kalerkantho


শেষ যুদ্ধ

আজও তোপ দাগবে ক্যারিবীয়রা!

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আজও তোপ দাগবে ক্যারিবীয়রা!

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কা এসেছে কোন দেশের ক্রিকেটারদের ব্যাট থেকে? পরিসংখ্যানে পোকা আপনাকে হতে হবে না। চোখ-কান সামান্য খোলা রাখলেই উত্তরটা জানার কথা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

টুর্নামেন্টে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে ক্যারিবিয়ানরা। এর মধ্যে আবার ইনজুরির কারণে দুটিতে ব্যাটিং করেননি ক্রিস গেইল। তবু ৩৬ বার বলকে শূন্যে ভাসিয়ে সীমানাছাড়া করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। ওই দানবীয় ব্যাটিংই তো তাদের ফাইনালে তোলার মূল চালিকাশক্তি। দৌড়ে রান নেওয়ার অদক্ষতা কিংবা বোলিং-ফিল্ডিংয়ের অক্ষমতা ঢেকে দিচ্ছে এই বাউন্ডারি মারার ক্ষমতা। ৩৬টি ছক্কার পাশাপাশি ৬১টি চার মেরেছেন ক্যারিবিয়ানরা। আর এই চার-ছক্কার বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে একের পর এক প্রতিপক্ষ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ফাইনালেও তাই নিজেদের সেই দানবীয় সামর্থ্যে আস্থা অধিনায়ক ড্যারেন সামির।

‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালু হওয়ার পর থেকেই তো সবাই দেখছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সব সময় বাউন্ডারি-হিটিং দল।

সে কারণে এবারের এত এত বাউন্ডারি আমাকে মোটেই অবাক করেনি। ড্রেসিংরুমে কী পরিমাণ শক্তি আমাদের রয়েছে, সেটি আমরা জানি’—ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেন সামি। এরপর যোগ করেন, ‘লোকে হয়তো বলবে, আমরা খুব ভালো স্ট্রাইক রোটেট করতে পারি না। কিন্তু আমরা তো জানি যে, আমরা বাউন্ডারি-হিটিং দল। প্রতিপক্ষকে আগে তাই আমাদের বাউন্ডারি মারা থামাতে হবে। আমরা যখন নিজেদের মতো খেলতে শুরু করি, তখন সেই কাজটি খুব কঠিন। ভারতের বিপক্ষেই যেমন সিমন্স, রাসেল, চার্লসদের তাই অমন বাউন্ডারি-হিটিং ব্যাটিং দেখাটা ছিল দারুণ ব্যাপার। ’ খেয়াল করে দেখুন, কয়েকটি বাক্যে কত কতবার ‘হিটিং’, ‘বাউন্ডারি’ শব্দগুলো ব্যবহার করছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। সামর্থ্যের ওপর অগাধ আস্থা না থাকলে কি আর তেমনটা সম্ভব!

এই দানবীয় ব্যাটিংয়ের অগ্রপথিক নিঃসন্দেহে ক্রিস গেইল। তাঁকে সঙ্গত দেওয়ার জন্য রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, জনসন চার্লস, লেন্ডল সিমন্স। ড্যারেন সামি, ড্যারেন ব্রাভোরাও কম কিসে! অধিনায়কের আত্মবিশ্বাসী না হওয়ার তাই কোনো কারণ নেই। তবে অতি আত্মবিশ্বাসী না হওয়ার সতর্কতাও সামির কণ্ঠে, ‘‘ডোয়াইন ব্রাভো একদিন যেমন বলছিল, ‘একমাত্র যে জিনিস আমাদের হারাতে পারে, সেটি হলো আমরা নিজেরা। ’ আমরা সবাই কিন্তু সেটি বিশ্বাস করি। আমরাই কেবল হারাতে পারি আমাদের। নিজেরা যা করতে পারি, সেটি করলে আমাদের কেউ হারাতে পারবে না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই মানসিকতা নিয়েই আমরা মাঠে নামব। ’’

টুর্নামেন্টের আগে বোর্ডের সঙ্গে পারিশ্রমিক নিয়ে পুরনো ঝামেলায় নতুন করে জড়ান ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। এটি তাঁদের আরো ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে অধিনায়কের দাবি, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেক কিছু হয়েছে। তবে আমি সব সময় বিশ্বাস করি, সব কিছু হওয়ার পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের ঝামেলা দল হিসেবে আমাদের আরো কাছাকাছি এনেছে। সবার মনে হচ্ছে, আমাদের লড়াইটা যেন অন্য সবার সঙ্গে। ’ অন্য সবার সঙ্গে লড়াইয়ের শেষ ধাপে আজকের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তাদের সমীহ করলেও সামির মূল মনোযোগ সেই নিজেতেই; নিজের সামর্থ্যেই, ‘ইংল্যান্ডের অনেক ম্যাচ উইনার রয়েছে সে দলে। ওদের সহজে হারাতে পারব, অমন মোটেই ভাবছি না। তবে আমরা বেশি মনোযোগ দিতে চাই নিজেদের ওপর। এটি হতে যাচ্ছে দক্ষতার সঙ্গে দক্ষতার লড়াই। মনুষ্যশক্তির সঙ্গে মনুষ্যশক্তির যুদ্ধ। ’

এখানেই তো অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ডের মনুষ্যশক্তির বিপরীতে তারা যে নামবে দানবীয় শক্তিতে ভর করে! গেইল, রাসেল, সিমন্স, চার্লসদের বুনো ব্যাটিংয়ের ভরসায়। ক্রিকইনফো, সুপারস্পোর্ট

 


মন্তব্য