kalerkantho


ফাইনালেও মিলবে ‘রোমাঞ্চকর’ ইংল্যান্ডকে

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ফাইনালেও মিলবে ‘রোমাঞ্চকর’ ইংল্যান্ডকে

বার্মি আর্মি নামে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের একটা সমর্থক গোষ্ঠী আছে বটে, তবে তাদের বেশির ভাগ তত্পরতা কেবল অ্যাশেজকে ঘিরেই। আগামী বছরের নভেম্বরে ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফরে কে কে যেতে চান, তার নাম নিবন্ধন শুরু হয়ে গেছে এবং সেখানে আগ্রহী লোকের সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়।

বিশ্ব টি-টোয়েন্টি খেলতে ইংল্যান্ড দলের ভারতে আসা নিয়ে এমন আগ্রহ ছিল না সমর্থকদের, তবে এখন নিশ্চিতভাবেই সেটা বাড়বে। কারণ ইংল্যান্ড যে ফাইনাল খেলছে! ৭৮ রানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জেসন রয়ও মনে করছেন, এই সাফল্য ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সমর্থক আরো বাড়াবে।

ইংল্যান্ড দলে কার্যকর অনেক ক্রিকেটারই থাকলেও অনেক দিন ধরেই অনুপস্থিতি ছিল রোমাঞ্চকর কোনো খেলোয়াড়ের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে ধরনের খেলোয়াড়ের মাঠে উপস্থিতিটাই দর্শকদের তাতিয়ে দেবে। জেসন রয় যেন ঘুচিয়েছেন সেই আক্ষেপটাই। কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ইনিংসটা খেলার পর টুইটারে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক, নামি পত্রিকাগুলোতেও তাঁর প্রশস্তিগাথা। তাই তো টুইটারে লিখেছেন, ‘সবার ভালোবাসা আর সমর্থন পেয়ে অভিভূত। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্য বড় একটা অর্জন আর নিজেরও দারুণ একটা সময় কাটছে। আসুক রবিবার, আমরাও দেখিয়ে দেব! কলকাতা আমরা আসছি!’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন বিশ্ব টি-টোয়েন্টির শিরোপার ছবিটাও।

মনোভাবটা স্পষ্ট, কাপ জিতেই হিথ্রোর ফ্লাইটে উঠতে চান রয় ও তাঁর সতীর্থরা। ছয় মেরে খেলাটা শেষ করে ইংল্যান্ডে ফাইনালে তোলা জস বাটলারও টুইটারে লিখেছেন ‘স্বপ্ন দেখার সাহস’।

বিশ্ব টি-টোয়েন্টি শুরুর আগে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজি ধরেছিলেন কম লোকই। বেশির ভাগের কল্পনাকেই ভুল প্রমাণ করে রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলে বাস্তবে ফাইনাল খেলছে ইংল্যান্ডই, সেই সব সমালোচকদের একহাত নিলেন রয়, ‘কিছু লোকের কাছ থেকে আমরা অনেক নেতিবাচক মন্তব্য শুনেছি। এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে যখন এসেই পড়েছি, তখন আশা করছি আমাদের পাশে দাঁড়াবার মতো কাউকে এবার পাব। ’ সেমিফাইনাল শেষে নিজের ব্যাটিং দর্শন সম্পর্কে রয় জানালেন, ‘বলটা দেখা এবং আমার জায়গামতো পড়লে মেরে দেওয়া। ’ কথাটা কি বীরেন্দর শেবাগকে মনে করিয়ে দেয় না! অবশ্য যে শহরে বসে কথাগুলো বলা, সেটা তো শেবাগেরই শহর। দিল্লির ধারের নজফগড় থেকেই না এসেছিলেন বলকে স্রেফ পেটানোর বস্তু মনে করা এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান।

আইপিএলে খেলা হয়নি জেসন রয়ের, প্রায় লাখখানেক দর্শকের সামনে ইডেনে খেলতে কেমন লাগে সেটা জানা নেই। বিশ্বমঞ্চে ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। এই সব কিছুকেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতেই বললেন, ‘কলকাতায় খেলাটা হবে একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলব, যেটা গত ১২ মাস ধরে করে আসছি। ছেলেরা সবাই ফাইনাল নিয়ে খুব শান্তই আছে। আমরা অনুশীলনে যা করি, মাঠেও তাই করার চেষ্টা করব। আমরা বড় বড় কথা বলা দল নই, খেলোয়াড়দের যা ঠিক মনে হবে তাই করা হবে। ’

তবে পাদটিকার মতো ফাইনাল নিয়ে একটা বিশেষণই জুড়ে দিয়েছেন রয়। ইংরেজি শব্দগুচ্ছটা হচ্ছে ‘অল গানস ব্লেজিং’, যার বাংলা মানে দাঁড়ায় সবগুলো বন্দুকই ঝলসে উঠবে, অর্থাৎ ইংল্যান্ড ঝাঁপাবে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে। তাদের সামর্থ্য যে কতখানি, সেটা টের পেয়েছে প্রোটিয়ারা। দেখা যাক, রবিবারের ফাইনালে তাদের সেই সামর্থ্যের কতখানি দেখা যায়! টুইটার, ক্রিকবাজ


মন্তব্য