kalerkantho


অস্থির ফুটবলের নতুন শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



অস্থির ফুটবলের নতুন শুরু

পালটে গেছে বাফুফের সুহৃদ। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে আড়ি দিয়ে তারা নতুন বন্ধুত্ব পাতাতে গিয়েই ফুটবলের পুরো পরিবেশটাই অস্থির হয়ে গেছে। মাঠের সাফল্যহীন ফুটবলও তাই ব্যাপক শোরগোল তুলছে। আর এই অস্থিরতার মধ্যেই আজ স্বাধীনতা কাপ দিয়ে শুরু হচ্ছে ফুটবলের নতুন মৌসুম।

এটি বাফুফের অনিয়মিত টুর্নামেন্ট। গত বছর বাফুফের সূচিতে থাকলেও সময় এবং সাধ্যে কুলিয়ে উঠতে পারেনি বলে হয়নি। এবার হচ্ছে এবং স্বাধীনতার মাসেই স্বাধীনতা কাপ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুযায়ী সূচি ঘোষণা করেও অস্থির ফুটবল সময়ের পাঁকে পড়ে এখন হাঁসফাঁস করছে স্বাধীনতা কাপ। দল সংখ্যা কত দাঁড়াচ্ছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না বাফুফে। প্রথমে ১০ দলের অংশগ্রহণের একটা সূচি ঘোষণা করলেও বাফুফের পড়শি আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের দাবির মুখে বেড়ে হয়েছে ১১ দল। এটাও যে চূড়ান্ত তা বলা যাবে না, হুংকার ছাড়ছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবও। গত লিগের চ্যাম্পিয়ন দলটির সভাপতি মনজুর কাদের কাল সংবাদ সম্মেলন করে এ টুর্নামেন্ট খেলার আগ্রহ এবং আট ফুটবলারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ‘আমরা স্বাধীনতা কাপসহ মৌসুমের সবকটি আয়োজনে অংশ নিতে চাই। বাফুফের কী ইচ্ছা আমরা জানি না। কিন্তু তাদের প্রতি আহ্বান তারা যেন আদালতের নির্দেশনা মেনে আট ফুটবলারকে শেখ জামালে খেলার সুযোগ দেয়। ’

শেখ জামালই ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পুরনো বন্ধু। গত সেপ্টেম্বর থেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অবনতি এবং সর্বশেষ আট ফুটবলারের দলবদল ইস্যুতে ফেডারেশনকে আদালতে নিয়ে তুলেছে শেখ জামাল। এই ফুটবলাররা দলবদলে অন্যান্য ক্লাবে নাম লেখালেও দাবি ছাড়ছে না চ্যাম্পিয়ন দল। তাদের পক্ষে চেম্বার জজ আদালত নির্দেশনা দিলেও বাফুফে তা চ্যালেঞ্জ করেছে। আদালতে আট ফুটবলারের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী কোনো মন্তব্য না করেই শেখ জামালের খেলার রাস্তা খোলা রেখেছেন, ‘আমরা বসেছি খেলা চালানোর জন্য। অংশগ্রহণ যত বাড়বে ফুটবলের জন্য ততই মঙ্গল। শেখ জামাল যদি খেলতে চায় আমরা অবশ্যই ইতিবাচক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তারা যদি শর্ত দিয়ে খেলার কথা বলে আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। কারণ আট ফুটবলারের ইস্যুটা আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। ’ অর্থাৎ টুর্নামেন্ট আজ শুরু হয়ে গেলেও নতুন দলের এন্ট্রির সুযোগ আছে। বিকেল সাড়ে চারটায় বিজেএমসি-রহমতগঞ্জ ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবং পরের ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন-উত্তর বারিধারা খেলবে।

একটা মৌসুম শেষ হওয়ার তিন-চার মাস পরেই সাধারণত শুরু হয় নতুন মৌসুম। সেটা এবার পিছিয়ে গেছে সাত মাস। সত্যি বললে, বাফুফের মৌসুম শুরু এবং শেষ নিয়ে সেরকম আন্তরিকতা নেই। অন্যান্য দেশে যেমন মৌসুম শুরু-শেষের ব্যাপারগুলো আগেই ঘোষিত থাকে, এ দেশে তা হয় না। হওয়াটাও কঠিন, বেশির ভাগ সময় নানা অজুহাতে ক্লাবগুলোই খেলতে চায় না। ক্লাব প্রতিনিধিরা পেশাদার লিগ কমিটির সদস্য বলে তাঁদের কথাই মানতে হয়। যেমন ক্লাবগুলোর দাবির মুখে প্রতিবার দলবদল পেছানো কিংবা সময় বাড়ানো নিত্য ঘটনা। এবারের দলবদলে বড় ঘটনা হলো, ‘ছোট’ চট্টগ্রাম আবাহনী বড় হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ফিরেছে আবার মহীরুহ হয়ে, ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। ২০১১ সালের পর ট্রফিহীন ঢাকা আবাহনীও তেড়েফুঁড়ে উঠেছে সাফল্যের জন্য। এ জন্য সব দলই ভালো বিদেশি ফুটবলার এনেছে। মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্টেই তাদের শক্তির একটা পরীক্ষা হবে।


মন্তব্য