস জোনাসেনও। অভিজ্ঞতা, ফাইনালের চাপ নেওয়ার সামর্থ্য ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে অস্ট্রেলিয়া তাই আরেকটি বিশ্ব টি-টোয়েন্টির শিরোপার স্বপ্ন দেখতেই পারে।

সেই স্বপ্নে অবশ্য জল ঢেলে দিতে তৈরি ক্যারিবিয়ানের মেয়েরাও। একই দিনে দ্বীপপুঞ্জের দুটি দল জিতেছে সেমিফাইনাল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে থেকে কলকাতার ইডেন, এবারও একই দিনে ফাইনালে নামবে ক্যারিবিয়ানের দুটি দলই। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছেলেদের মাঠে নামার আগে তাতিয়ে দিতে মরিয়া স্টেফানি টেইলর-দিয়ান্দ া ডটিনরা। সংবাদ সম্মেলনে স্টেফানি টেইলর তো বলেই দিলেন, ‘আমরা একদমই ভয় পাচ্ছি না। তারা তিনবারের জয়ী, আমাদের হারাবার কিছুই নেই। আমরা মাঠে নামব এবং ইতিবাচক থাকব। আমরা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিততে চাই। ’

অস্ট্রেলিয়ানদের নির্ভীক মানসিকতা আর পেশাদারিত্বের সুনামও করলেন টেইলর। সেই সঙ্গে বলে দিলেন, ‘বিগ ব্যাশ খেলে তাদের কাছ থেকে শেখা সেই ব্যাপারগুলো আয়ত্তে নিয়েই তাদের হারাতে চাই। ’ তারপর? স্বপ্ন ছুঁতে পারলে ডিজে ব্রাভোর চ্যাম্পিয়ন গানের সঙ্গে তাল মেলাতে চান সবাই মিলেই! পিটিআই


মন্তব্য