kalerkantho


ক্লাব স্বার্থে আবার বলি ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ক্লাব স্বার্থে আবার বলি ক্রিকেটাররা

প্রত্যেক মৌসুমেই ঢাকার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা অনুদান পেয়ে থাকে। এবার সেই অঙ্কটি বাড়ছে।

গতকাল গুলশানের এক রেস্তোরাঁয় ওয়ার্কিং কমিটির সভাশেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস তা কেমন এবং কেন বাড়ছে, জানাতে গিয়ে বলছিলেন, ‘অনুদানের অঙ্কটা শতকরা ২৫ ভাগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাড়ানোর কারণ বৃষ্টির মৌসুমে লিগ হচ্ছে বলে এবার ক্লাবগুলোর খরচও তো বেড়ে যাচ্ছে অনেক। ’

বাড়তি খরচ নির্বাহের জন্য ক্লাবগুলোর বড় অঙ্কের ‘বৈশাখী বোনাস’ প্রাপ্তিও নিশ্চিত হয়েছে এনায়েত হোসেন সিরাজের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। ঠিক হয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে প্রস্তাবিত প্রিমিয়ার লিগের খেলা বৃষ্টির মৌসুমে বলে প্রতিটা ম্যাচের জন্যই এবার ‘রিজার্ভ ডে’ থাকবে। কিন্তু তাহলে যে আবার অনুশীলন শিবিরে রেখে ক্রিকেটারদের খাওয়ানোর খরচ বেড়ে যায় ক্লাবগুলোর! সেজন্য তারা এবার ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মেরে রাখতেও বিলম্ব করেনি! বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম আসরের লভ্যাংশ থেকে অর্থের দাবি যখন আগেও পূরণ করা হয়েছে, তখন আবার নয় কেন! এবারও তারা সবশেষ বিপিএলের লভ্যাংশ থেকে একই হারে টাকা চেয়ে রেখেছে। অঙ্কটা সুপার লিগের ছয়টি দলের জন্য ৩৫ লাখ হলেও অন্যান্য দলগুলোর ২৫ লাখ টাকা। এই অঙ্কই দেওয়া হবে কি না, তা চূড়ান্ত না হলেও এ সিদ্ধান্ত ঠিকই হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করলেন জালাল, ‘তৃতীয় বিপিএলে তো আয়ও কমে এসেছে বিসিবির। কাজেই সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই ক্লাবগুলো কত করে পাবে, তা একটু ভেবেচিন্তেই ঠিক করা হবে।

তবে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যে বিপিএলের লভ্যাংশ থেকে টাকা দেওয়া হবে ক্লাবগুলোকে। ’ 

কিন্তু কালকের সভায় ক্লাব স্বার্থরক্ষায় যতটা মনোযোগী ছিলেন বিসিবি কর্মকর্তারা, ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কিছুতেই তা নন। হলে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ নামের লটারিভিত্তিক দলবদল পদ্ধতির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের অঙ্কে লাগাম পরানোর পরও কাল আরেক দফা কমিয়ে দিত না! আইকন ও ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকে অবশ্য হাত দেওয়া হয়নি, ৩০ এবং ২৫ লাখই আছে। ঠিক আছে ‘ই’ ক্যাটাগরির সাড়ে ৩ লাখ টাকাও। কিন্তু ‘এ’ ২২ লাখ থেকে ২০, ‘বি প্লাস’ ১৮ লাখ থেকে ১৫, ‘বি’ ১৫ লাখ থেকে ১২, ‘সি’ ১০ লাখ থেকে ৮ এবং ‘ডি’ ৬ লাখ থেকে ৫ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। এই কমানোর কারণ ব্যাখ্যায় জালাল বললেন, ‘কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ এবার তো ক্লাবগুলোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সিসিডিএম আমাদের কাছে এরকম প্রস্তাবই রেখেছিল। ’

সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ) হয়ে ক্লাবগুলোর দাবি নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় যাঁরা বসেছিলেন, তাঁরা নিজেরাও অবশ্য কোনো না কোনো ক্লাবেরই প্রতিনিধি। তাই তাঁদের কাছে ক্রিকেটারদের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। নানাভাবে ক্লাবের অনুদান বাড়িয়েও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কমানোটা কোন ‘নীতি’র মধ্যে পড়ে, এ প্রশ্ন তবু থাকছেই। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ঠিক হয়েছে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ নামের দলবদল হবে আগামী ১০ এপ্রিল। এবার কিছু নতুনত্বও থাকছে বলে জানিয়েছেন জালাল, ‘প্রতিটা দল তাদের আগের মৌসুমের খেলোয়াড় তালিকা থেকে দুজনকে রেখে দিতে পারবে। ওই দুজনের নাম আগেই জানিয়ে দিলে লটারিতে আর ওদের নাম তোলা হবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়া হবে ওদের। ’ প্রথম বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আসা দুই দলের তো সে উপায় নেই। তাই ব্যবস্থা আছে তাঁদের জন্যও, ‘লটারিতে প্রথম খেলোয়াড় ডাকার সুযোগ পাবে তারা। ’ দেশীয় ক্রিকেটারদের কথা ভেবে বিদেশি কমানোর একটি সিদ্ধান্তের কথাও বললেন জালাল, ‘‘আগের প্লেয়ার্স বাই চয়েসে তিনজন বিদেশি খেলানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার প্রত্যেক ম্যাচে একজন বিদেশিই খেলানো যাবে। এতে করে বিদেশি কমে যাওয়ায় আমাদের দেশি খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ কিন্তু বাড়ছে। ’

আর যে আসরের লভ্যাংশের দিকে বরাবরই চোখ ক্লাবগুলোর, সেই বিপিএলের চতুর্থ আসর আগামী নভেম্বরেই করার সিদ্ধান্তও কাল পাকা করেছে ওয়ার্কিং কমিটি।


মন্তব্য